জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য একটি রাষ্ট্রকে স্বীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কৌশলগুলো নিরূপণ করতে হয়। ওই কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্র অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক হলেও একটি আরেকটির পরিপূরক। এ জন্যই পররাষ্ট্রনীতিকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিফলন। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে অবশ্যই দেশটির নেতৃত্বে থাকা দলের দর্শন, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচির প্রাধান্য থাকে। ঠিক একইভাবে প্রণীত হয়ে থাকে সে দেশের পররাষ্ট্রনীতি। তাই যেকোনো দেশেরই পররাষ্ট্রনীতিতে সে দেশের নেতৃত্বের প্রভাব এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। আমেরিকার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ জেমস এন রোজনো লিখেছেন, ‘A leader’s beliefs about the nature of international arena and the goals that ought to be pursued therein, his or her peculiar intellectual strength and weakness for analysing information and making decisions, his or her past background and the extent of its relevance to the requirements of the role, his or her emotional needs and most of other personality traits- these are but a few of the idiosyncratic factors that can influence the planning and execution of foreign policy.’ আমার দৃষ্টিতে একটি দেশের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা ও বাস্তবায়নে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তা হলো—ক) নেতৃত্বের রাজনৈতিক দর্শন ও চিন্তাচেতনা; খ) বিশ্বের যেসব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা বা গুরুত্ব প্রাধান্য পাবে সেসব দেশের রাজনৈতিক দর্শন ও আচরণ; গ) রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান; ঘ) রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং ঙ) নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও বিশ্ব রাজনৈতিক আবহ বিশ্লেষণে পারদর্শিতা। নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় পররাষ্ট্রনীতিতে সংযোজন বা বিয়োজনসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ লক্ষ করা যায়। রাষ্ট্র গঠনের প্রারম্ভিক যুগ থেকেই এ চর্চা চলে আসছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে তুরগুত ওজাল যখন তুরস্কের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তখন তিনি কামাল আতাতুর্কের পররাষ্ট্রনীতির অনেক কিছুই পরিবর্তন করেছিলেন। এ ধরনের ঘটনা অনেক দেশেই ঘটেছে। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। মূলত পরিবর্তিত নেতৃত্ব তাঁর দেশের বিদ্যমান পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কী চিন্তাভাবনা করেন তার ওপর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণটি নির্ধারিত হয়। আমরা জানি, পররাষ্ট্রনীতির সফলতার জন্য শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে শক্তিশালী নেতৃত্বও থাকতে হয়। একটি রাষ্ট্রের পক্ষে এই দুয়ের সমন্বয় ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করা খুবই কঠিন। কারণ পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন নেতৃত্বের হাতে। এখন কথা হচ্ছে ওই দুয়ের সমন্বয়ের প্রকৃতি এবং মাত্রা। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত প্রকৃতি ও মাত্রার হেরফের ঘটাটাই স্বাভাবিক এবং নানা কার্যকারণেই তা ঘটে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে রাষ্ট্রের বিদ্যমান সরকারের চরিত্র এবং নেতৃত্ব। বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্বের সব দেশের জন্যই একটি চরম বাস্তবতা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে যে ভিন্নতা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছে ধরা পড়ে তার পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো হচ্ছে—ক) দেশ পরিচালনায় থাকা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার ও সেই সরকারের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তির দূরদৃষ্টি, অভিজ্ঞতা এবং বিচক্ষণতার প্রভাব; খ) দেশ যখন অগণতান্ত্রিক সরকারের, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে চলছিল তখনকার বাস্তবতা এবং গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে (স্বল্পকালীন হলেও) দেশ পরিচালনা সময়কালের বাস্তবতা। যেহেতু অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিফলন ঘটে পররাষ্ট্রনীতিতে, তাই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব একেক সময় একেকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই কোন সময়ে, কার নেতৃত্বে কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল সে বিষয়টিও ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল অবধি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নেতৃত্বের প্রভাব মোটামুটিভাবে তিনটি বৃহত্তর ধারায় বিভক্ত। প্রথম ধারাটি আওয়ামী লীগ ও দ্বিতীয় ধারাটি বিএনপির নেতৃত্বের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে। আর তৃতীয় ধারাটি অগণতান্ত্রিক বা সামরিক সরকারের শাসনামলে। বিগত ৪৬ বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি সময়ই দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না। ওই সময় দেশে মূলত সামরিক শাসক বা বেসামরিক পোশাকের অন্তরালে সামরিক শাসকদেরই শাসন চলেছে। গণতন্ত্রের ধোঁকা দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সেই সময়টাকে নাম দিয়েছিল স্বৈরশাসন। সেদিন নির্লজ্জ বেহায়াদের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশ; যদিও কতিপয় মুসলিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতির কথা অনেকে বলে থাকেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হলে যুদ্ধকালীন মুজিবনগরে গঠিত সরকারই দেশ চালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের বজ্র কঠিন শক্তিতে উজ্জীবিত সেই আত্মপ্রত্যয়ী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মহান নেতা দেশ গড়ার কাজে লেগে গেলেন। দ্রুততম সময়ে শেষ করলেন সংবিধান রচনার কাজটি। সেই সঙ্গে প্রণয়ন করা হয়ে