• ই-পেপার

দালালমুক্ত দুর্গাপুর ভূমি অফিস, বেড়েছে সেবার মান

ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
শামীম হোসেন

টেক জায়ান্ট ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এালাকার আগানগরে অবস্থিত কম্পানির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘হীরা ইলেক্ট্রনিক্স’-এর মালিক শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের কাজই হলো আদালতের পরোয়ানার তামিল করা। যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হবে তাকে আমরা দ্রুত খুঁজে আইনের কাছে সোপর্দ করব।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালটনের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শামীম হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কম্পানির আইন বিভাগের অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর মো. ফিরোজ খান বাদি হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৬ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৯ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহাফুজুর রহমান আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরোয়ানা জারির দিন শামীম আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু চতুর শামীম আগে থেকে আঁচ করতে পেরে আদালত পাড়া থেকে শটকে পড়েন। 

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, মো. শামীম হোসেন (৪০), জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৮৬১১৪৫১৮৮৭১৯৮, বাবা মো. শুকুর খন্দকার, ১নং আসামি এবং তার স্ত্রী সানজিদা বিনতে কামাল (৩০), জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৭৩০১৮৮৭৬৫৪, ২নং আসামি।

মামলার বাদী এজাহারে অভিযোগ করেন, শামীম আগানগর কেরানীগঞ্জে ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এক্সক্লুসিভ ডিলার হিসেবে মনোনীত হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ গত ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট এক্সক্লুসিভ ডিলার হিসেবে আগানগর, কেরানীগঞ্জের জন্য মনোনীত করেন। উক্ত আসামি তার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘হীরা ইলেকট্রনিক্স’-এর নামে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন।

পরবর্তীতে শামীম তার স্ত্রী ও মামলার ২ নম্বর আসামিকে জামিনদার হিসেবে মনোনীত করেন ও তার অবর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষমতা দেন। আসামিরা ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে নগদে ও বাকিতে লেনদেন করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের বিশ্বস্ততা অর্জন করে। আরো বাকিতে পণ্য চাইতে থাকে এবং আশ্বাস দেয় যে, শিগগিরই বাকিতে দেওয়া পণ্যের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

পরবর্তীতে প্রতারণামূলক এবং অসাধুভাবে কম্পানির পণ্য ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণে ওয়ালটন পণ্য বাকিতে ক্রয় করে কম পরিমাণে টাকা পরিশোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিদের কাছে পাওনা পর্যায়ক্রমে অধিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট হইতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামিদের বরাবর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে মোট ৯ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮.৮৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

জানা গেছে, কম্পানির বকেয়া পাওনা আত্মসাৎ করতে আসামি নানান টালবাহানা শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে কম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কম্পানি পরিবেশক শামীমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যার প্রেক্ষিতে আদালত শামীমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার যুবক

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার যুবক

নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ মো. আনন্দ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর থানার হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তারের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. আনন্দ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় থাকেন।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আনন্দ দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১-এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

বাড়ির সিঁড়িতে নবজাতক রেখে গেল কারা, খুঁজছে পুলিশ

দত্তক নিতে আগ্রহীদের ভিড়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বাড়ির সিঁড়িতে নবজাতক রেখে গেল কারা, খুঁজছে পুলিশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি বাড়ির সিঁড়িতে নবজাতক ছেলে শিশু পাওয়া গেছে। শিশুটির বয়স ২ থেকে ৩ দিন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করলে ঘটনাস্থলে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

পরে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির পরিচয় জানতে এবং কে বা কারা এ কাজটি করেছে- সেটা নিশ্চিত হতে কাজ করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের ফাইজুল ইসলামের মাদারী বাড়িতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে কে বা কারা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে নবজাতক শিশুটিকে রেখে চলে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে তাকে দেখতে পান। পরে তারা শিশুটিকে প্রাথমিক পরিচর্যা করেন।

এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখানে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

নাসিরনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল জানান, ওই নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তার পরিচয় শনাক্ত, চিকিৎসা এবং দত্তক সংক্রান্ত বিষয়ে আগামীকাল সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিচয় শনাক্ত না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে যোগ্য দম্পতির কাছে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, যদি কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে চান, তবে সমাজসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শিশুটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

লালপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নাটোরের লালপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩১ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে উপজেলার গৌরিপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের চৌকস একটি ট্রিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরিপুর গ্রামে একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালান। এসময় দোকানটির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. রহম আলম (৪৬) কে আটক করা হয়। তিনি মৃত আক্কাস আলী মন্ডলের ছেলে এবং রঙ্গীলা বেওয়ার সন্তান।

অভিযান চলাকালে তার হেফাজত থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় ৩ দশমিক ১ গ্রাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় লালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণি-১০(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’