• ই-পেপার

বিইউএফটিতে ন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেস্টিভাল

ক্যাম্পাস সংবাদ

নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত সিভাসু ক্যাম্পাস

নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত সিভাসু ক্যাম্পাস

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু)  ক্যাম্পাস। সোমবার সকালে সিভাসু অডিটরিয়ামে ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নিয়ম-কানুন, একাডেমিক, সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সপ্তাহব্যাপী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভাসুর উপাচার্য এবং ওই অনুষদের ডিন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুত্ফুর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল আমিন এবং সিভাসুর কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. নূরুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুত্ফুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু একটি সনদ অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছ—এমন চিন্তা যেন তোমাদের মাথায় না থাকে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। সৎ, মানবিক ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে।’ অনুষদভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গত দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাটহাজারীর রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইসড ক্যাম্পাসে নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাব রোটেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ডেইরি, পোলট্রি ও ফিশ ফার্ম, ফুড সেফটি ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

 

 

বুলিংডন ক্লাব

এই ক্লাবের সদস্যদের অক্সফোর্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী এলিটদের কাতারভুক্ত মনে করা হয়। তবে চাইলেই যে কেউ এখানে ঢুকতে পারে না। এর জন্য কঠোর ‘ব্ল্যাকবলিং’ বা গোপন ভোটাভুটির প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় খাঁটি ‘নীল রক্ত’ বা রাজকীয় পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও অগাধ বিত্ত

আল সানি
বুলিংডন ক্লাব

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাইব্রেরির শান্ত পরিবেশ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের আনাগোনা আর জ্ঞানচর্চার এক পবিত্র তীর্থস্থান। কিন্তু এই চেনা ছবির উল্টো পিঠেই লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার, ঔদ্ধত্য আর চরম আভিজাত্যের গল্প, যেখানে মেধার চেয়ে বংশমর্যাদা আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মূল্য অনেক বেশি। অক্সফোর্ডের সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের নামই ‘বুলিংডন ক্লাব’। ১৭৮০ সালের দিকে স্রেফ ক্রিকেট আর শিকারের নেশায় ইটন ও হ্যারোর মতো ব্রিটেনের অভিজাত স্কুলের একদল তরুণ মিলে গড়ে তুলেছিলেন এই ক্লাব; কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চরিত্র বদলে এটি রূপ নেয় একচেটিয়া ক্ষমতাশালী এবং চরম বিতর্কিত এক ‘ব্যাড বয়েজ’ সিন্ডিকেটে। এই ক্লাবের সদস্যদের অক্সফোর্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী এলিটদের কাতারভুক্ত মনে করা হয়। তবে চাইলেই যে কেউ এখানে ঢুকতে পারে না। এর জন্য কঠোর ‘ব্ল্যাকবলিং’ বা গোপন ভোটাভুটির প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় খাঁটি ‘নীল রক্ত’ বা রাজকীয় পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও অগাধ বিত্ত। বুলিংডন ক্লাবের সদস্যদের চেনার মূল উপায় হলো তাদের আকাশছোঁয়া দামি পোশাক। তাঁদের বিশেষ জ্যাকেটের ল্যাপেল তৈরি হয় খাঁটি আইভরি সিল্ক দিয়ে, কোটের বোতামগুলো পিতলের এবং সঙ্গে থাকে সরিষা রঙের বিশেষ ভেস্ট। দর্জির নিখুঁত মাপে তৈরি এক সেট পোশাকের পেছনেই খরচ হয়ে যায় হাজার হাজার পাউন্ড, যা একজন সাধারণ মানুষের কয়েক মাসের উপার্জনের সমান। তবে এই ঝকঝকে অভিজাত পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক আদিম ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতা। ক্লাবের মূল ঐতিহ্যই হলো—বছরে কয়েকবার কোনো বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ বা প্রাচীন পাব ভাড়া করে গোপন নৈশভোজের আয়োজন করা এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় শুরু হয় উন্মত্ত ভাঙচুর। আসবাব ভাঙা, দামি ক্রিস্টাল গ্লাস গুঁড়িয়ে দেওয়া, এমনকি দেয়াল ফুটো করে ফেলাটাও যেন তাদের কাছে এক চরম বীরত্ব। সবচেয়ে চাতুর্যের বিষয় হলো, ভাঙচুর শেষে তারা বিন্দুমাত্র লজ্জিত হয় না, বরং পকেট থেকে চেকবই বের করে রেস্তোরাঁর মালিককে ক্ষয়ক্ষতির কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে বীরদর্পে বেরিয়ে যায়। টাকা দিয়ে আইন আর সভ্যতাকে কিনে নেওয়ার এই অহংকারই বুলিংডন ক্লাবের আসল চেহারা। বুলিংডন ক্লাবকে শুধু একদল বখে যাওয়া ধনীর দুলালের আড্ডাখানা ভাবলে মস্ত বড় ভুল হবে। এই ক্লাব আসলে ব্রিটিশ রাজনীতির শীর্ষ ক্ষমতার এক অলিখিত নার্সারি। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বরিস জনসন এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্ন—সবাই তাঁদের অক্সফোর্ড জীবনে এই ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭ সালের একটি বিখ্যাত সাদা-কালো গ্রুপ ছবি আজও ইন্টারনেটে ঘুরপাক খায়, যেখানে তরুণ ক্যামেরন ও জনসনকে সেই চিরচেনা বুলিংডন পোশাকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাষ্ট্র চালানো এই ব্যক্তিরা যে একসময় টাকার গরমে রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করতেন বা এক গরিব গৃহহীন মানুষের সামনে টাকার নোটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক রসিকতা করতেন, তা ভাবলে আজও ব্রিটিশ আমজনতার চোখ কপালে ওঠে। এই ক্লাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বর্ণবাদসহ বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে এসব ঘটনা প্রকাশের পর বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে অবশ্য বুলিংডন ক্লাবের সেই রমরমা দিনগুলোতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে গোপন ক্যামেরা আর পাপারািসদের ভয়ে এখন আর আগের মতো প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালানো সহজ নয়। তা ছাড়া আধুনিক অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এই ক্লাবের পুরুষতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে একে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে। তবু অক্সফোর্ডের প্রাচীন পাথুরে দেয়ালগুলোর পেছনে, জনচক্ষুর আড়ালে আজও হয়তো বসে বুলিংডন ক্লাবের গোপন আসর।