গেল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা-২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক কথাকে ভিত্তি করেই সারা বিশ্বে আজকের বাংলাদেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে দাঁড়াতে হচ্ছিল, সেই মুহূর্তে দেশটিকে করা হলো পিতৃহীন। চার বছরের সন্তানটিকে তুলে দেওয়া হলো বিশ্বাসঘাতকদের হাতে। লাখো শহীদের রক্তে গড়া দেশটিতে শুরু হয়ে গেল অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসা মানুষের দাপাদাপি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসা অবধি ঘুরেফিরে দেশে সামরিক ব্যক্তিরাই দেশ চালান। ১৯৯১ থেকে অদ্যাবধি (মাঝের দুই বছর বাদ দিলে) সময়টাজুড়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই বহাল ছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল ও ব্যক্তিরা হলেন—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (১৯৭১-১৯৭৫, ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ অদ্যাবধি), জেনারেল জিয়াউর রহমান (সামরিক শাসক হিসেবে) ও বিএনপি (১৯৭৫-১৯৮২, ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬) এবং জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (সামরিক শাসক) ও জাতীয় পার্টি (১৯৮২-১৯৯০)। তবে অন্যান্য সময় তিন মাসের জন্য হলেও সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর (২০০৭-২০০৮) দেশ চালিয়েছিল। জাতির জনকের নেতৃত্ব, আদর্শ আর চিন্তাচেতনার সম্পূর্ণটাই প্রস্ফুটিত হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে। তিনি যেমন সবার বন্ধুত্ব পেয়েছেন এবং তেমনি চেয়েছেনও। তাইতো জীবিত থাকতেই সৌদি আরব, সুদান, ওমান এবং চীন ছাড়া বিশ্বের সব রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য এর চেয়ে আর কী হতে পারে? একদিকে ধনতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন রাখতে হবে, তেমনি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বকেও বন্ধুত্বের বন্ধনে বাঁধতে তিনি চেয়েছিলেন। মুসলিমবিশ্ব তাঁর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এড়াতে পারেনি। সমাজতান্ত্রিক, বিশেষ করে সোভিয়েত ব্লকের দেশগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে সমর্থন ও সহযোগিতা এবং স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবরণের পর খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। মাস তিনেকের মধ্যেই মোশতাককে বাদ দিয়ে (৬ নভেম্বর ১৯৭৫) বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবশ্য এক বছর পর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বটাও নিয়ে নেন। পরের বছর (২২ এপ্রিল ১৯৭৭) জেনারেল জিয়া বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব বুঝে নেন। তাঁর আমলে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক ফোরাম ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জেনারেল জিয়া নিহত হন। বিচারপতি সাত্তার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে বিচারপতি সাত্তারকে অপসারণ করে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা নিয়ে নেন। এরশাদের সময়ই ১৯৮৫ সালে ‘সার্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই আবহের মানুষ হিসেবে জেনারেল জিয়ার পথ অনুসরণ করে তিনিও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার চেষ্টা করেন। তাঁর শাসন চলে ১৯৯০ সাল অবধি, যখন তিনি জনরোষে পড়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তিনিও তাঁর স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে গেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হোক বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেই হোক, পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে তিনি নতুন কোনো মাত্রা যোগ করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। গতানুগতিক প্রবাহের মধ্যেই তাঁর বৈদেশিক সম্পর্ক ঘূর্ণমান ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি দেশ পরিচলনা করে আসছেন। তিনি জাতির জনকের কন্যা হিসেবেই নন, একজন দেশপ্রেমিক এবং সাধারণ মানুষের নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে নতুন মাত্রা ও ব্যাপ্তি যোগ করে তাকে আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করেছেন। মূলনীতিকে নানা অলংকরণে সাজিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি সম্মানজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর এ জন্য তিনি নিজেও বিশ্বনেতাদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত হয়ে বাংলাদেশের সম্মানকেই বৃদ্ধি করেছেন। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে সম্যক অনুধাবন করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে গৃহীত কূটকৌশল কাজ করেছে। এ ছাড়া তাঁর প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণ, ক্ষমতা এ ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। জাতির জনকের মতোই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখতে এরই মধ্যে সমর্থ হয়েছেন। তবে চার বছরের কম সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে যে সাফল্য এনেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো অদ্বিতীয় হয়ে আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল যেসব দেশ, তাদের সঙ্গেও তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেছেন। এমনকি পাকিস্তানের স্বীকৃতিও আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। ধনতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক এই ত্রিধারার বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই সৃষ্টি করেছিলেন বন্ধুত্বের আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। ‘কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব’ ছিল বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার মনের কথা, বিশ্বের সব মানুষকে ভালোবাসার অনুভূতির প্রকাশ। তবে শুধু নেতৃত্বই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নকে অনেকটা প্রভাবিত করেছিল বলে আমার বিশ্বাস। কারণ তিনি শুধু একজন ব্যক্তিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের বজ্রনিনাদ। তাই পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিকেই সবাই অনুসরণ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব