• ই-পেপার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংকট্যাংক হবে বিএফটিআই : বাণিজ্যমন্ত্রী

১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যে দেশ থেকে

দেশে বিদায়ি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি থেকে। যা মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। 

দেশে পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ রেমিট্যান্স। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। 

মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী অবস্থান করায় এসব দেশ থেকে প্রবাস আয়ের বড় অংশ এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২২ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। 
 

৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুর্বল বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, সীমিত বাজার বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, চার দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের পেছনে এই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। এটি দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত, সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম।

তবে বৈশ্বিক বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সাফল্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

ড. রিয়াজ পোশাক খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে ছয়টি কৌশলের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, লজিস্টিকস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, টেকসই উন্নয়ন ও সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারত এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যেখানে অনেক প্রতিযোগী দেশে একই কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বে টার্মিনালসহ নতুন বন্দর অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের অভাবকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায়। ফলে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ নতুন বাজারে প্রবেশ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য ও ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

ড. রিয়াজ বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক এখন ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর অংশ মাত্র ২৮ শতাংশ। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানির ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তার মতে, প্রযুক্তি, দক্ষতা, বাজার বৈচিত্র্য ও লজিস্টিকস খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আগামী দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে। তবে সেই যাত্রার প্রধান শর্ত হলো বিশ্বমানের বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

জুলাইয়ের ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ২.০১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

বাসস
জুলাইয়ের ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ২.০১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২.০১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ২০ জুলাই সময়ের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২.০১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১.৬৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ জুলাই এক দিনেই প্রবাসীরা ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সপ্রবাহের এই শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্স আয়ের ইতিবাচক গতি অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রেমিট্যান্সপ্রবাহের এ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরো শক্তিশালী করতে, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিকে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একে একে প্রশাসক তুলে নেওয়া হবে

অনলাইন ডেস্ক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একে একে প্রশাসক তুলে নেওয়া হবে
সংগৃহীত ছবি

পাঁচ ইসলামী ধারার ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ধাপে ধাপে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশাসকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ প্রতিশ্রুত মুনাফাসহ ফেরত পাবেন।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত পাঁচ ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন। তারা হেয়ারকাট নীতি বাতিল, এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার এবং প্রতিশ্রুত মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

গত বছর আর্থিক দুর্বলতা, তারল্য সংকট, অনিয়ম এবং সুশাসনের ঘাটতিতে থাকা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে গত ৮ জুন কাজী শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রশাসকদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। একইসঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে আরো অভিজ্ঞ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, পুনর্গঠন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন।

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।