• ই-পেপার

ইসলামে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৭৪

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা কি মনে করে যে আল্লাহ কখনো তাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দেবেন না? আমি ইচ্ছা করলে তোমাকে তাদের পরিচয় দিতাম। ফলে তুমি তাদের লক্ষণ দেখে তাদেরকে চিনতে পারতে, তবে তুমি অবশ্যই কথার ভঙ্গিতে তাদেরকে চিনতে পারবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ সম্পর্কে অবগত। আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি জেনে নেই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের। আর আমি তোমাদের ব্যাপারে পরীক্ষা করি। (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২৯-৩১)

আয়াতগুলোতে মুনাফিকদের আলোচনা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. আয়াতে নিফাককে অন্তরের রোগ বলা হয়েছে। কেননা তা বেশির ভাগ সময় অন্তরে গোপন রাখা হয়।

২. আল্লাহ মুনাফিকদের পরিচয় গোপন করেছেন, যেন তারা তাওবা করার সুযোগ পায়।

৩. আল্লাহ সবার মনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত। কিন্তু দয়া করে তিনি তা প্রকাশ করেন না, যাতে মানুষ লজ্জিত না হয়।

৪. আল্লাহ মুমিনদের বিভিন্ন পরীক্ষা মুখোমুখি করেন। আর মুমিন এসব পরীক্ষায় পাস করে ঈমানের পরিচয় দেয় এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৫. মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাকা। কেননা হিংসা ও বিদ্বেষ অন্তরের গুরুতর রোগ এবং তা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। (বুরহানুল কুরআন : ৩/৩৮২)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলাই দ্বিনের ওপর দৃঢ় থাকা।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

তীব্র দাবদাহে মক্কা ও মদিনায় সতর্কবার্তা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
তীব্র দাবদাহে মক্কা ও মদিনায় সতর্কবার্তা

সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মৌলিক অধিকারে ইসলামের চোখে সব মানুষ সমান

উম্মে আহমাদ ফারজানা
মৌলিক অধিকারে ইসলামের চোখে সব মানুষ সমান

ইসলাম মৌলিকভাবে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার স্বীকার করে এবং কাউকে তার চেহারা, গায়ের রং, বংশ, জাতি বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের মর্যাদার একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া (পরহেজগারি)।

অতএব, ইসলামে ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, শাসক-প্রজাসব মানুষই সমান। কোরআনের বহু আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও কর্মে এই সাম্যের নীতি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে। তারপর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।

(সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

এই আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সব মানুষের উৎস একএকজন পিতা ও একজন মাতা। তাই সবাই পরস্পরের ভাই-বোন এবং কারো সঙ্গে বংশ, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের বহু ঘটনাও এই নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে আইনের দৃষ্টিতে কেউই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নয়। যদি তাঁর নিজের পরিবারের কেউ অপরাধ করত, তবু একই আইন প্রয়োগ করা হতো। তিনি বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তার ওপর শাস্তি কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।

(বুখারি, হাদিস : ৩৭৩৩)

মদিনায় সাহাবিদের জীবন ছিল জাতিগত ও বর্ণগত সাম্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সেখানে আরব আবু বকর, হাবশি বিলাল, রোমান সুহাইব এবং পারসিক সালমানসবাই ইসলামের ছায়াতলে সমান মর্যাদায় ভাই হিসেবে বসবাস করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, মানুষ সবাই চিরুনির দাঁতের মতো সমান। তাকওয়া ছাড়া কোনো আরবের ওপর অনারবের কিংবা অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৯৭৮)

তবে ইসলাম মানুষের বংশ, জীবিকা, সম্পদ বা কর্মক্ষেত্রে পার্থক্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করে না। বরং এটি স্বীকার করে যে মানবজীবনের ভারসাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য এই বৈচিত্র্য প্রয়োজন। মহান আল্লাহ বলেন, আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং তাদের কাউকে কারো ওপর মর্যাদায় উচ্চ করেছি। (সুরা : আয-যুখরুফ, আয়াত : ৩২)

মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সাম্য তাদের মৌলিক নীতিগুলোর একটি ছিল। মসজিদে নামাজের কাতারে শাসক ও সাধারণ মানুষ, ধনী ও গরিব, শক্তিশালী ও দুর্বল, বড় ও ছোটসবাই একই সারিতে দাঁড়িয়ে এক আল্লাহর সামনে বিনম্রভাবে মাথা নত করতেন। এই দৃশ্য ইসলামের সাম্যের এক জীবন্ত প্রতীক।

এই নীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন মহান সাহাবি বিলাল (রা.)। তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে একজন দাস ছিলেন; কিন্তু ইসলাম তাঁকে এমন মর্যাদা দিয়েছিল যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুয়াজ্জিন হওয়ার সম্মান লাভ করেন।

একবার আবু জর আল-গিফারি (রা.) বিলাল (রা.)-কে তাঁর গায়ের রঙের কারণে কটাক্ষ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। তিনি আবু জরকে বলেন, তোমার মধ্যে এখনো জাহেলিয়াতের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়ে গেছে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০)

অর্থাৎ বর্ণবাদী আচরণ ইসলামের আদর্শ ও নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসলামে সাম্যের নীতি শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অমুসলিমদের প্রতিও একই ন্যায় ও মানবিকতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা ধর্মের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।

(সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে অমুসলিমদের প্রতিও ন্যায়, দয়া ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের শিক্ষা। তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের ওপর অন্যায় না করা মুসলমানের দায়িত্ব।