• ই-পেপার

ডলারের বাজারে চাপ সৃষ্টি, দাম বেড়ে ১২৩.৭৫ টাকা

সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বেশি শক্তিশালী, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া এক কাতারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বেশি শক্তিশালী, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া এক কাতারে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। এবার বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া। এবারের সূচকেও যথারীতি শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। আর সবার শেষে আফগানিস্তান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কতটি দেশে যাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।

সূচকে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এখন বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন; যদিও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা গত বছর আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারতেন। গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭তম। আর সর্বশেষ ২০২০ সালে এই সূচকে বাংলাদেশ ৯৮তম অবস্থানে ছিল। পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৩তম ও ১০১তম। অন্যদিকে ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম।

এ বছরের সূচকে শীর্ষ অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ১৯২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়ার আরো তিন দেশজাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন এ তিন দেশের পাসপোর্টধারীরা। সূচকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ সুইডেন।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। সূচকে দেশটির অবস্থান ৫২তম। মালদ্বীপের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে সবচেয়ে নিচে (১০৪তম) আফগানিস্তানের অবস্থান। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। সূত্র : ওয়েবসাইট

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়ের অভাব ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সাকি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় বাড়ে এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। এর পেছনে সমন্বয়ের অভাব, জবাবদিহির ঘাটতি ও দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনছে।

তিনি জানান, আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব কাজ শেষ হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে আইনি ও নীতিগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পৃথক রেট শিডিউল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি এসব রেট শিডিউল পর্যালোচনা করছে। খুব শিগগির সাধারণ ও বিশেষ ধরনের কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল প্রণয়ন করা হবে, যাতে প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন আরো বাস্তবসম্মত হয়।

এডিপি বাস্তবায়নের ওপর সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিপির বাস্তবায়ন ভালো হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডও চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সাকি বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি নতুন উপাদান যুক্ত হওয়া, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিবর্তন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেবৃহত্তর দিনাজপুর সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও উন্নয়ন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন এবং মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালিসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আসবে। এ ছাড়া আগে থেকেই অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরো ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়েছে।

 

চার জেলায় বন্যার অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চার জেলায় বন্যার অবনতি
ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে। গতকাল রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর নোহালী কাচারিপাড়া থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের ভেতরে ও উজানে ভারি বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কয়েক দিন ধরেই অবনতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায়। নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে নওগাঁ জেলায়। এসব জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এই পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে। এদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চার বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, গতকাল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে, অমলশীদে দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার ওপরে বইছিল। সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে এক সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপরে বইছিল। সুরমা নদীর পানি সতর্কসীমায় বইছিল।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নওগাঁ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে এবং ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীফফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থান সাময়িক প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও এর উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপরে বইছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটেছে। আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় ও সারা দেশে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। তার প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, যমুনার আকস্মিক ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের গোপালপুরের শাখারিয়া অংশ। গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া তীব্র স্রোতে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটির একাংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি ও সিকিমে তিস্তা অববাহিকায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীটির পানি বাড়া-কমা অব্যাহত আছে। গতকাল বুধবার সকালে আবারও তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান হস্তান্তর করেন। বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম সংস্থাটির পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকটে পড়েছে, তখনই চীন দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবেলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টকে দেওয়া উদ্ধারসামগ্রী বন্যা মোকাবেলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চীনের মানবিক সহায়তা ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অনুদান গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। চীনের এই সহায়তায় জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম (এনডিসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের সদস্য  ও অন্য অতিথিরা।