আটলান্টা স্টেডিয়ামে তখন উল্লাস আর আবেগের ঢেউ। অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের পর আর্জেন্টিনার কেউই ধরে রাখতে পারলেন না চোখের জল। মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে কাঁদছেন লিওনেল মেসি, আর ডাগ আউটের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। যে ম্যাচে একসময় বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হয়ে উঠল আর্জেন্টিনার বীরত্বের এক অনন্য গল্প। মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়েও নিজেকে সামলাতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
আবেগে কণ্ঠ আটকে যায় স্কালোনির। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, ‘আমি মাথা তুলেও তাকাতে পারছি না। দুঃখিত, আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। কী অসাধারণ একটি দল! আমাকে যেতে হবে, ক্ষমা করবেন।’ এরপর আর কথা বাড়াতে পারেননি আর্জেন্টাইন কোচ। তবে তাঁর নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছিল সব। কারণ তাঁর দল যে লিখেছে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প, তা বিশ্বফুটবলে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। মাত্র ১৪ মিনিটের ঝড়ে তিন গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে তারা। সেই লড়াই, সেই বিশ্বাস আর সেই প্রত্যাবর্তনই হয়ে উঠেছে আটলান্টার রাতের সবচেয়ে বড় গল্প। আর এই গল্পের মহানায়ক লিওনেল মেসি। দল যখন সবচেয়ে কঠিন সংকটে, তখনই সামনে এসে দাঁড়ালেন অধিনায়ক। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। চার মিনিট পর এবার সমতা ফেরান মেসি নিজেই। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও আবেগাপ্লুত, ‘আমরা অবিশ্বাস্য স্বস্তি অনুভব করছি। এই ছেলেদের ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, কখনো ক্লান্ত হয় না, সব সময় আরো ভালো করার চেষ্টা করে এবং এমন অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দিতে পারে।’ দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দল ভেঙে পড়েছিল বলেও জানান আয়ালা, ‘আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু ছেলেরা নিজেরা প্রতিজ্ঞা করেছিল—যদি বিদায়ও নিতে হয়, তাহলে মাথা উঁচু করেই নেব। আজ তারা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, এই দলটি কতটা অসাধারণ।’
শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। দ্রুত ম্যাচে ফেরার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু পেনাল্টি থেকে আবারও গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তাতে তাঁর ওপর চাপটা যেন আরো বেড়ে যায়। বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচাতে তখন প্রয়োজন ছিল এই মহাতারকার কাছ থেকে বিশেষ কিছু—অসাধারণ কোনো মুহূর্ত। আর ঠিক সেটিই করে দেখালেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও প্রমাণ করলেন, বয়স তাঁর জন্য শুধুই একটি সংখ্যা। বড় মঞ্চে আলো ছড়ানোর ক্ষমতা এখনো অটুট, সংকটের মুহূর্তে দলকে টেনে তোলার সেই পুরনো জাদুও হারিয়ে যায়নি তাঁর পায়ে। মেসির সেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। আর প্রত্যাবর্তনের সেই আবেগঘন মুহূর্তে সতীর্থদের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু।




