• ই-পেপার

প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করুন

  • রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে দালালচক্র

পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন

সংকটে আবাসনশিল্প

পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন

বসবাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বে প্রায় সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার এমন অবস্থানের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ। ঢাকায় এমন অনেক গলি বা মহল্লা আছে, যেখানে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি তো দূরের কথা, একটি ছোট অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের অবস্থাও প্রায় একই রকম। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় পরিকল্পিত আবাসনের ব্যবস্থা করা। সেই কাজটিই করে আসছিল নির্মাতা বা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, করের চাপ এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ও নতুন ইমারত বিধিমালার কিছু অস্পষ্ট বিধানের কারণে সেই আবাসনশিল্প এখন অত্যন্ত দুঃসময় পার করছে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে দেশের আবাসনশিল্প অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে আবাসন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৫টির বেশি সহযোগী শিল্প। সেই শিল্পটি আজ যে অবস্থায় চলে এসেছে, তাতে শিল্পের অস্তিত্ব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গত বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও উঠে আসে এই শিল্পের নানা রকম দুর্দশার চিত্র।

মতবিনিময়সভায় রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৬২ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন বাজেটে করবৃদ্ধির প্রভাবে নির্মাণ ব্যয় ৪৩-৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই অবস্থায় ১৭-১৮ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। সভায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপ ২০২৫ সংশোধনী এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ডেভেলপারদের হয়রানি নয়; নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত নগর গড়াই রাজউকের লক্ষ্য। তিনি জানান, নকশা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেবাগুলো ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে। উভয় পক্ষ আবাসন খাতের সমস্যা সমাধান, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতকরণ এবং ড্যাপ ও ইমারত বিধিমালার বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

সব পক্ষের সম্মিলিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ণ সম্ভব নয়। আমরা আশা করি, আবাসনশিল্পের সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকার ওপর চাপ কমান

বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা

ঢাকার ওপর চাপ কমান

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আন্তর্জাতিক বিবেচনায় প্রায় বসবাসের অযোগ্য। শহরের বেশির ভাগ নাগরিকের মুখেও শোনা যায় দৈনন্দিন দুর্দশা-দুর্ভোগের কথা। যাতায়াতব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার মতো অপরিহার্য পরিষেবার নাকাল দশা। এমন শোচনীয় পরিস্থিতির চিত্রই উঠে এসেছে এবারের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বৈশ্বিক বাসযোগ্যতার জরিপে।

জানা গেছে, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের ওপর পরিচালিত জরিপে ইকোনমিস্ট মূলত পাঁচটি সূচক বিবেচনায় নিয়েছে। সেগুলো হলো স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। এই হিসেবে ঢাকার অবস্থান এসে ঠেকেছে ১৭১-এ; এর নিচে শুধু রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি। গত বছরও এই জরিপে ঢাকার অবস্থান একই ছিল। ৩১.৬ স্কোর নিয়ে ১৭৩তম হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। এর ঠিক ওপরে, ৪১ স্কোর নিয়ে ১৭২তম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। আর ৪১.৭ স্কোর নিয়ে ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এরপর আছে পাকিস্তানের করাচি, ১৭০তম স্থানে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো তালিকার শীর্ষস্থান বা সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন, স্কোর ৯৮। এ ছাড়া তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।

এটি অস্বীকার করার জো নেই, রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতা দিন দিন আরো হ্রাস পাচ্ছে। সবচেয়ে হতাশার দিক হলো, এই গতিমুখ ফেরানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগও দৃশ্যমান হচ্ছে না। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যেকোনো দাপ্তরিক কাজে সারা দেশের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়। এর ওপর সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসার মতো সেবা সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা শহরের জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। অথচ একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ঢাকার সম্ভাবনা কম ছিল না। রয়েছে সমৃদ্ধ অতীত। চারপাশে রয়েছে নদ-নদী। দেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থান হওয়ায় বেশির ভাগ জেলা থেকে কম সময়ে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ গোটা শহর ধুঁকছে। চারদিকে দালানকোঠা ঠিকই উঠেছে, উন্নয়নের নামে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু মানুষ আজ ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে হলে প্রথম শর্ত হলো, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে হবে। ঢাকামুখী প্রবণতা কমিয়ে সবকিছু বিকেন্দ্রীকরণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা জরুরি। নইলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা পরিত্যক্ত নগরীর তকমাও পাবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

