টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলনে অচলাবস্থায় রয়েছে বরিশাল বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালকের কার্যালয়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের নিয়োগ আদেশ বাতিলের দাবিতে গতকাল রবিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বরিশাল জেলা ও শেবাচিম নেতারা। কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ শান্তর বাবা ও শহীদ রফিকের ভাই। এ সময় ড্যাবের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম, সেক্রেটারি ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ, জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ডা. মনিরুজ্জামান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পেয়ে গত সোমবার বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক পদে যোগ দেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ড্যাবের বর্তমান কমিটির নেতারা শুরু থেকেই তাঁর বিরোধিতা করছেন।
পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যু
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নিয়োগ বাতিলের দাবি

ফাঁদে আটকে পড়া সেই বাঘিনী বনে অবমুক্ত

ফাঁদে আটকে পড়া সেই বাঘিনীকে উদ্ধারের ছয় মাস পর আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বাঘটি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) আন্ধারমানিক এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, বন বিভাগের (বন অধিদপ্তর) প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বন বিভাগের ঢাকা ওয়াইল্ড লাইফের বন সংরক্ষক (সিএফ) সানাউল্লাহ পাটোয়ারী, বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ প্রমুখ। বন বিভাগ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পসংলগ্ন শড়কির খাল এলাকা থেকে বাঘটি উদ্ধার করা হয়েছিল। শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়ায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘটিকে যে এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে সে এলাকায় ১৯টি এবং যেখান থেকে বাঘটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বন্ধুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা গ্রেপ্তার ২

গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে পুকুরে গোসলে নেমে তর্কের জেরে বন্ধুকে চুবিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে শনিবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো একই এলাকার জবান আলীর ছেলে সাকিব মিয়া (১৮) এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে রিফাদ মিয়া (১৬)।
র্যাব জানায়, গত ১৬ জুন উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে তর্কের জেরে কিশোর রাহাতকে (১৫) পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা রাহাতকে দিঘির পারে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় রাহাতের বাবা মকবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৯ জুন সদর থানায় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। র্যাব খবর পেয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাকিবকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ আবাসিক ও রিফাদকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে।
রংপুর
পেঁয়াজের বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক

বাম্পার ফলন, তবু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম নেই। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন রংপুর অঞ্চলের পেঁয়াজচাষিরা। চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন, মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসা এবং টানা বৃষ্টির কারণে সংরক্ষণ সংকট—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ ভালো রেখে অনুকূল সময়ে বিক্রির আশায় আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কৃষি বিভাগও প্রণোদনার মাধ্যমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করছে।
চাষিরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর যেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই একই পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬০০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে পেঁয়াজ তোলার সময় টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতেই ফলনের ক্ষতি হয়েছে।
এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন। এই প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সরাসরি মেঝেতে না রেখে মাচার ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। নিচে বা পাশে স্থাপন করা ব্লোয়ারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বাতাস পেঁয়াজের গাদার ভেতর প্রবাহিত হয়। এতে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কম থাকে, ছত্রাকের আক্রমণ কমে এবং পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সতেজ রাখা সম্ভব হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক ময়নুল ইসলাম বলেন, “এবারই প্রথম ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিনে ৪০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছি। এখন বাজারে দাম খুব কম। কয়েক মাস পরে ভালো দাম পেলে তখন বিক্রি করব। আগে এত দিন পেঁয়াজ ভালো রাখা সম্ভব হতো না।”
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন দুটোই বাড়ছে। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পান, সে জন্য প্রণোদনার আওতায় ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন দেওয়া হচ্ছে।’
