• ই-পেপার

সাড়ে সাত বছরে ৭৯ পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

আজকের খেলা

আজকের খেলা

বরিশালে ১২ নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে, উত্তরে পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে ১২ নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে, উত্তরে পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

অমাবস্যার প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশালে ১২টি নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ভোলায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দিয়েছে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বেড়ে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে। এতে উত্তরের পাঁচ জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তিন বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চার সমুদ্রবন্দরকে আবারও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জ জেলার মারকুলিতে বিপত্সীমার ১২ সেন্টিমিটার ও সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে বিপত্সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর  দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল। এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, তিস্তা অববাহিকা আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা। ৮০ শতাংশের বেশি পানি উজান থেকে আসে এবং দ্রুত চলে যায়। উজানে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার নদীসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাচল প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনীতে সর্বোচ্চ ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপ দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। মূলত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হবে। তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসবে।

 

অভিমত

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে নিয়মিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন

ড. তৌহিদুল হক

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে নিয়মিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন
তৌহিদুল হক

বাংলাদেশ পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে আত্মহননের ঘটনা অনেক পেশার তুলনায় বেশি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব, অব্যাহত মানসিক চাপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়। এই চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় তাঁরা ভুলেই যান যে তাঁরাও মানুষ; তাঁদেরও পরিবার আছে, ব্যক্তিগত জীবন আছে, আবেগ-অনুভূতি আছে।

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত ছুটি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁদের মৌলিক চাহিদা ও কর্মপরিবেশ কতটা মানবিক হওয়া উচিত, সে প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে আছে। কিন্তু বাস্তবে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব সব সময় দেওয়া হয় না।

আরেকটি বিষয় হলো, সরকার পর্যায় থেকে বাহিনীর জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা আসে, তার একটি বড় অংশ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। এসব সুবিধা মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের কাছে সমানভাবে পৌঁছে না। অথচ সরকারের সিদ্ধান্ত, আইন কিংবা নির্দেশনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা। নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত দেন ও তদারকি করেন, কিন্তু বাস্তবায়নের ঝুঁকি, জনরোষ কিংবা সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের।

বাহিনীর ভেতরেও পারস্পরিক সংহতি বা ঐক্যের ঘাটতির বিষয়টি দীর্ঘদিনের। ফলে একজন সদস্য যখন কর্মক্ষেত্রে অপমান, অসম্মান বা অযৌক্তিক আচরণের শিকার হন, তখন অনেক সময় তিনি সেই পরিস্থিতি মানসিকভাবে সামলে উঠতে পারেন না। আবার সবার মানসিক দৃঢ়তা, পেশাগত দক্ষতা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতাও এক নয়।

অনেকেই বাইরে থেকে পুলিশ পেশাকে যেভাবে কল্পনা করেন, বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পান না। কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়া, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং কর্মজীবন নিয়ে হতাশা—এসব মিলিয়ে এক ধরনের একাকিত্ব ও অসহায়ত্ব তৈরি হয়। অনেক সময় পরিবার থেকেও নানা ধরনের চাপ বা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। যাঁরা এই মানসিক সংকট নিয়ন্ত্রণ করে সামনে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হন, তাঁদের একটি অংশ আত্মহননের মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, অপরাধের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি অপরাধীদের আচরণ ও কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতা ও মনোবল ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সে কারণে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যাপক পরিসরে এমন কার্যকর ব্যবস্থা আছে, এ কথা বলা যায় না। কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে বাইরে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন, কিন্তু সেটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান নয়।

এখন প্রয়োজন বাহিনীর ভেতরে পেশাদার ও নিয়মিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেখানে প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকবেন। তাঁরা সদস্যদের কথা শুনবেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন এবং কারো ওষুধ বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবেন।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, যে অস্ত্র একজন পুলিশ সদস্যকে দেওয়া হয়েছে অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, কখনো কখনো সেই অস্ত্র দিয়েই তিনি নিজের জীবন শেষ করে দিচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই একটি রাষ্ট্র বা বাহিনীর জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হতে পারে না।

লেখক : সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
রণধীর জয়সওয়াল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জয়সওয়াল।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা জানতে পারছি, শেখ হাসিনা ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। তা ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না।’

এ প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের জন্য একটা অনুরোধ পেয়েছি। যেমনটি আমরা আগে

বলেছিলাম, অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।’

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এই প্রশ্নের উত্তরেও তিনি জানান, প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। সূত্র : দ্য হিন্দু