 

 

বিজ্ঞান রহস্য

মহাকাশে মানুষ কেন ভাসে

মহাকাশে মানুষ কেন ভাসে

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে আমরা দেখতে পাই, মহাকাশে নভোচারীরা ভেসে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা সহজেই বাতাসে ভেসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছেন। এসব দেখে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মহাকাশে কি সত্যিই কোনো মাধ্যাকর্ষণ নেই?

 

মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ

মহাকাশে কি মাধ্যাকর্ষণ বল নেই? উত্তর—আছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল কার্যকর থাকে। সেখানে মাধ্যাকর্ষণের শক্তি পৃথিবীর পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি। অনেকেই মনে করে, সেখানে কোনো মাধ্যাকর্ষণ নেই, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ তখনো কাজ করে। নভোচারীরা ভাসেন কারণ তাঁরা এবং তাঁদের মহাকাশযান একই সঙ্গে পৃথিবীর দিকে অবিরাম মুক্তপতনে থাকে।

 

তাহলে নভোচারীরা ভাসেন কেন

নভোচারীরা মূলত মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা আপাত ওজনহীন অবস্থায় থাকেন। এর কারণ মহাকাশ স্টেশনটি খুব দ্রুতগতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭.৭ কিলোমিটার। এই গতির কারণে মহাকাশ স্টেশন সব সময় পৃথিবীর দিকে পড়তে থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে সামনে এগোতেও থাকে। ফলে এটি পৃথিবীর গায়ে পড়ে না, বরং পৃথিবীকে ঘিরে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় অবিরাম মুক্তপতন বা কন্টিনিউয়াস ফ্রি ফল। এর কারণেই নভোচারীরা মহাকাশে ভেসে বেড়ান। যেহেতু মহাকাশ স্টেশন এবং এর ভেতরের নভোচারীরা একই হারে নিচের দিকে পড়েন, তাই তাঁরা নিজেদের ওজন অনুভব করেন না। এ কারণেই নভোচারীরা মহাকাশে ভাসেন। আরেকটি বিষয় হলো, পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরনের প্যারাবলিক ফ্লাইট পরিচালনা করেন বিজ্ঞানীরা এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য মাইক্রোগ্র্যাভিটির অভিজ্ঞতা তৈরি করেন। এ ধরনের বিমানে থাকা সবাই সাময়িকভাবে ওজনহীনতার অনুভূতি পান।

 

মাইক্রোগ্র্যাভিটি কী

মাইক্রোগ্র্যাভিটি বলতে এমন পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে কার্যকরভাবে ওজন প্রায় শূন্যের মতো অনুভূত হয়। এখানে মাধ্যাকর্ষণ পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়, বরং সবাই একই সঙ্গে মুক্তপতনে থাকায় কোনো বস্তুর ওপর আলাদা চাপ তৈরি হয় না।

 

চাঁদে কি ভাসা যায়

না, চাঁদে ভাসা যায় না। চাঁদে মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ হলেও তা যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই নভোচারীরা সেখানে হাঁটতে পারেন। যদিও তাঁদের ওজন অনেক কম অনুভূত হয় এবং তাঁরা পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি উঁচুতে লাফ দিতে পারেন।

♦ সিলেবাসে নেই ডেস্ক

 

 

 

মন বসে না পড়ার টেবিলে

টেবিলে বই নিয়ে বসে থাকলেও পড়ায় মন বসে না। এমন সমস্যা অনেক শিক্ষার্থীর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়েও মনে রাখতে পারে না, এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। আসলে মন দিয়ে বুঝে পড়া—এটা সদিচ্ছা, অভ্যাস ও কৌশলের সমন্বয়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিব তারেক

মন বসে না পড়ার টেবিলে

শুধু ঘড়ি ধরে বেশি সময় নিয়ে পড়লেই হবে না, এর সঙ্গে দরকার নিয়মানুবর্তিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। পড়ার টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখাই অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। বই খুলে বসার কয়েক মিনিট পরই দেখা যায় স্মার্টফোন হাতে নেয়। এরপর ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতেই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। পড়াশোনার মুড নষ্ট হয়ে গেলে জোর করে মন বসানো কঠিন। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক পড়ার সময় ও বিষয় নির্ধারণ থাকে। তাই পরিকল্পনার বাইরে অন্য কোথাও সময় নষ্ট করলে পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঠ শেষ করা সম্ভব হয় না। অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করলে সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয় না। সব শেষে পরীক্ষা খারাপ হয়।

 

পড়ার সময় শুধুই পড়া

মানুষের মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যখন একই সময়ে পড়াশোনা ও মোবাইল ব্যবহার করি, তখন মস্তিষ্ক আসলে এক কাজ থেকে আরেক কাজে দ্রুত সরে যায়। এই ‘টাস্ক সুইচিং’ প্রক্রিয়ায় মনোযোগ ভেঙে যায় এবং শেখার দক্ষতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় শুধুই পড়ার দিকে মন দিতে হবে। পড়ার বাইরে অন্য কোনো কিছুই খেয়াল করা যাবে না। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। সুন্দর পড়ার পরিবেশ, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, দীর্ঘ পড়াশোনার মাঝখানে বিরতি—এগুলোও জরুরি।

 

লক্ষ্য নির্ধারণ

‘আজ অনেক পড়ব’—এর চেয়ে ‘আজ এই বিষয়ের এই অধ্যায়টি এত ঘণ্টা পড়ব’—এটা বেশি কার্যকর। পরিকল্পনা ছোট হলেও লক্ষ্য যদি সুনির্দিষ্ট হয়, সেখানে সফল হওয়া সহজ। তাই পড়তে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে। যেমন—‘পরবর্তী ৯০ মিনিটে ইতিহাসের দুটি অধ্যায় পড়ব’ বা ‘২০টি গণিতের সমস্যা সমাধান করব’। এ ছাড়া ছোট ছোট লক্ষ্যের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয় না।

 

