• ই-পেপার

জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান মালপত্র জব্দ

স্থানীয় নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় পরিবর্তন আসছে

মাসুদ রায়হান পলাশ
স্থানীয় নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় পরিবর্তন আসছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় পরিবর্তন আনার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ দাখিল হলে অভিযুক্তরা যেন নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন, স্থানীয় সরকার আইনে এমন বিধান করতে চায় কমিশন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কেবল বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা যেন থাকেন, সেই সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইসি। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির একটি সূত্র জানায়, আজ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনবিধির পর্যালোচনা সংক্রান্তে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি নিয়েও  আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার (আজ) কমিশন সভায় স্থানীয় সরকারের আইনবিধিসংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করে ফেলব। এসব নিয়ে অনেক দিন থেকে কাজ করা হচ্ছে। আইনবিধি সংস্কারের সুপারিশ চূড়ান্ত করে দ্রুতই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এটা সময়ের ব্যাপার। সে জন্য, আচরণ বিধিমালার আগে আমরা এটা চূড়ান্ত করতে চাই। আচরণ বিধিমালাও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। দ্রুতই সব ঠিক করা হবে।

কমিশন সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ গ্রহণ অভিযুক্তরা প্রার্থী হতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০সি ধারায় এটি উল্লেখ রয়েছে। তবে এই বিধান স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত করা হয়নি। কমিশন এই বিধানটি যুক্ত করতে চাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গ্রহণ হলে কেউ মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর বা সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা আর থাকবে না। শাস্তি পেলে নির্বাচনে অযোগ্য থাকতে হবে আজীবন। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনে (আরপিও) এই বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, কমিশন মনে করে, যারা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে, তারা এ দেশের জনপ্রতিনিধি হওয়ার উপযুক্ত নন। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। ওই কারণ দেখিয়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁরা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, ওই বিধান যুক্ত করতে সরকারকে সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইসি।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার চিন্তা করছে কমিশন। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ধারা ২৩(১), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ধারা ১৯(ঙ), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ধারা ৯(ঙ), উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ৮(ঙ) এবং জেলা পরিষদ আইনের ধারা ৬(ঙ) এ সংশোধনী প্রয়োজন হবে। এতে প্রজাতন্ত্রের পরিষদের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে কোনো লাভজনক পদে বা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সংশোধনী এলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে নির্বাচনের সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় রাখার প্রস্তাব করা হবে। যেন প্রয়োজন পড়লে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসারের মতো তাঁদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

তিনি আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিসংক্রান্ত আইনে অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। অতীতে আইনের মারপ্যাঁচে সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিরাও প্রার্থী হতে পেরেছেন। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনের আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে ঋণগ্রহীতা ও জামিনদারের কথা। সুতরাং স্থানীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা জামিনদার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের প্রতিনিধি থাকেন। আমরা প্রস্তাব করেছি, এখানে শুধু বিচার বিভাগের একজন বিচারক থাকবেন।

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে এই কমিশনার বলেন, আমরা অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার ভোট হবে। বন্যাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।

এদিকে ইসির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপে উল্লেখ রয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ চার হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই তিন হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।

 

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি

চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতিসহ মান মাত্রার ব্যত্যয় পাওয়ায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস আমের আচারে (ব্যাচ নং-ঋগেচ২০০০ে৪২৬) মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে; কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটনডো হেজেলনাট কোটেড চকোলেট আইসক্রিমে (ব্যাচ নং-২৬০৫০১০১অ) টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন (ব্যাচ নং-২৯৬১১০৪অ) এবং এলোভেরা স্কিন লোশন (ব্যাচ নং-২৯৬১২০৪অ); অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা (ব্যাচ নং-২৯৫১৪০৪অ) ফোমিং মিল্ক ও তুলসী (ব্যাচ নং-২৯৫১২০৪অ) এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের এলোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে (ব্যাচ নং-২৯২১৩০৪অ) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে (ব্যাচ নং-১৩৩) বাংলাদেশ মান মাত্রার চেয়ে ভিটামিন সি কম পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে এবং পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন/অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত ওই সব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসটিআই মনে করে, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিএসটিআই বদ্ধপরিকর।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জনগণ যাতে মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে পারে সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। এ ছাড়া তিনি পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন। কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মান চিহ্নের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানানোর অনুরোধও জানান।

 

অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের মালিকানায় থাকা ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত রবিবার মন্ত্রণালয়টি এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লাইসেন্স বাতিল হওয়া এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হলো ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম/এস শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম/এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, এম/এস কিউকে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, এম/এস স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পিআর ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড ও অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার।

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও আলোচনা থেমে থাকছে না

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে’ লিপ্ত : পেজেশকিয়ান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও আলোচনা থেমে থাকছে না

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা এখনো খোলা। ইরানও প্রায় একই সুরে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রবিবার রাতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে, যা ইরান মেনে চলতে রাজি থাকবে। অন্যদিকে গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পরও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা বার্তা পেয়েছি। বিস্তারিত বলতে চাই না। মূল বিষয় হলো, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন। 

টানা নবম দিনের মতো রবিবার রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ইরানের দাবি, সেখানে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্দানের আকাবায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সকালে দেশটিতে সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করেছে।

গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর ইরানও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করতে চায় ইরান। এর বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে।

ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, গতকাল ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানের ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার উপায় খুঁজে বের করতে মধ্যস্থতাকারীরা ১০ দিনের জন্য হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সেনা আহত হওয়ার ঘোষণা গোপন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জর্দানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের তিনটি হামলায় কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে এবং হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এতে বলা হয়েছে, পেন্টাগন হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করেনি। এই হামলাগুলো হয়েছিল শুক্রবার জর্দানে ইরানের হামলায় দুই সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার আগে। তবে আহত সেনা সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে সেন্ট্রাল কমান্ড বাধ্য নয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা টাইমসকে বলেছেন।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রয়েছে : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত এবং ইরানকে এই সংঘাতের পরিণতি মেনে নিতে হবে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, বাস্তবতা হলো, আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধে লিপ্ত। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং এই প্রতিরোধের স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে হবে।

সৌদির ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা : কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তাদের শত্রু সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, বিদ্রোহীরা চোখের বদলে চোখ নীতির ভিত্তিতে অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছে, যা এই বিবৃতি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। সূত্র : আল জাজিরা, রয়টার্স, তাসনিম