রেকর্ড বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

চট্টগ্রাম মহানগরে গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের মধ্যে এটিই ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ভারি বৃষ্টি হচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামজুড়েই। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। শুধু কক্সবাজার জেলায়ই পাহাড়ধসে গত রবিবার থেকে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ও তিন পার্বত্য জেলায়ও কিছু পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, লঘুচাপ থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আরো পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। আর শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রাম নয়, বৃহত্তর সিলেটেও পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টানা বর্ষণে বন্দরনগর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার শহরের অনেক এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শহর ছাড়াও রামু, চৌফলদণ্ডী, ঈদগাঁওসহ কক্সবাজার জেলার নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বিমান যোগাযোগও ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সড়ক ডুবে যাওয়ায় সাজেকে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে।

প্রতিবছরই পাহাড়ধসের অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এ বছর এরই মধ্যে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ধসের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মহানগরে পাহাড়ধসের সবচেয়ে বড় দুটি ঘটনা ঘটে ২০০৭ ও ২০১৭ সালে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে মারা যায় ১২৭ জন। আর ২০১৭ সালের ঘটনায় চার সেনা কর্মকর্তাসহ ১৬৮ জনের অকালমৃত্যু হয়। তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর সরকার পাহাড়ধসের কারণ খুঁজতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছিল। ৯ মাস ধরে অনুসন্ধানের পর সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে সম্ভাব্য কারণগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তাতে বাস্তব অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে এবং প্রতিবছরই অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকেও জানা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে। চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনো অন্তত ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি। এমন বসবাস রয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর সিলেটের আরো অনেক স্থানে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাহাড়ধসের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, পাহাড়ের ওপরে থাকা গাছপালা কেটে ন্যাড়া করে ফেলা এবং প্রতিবেদনে সুপারিশকৃত পাহাড় ঘিরে আরসিসি রক্ষাবেষ্টনী ও নালা না থাকা। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, দেশে পাহাড় বা টিলা কাটা নিষিদ্ধ। কিন্তু পাহাড় কাটা কি বন্ধ আছে? পাশাপাশি যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে, তাদের শুধু সতর্ক করলেই হবে না, তাদের বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া ক্রমেই চরমভাবাপন্ন হচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকা ও টানা প্রবল বর্ষণের ঘটনা প্রায়ই ঘটতে পারে। তাই পাহাড়ধস রোধে পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন বন্ধ করাসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়সংলগ্ন বসবাস ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে।

নজরদারি নিশ্চিত করুন

স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম

নজরদারি নিশ্চিত করুন

শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের তরফ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এসবের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। একই অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং প্রকল্পেও। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, পাঠের প্রতি আগ্রহ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্পটি গ্রহণ করে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনের পর দিন এই খুদে শিক্ষার্থীদের মানহীন খাবার দেওয়া হচ্ছে, কোথাও খাবারই দেওয়া হচ্ছে না; আবার কোথাও কম দেওয়া হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ১৭৭টি স্কুলে এক মাস ধরে খাবার যাচ্ছে না। নেত্রকোনা সদর উপজেলার স্কুলগুলোয় পাঠানো হচ্ছে ১০ ভাগের এক ভাগ খাবার। কোথাও কোথাও পচা কলা, বাসি পাউরুটি-ডিম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব খাবার খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সমতা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রায় কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে এসব অনিয়মের তথ্য পর্যন্ত নেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে । প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো স্কুলে খাবার না পৌঁছানো বা কম পৌঁছানোর তথ্য আমাদের কাছে নেই। অথচ গৌরীপুরের নওপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, গত ৭ জুন আমাদের স্কুল খুললেও কোনো খাবার আসছে না।

দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার ঠিকই টাকা ঢালছে; কিন্তু শিক্ষার্থীরা সুফল পাচ্ছে না। সেই অর্থ লোপাট করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো স্কুলে যদি মানহীন খাবার দেওয়া হয় বা কোথাও যদি খাবার না পৌঁছায়, তাহলে আমরা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আমরা তাঁর কথার প্রতিফলন দেখতে চাই।

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা একটি জাতির মূল ভিত। এখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা একটি দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিতে পারে। কাজেই এ পর্যায়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।