সময় ভাগ করে পড়ুন

একটানা কয়েক ঘণ্টা পড়ার বদলে নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে পড়ুন। এটা ফলপ্রসূ। অনেকেই ‘পোমোডোরো পদ্ধতি’ অনুসরণ করে। যেমন—২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর পাঁচ মিনিট বিরতি। চারটি সেশন শেষ হলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের বড় বিরতি নেওয়া যায়। এভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ক্লান্তিহীন পড়া যায়। ফলে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা যায়।

 

পড়ার পরিবেশ
মনোযোগ দিয়ে পড়ার সঙ্গে পড়াশোনার পরিবেশও বড় ভূমিকা রাখে। পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি পরিবেশ মনোযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়ার টেবিলে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না রাখাই ভালো। পর্যাপ্ত আলো, আরামদায়ক চেয়ার এবং সঠিক বসার ভঙ্গিও পড়াশোনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদি সম্ভব হয়, প্রতিদিন একই জায়গায় পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে পড়ার উপযোগী মাইন্ডসেট বা মানসিকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে।

 

স্মার্টফোনের ব্যবহার

আজকাল মনোযোগ নষ্টের অন্যতম বড় কারণ স্মার্টফোন। একটি নোটিফিকেশনও মনোযোগ ভেঙে দিতে পারে। পড়ার সময় মোবাইল ফোন সাইলেন্ট বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখুন। চোখের আড়ালেও সরিয়ে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার অ্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষার সময়ে ফেসবুক বা এ ধরনের অ্যাপ সম্ভব হলে সাময়িকভাবে আন-ইনস্টল করেও রাখতে পারেন।  

 

পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই

রাত জেগে পড়ার অভ্যাস অনেকের; কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারা দিন শেখা তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে। তাই নিয়মিত সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

 

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে শরীরের সুস্থতার ওপর। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার, ফলমূল, শাক-সবজি, ডিম, মাছ ও বাদাম নিয়মিত খাওয়া মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। ফলে একাগ্রতাও বাড়ে। অতিরিক্ত উদ্বেগ ও মানসিক চাপ মনোযোগ কমিয়ে দেয়। পরীক্ষার আগে ভয় বা অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা উচিত। প্রয়োজনে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, হাঁটাহাঁটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

মুখস্থ নয়, বুঝুন আর রিভাইস দিন

কোনো বিষয় মুখস্থ না করে আগে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একটি বিষয় নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করা, অন্য কাউকে শেখানো বা বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে বিষয়টি দীর্ঘদিন মনে রাখা সহজ হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘অ্যাক্টিভ লার্নিং’ বা ‘সক্রিয় শেখা’।

একবার পড়লেই সব মনে থাকবে—এটা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। নির্দিষ্ট বিরতিতে রিভাইস বা পুনরায় পড়লে সেই তথ্য বা বিষয়বস্তু দীর্ঘদিন মনে থাকে। একে ‘স্পেসড রিপিটিশন’ বলা হয়, যা আধুনিক শিক্ষা গবেষণায় অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

 

অগ্রগতি মূল্যায়ন

প্রতিদিনের পড়াশোনা শেষে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ভাবুন—আজ কী শিখলাম, কোথায় দুর্বলতা রয়ে গেল এবং আগামীকাল কী পড়ব। এর মাধ্যমে নিজের অগ্রগতি বোঝা সহজ হয়। নিজের অবস্থার উন্নতি নিজেই শনাক্ত করতে পারলে পড়াশোনায় আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আর দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারলে পরীক্ষার আগেই সেই বিষয়ে দুর্বলতা কাটানো যাবে। অর্থাৎ ‘অগ্রগতি মূল্যায়ন’ দুই দিক থেকেই ফলপ্রসূ। অগ্রগতি মূল্যায়নের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মূল্যায়ন পরীক্ষা বা মডেল টেস্ট। কোনো অধ্যায় পড়ার পর সেই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্রের আলোকে নিজে নিজে পরীক্ষা দিতে পারেন। অথবা কোনো বিষয়ের সম্পূর্ণ অধ্যায় বা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের ওপরও ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দিতে পারেন। পরীক্ষা শেষে বই দেখে উত্তর মিলিয়ে দেখুন কোথায় ভুল হয়েছে।