kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

নবীজির শত্রু

উমাইয়া ইবনে খালাফের পরিণতি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উমাইয়া ইবনে খালাফের পরিণতি

উমাইয়া ও উবাই ছিল খালাফের পুত্র। তারা নানাভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিত। উমাইয়ার অভ্যাস ছিল, যখন রাসুল (সা.)-কে দেখত, তখনই কটূক্তি করত, তাঁকে অভিশাপ দিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক ওই ব্যক্তির, যে সামনে ও পেছনে লোকের নিন্দা করে।’ (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ১)

উমাইয়া ইবনে খালাফের ক্রীতদাস ছিলেন বিলাল (রা.)। ইসলাম গ্রহণের পর উমাইয়া বিলালের গলায় দড়ি বেঁধে মক্কার উচ্ছৃঙ্খল বালকদের হাতে তুলে দিত। বালকরা তাঁকে মক্কার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। এমন করার ফলে তাঁর গলায় দড়ির দাগ পড়ে যেত। উমাইয়া নিজে তাঁকে নির্মমভাবে প্রহার করত। এরপর উত্তপ্ত বালুর ওপর জোর করে শুইয়ে রাখত। এ সময় তাঁকে অনাহারে রাখা হতো। এমনকি কখনো কখনো তাঁকে দুপুরের তীব্র রোদে মরু বালুকার ওপর শুইয়ে বুকের ওপর ভারী পাথর চাপা দিয়ে রাখত। (রহমাতুল্লিল আলামিন : ১/৪৫)

একবার সাদ ইবনে মুআজ (রা.) মক্কায় উমাইয়া ইবনে খালাফকে বলেছিলেন, হে উমাইয়া! আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে মুসলমানরা তোমাকে হত্যা করবে। এ কথা শুনে উমাইয়া ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। এ ভয় তার সব সময় ছিল। সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, কখনো মক্কার বাইরে যাবে না। আবু জাহেলের পীড়াপীড়িতে উমাইয়া বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সবচেয়ে দ্রুতগামী উট ক্রয় করে, যাতে বিপদের সময় খুব দ্রুত পালিয়ে আসতে পারে। যুদ্ধে রওনা হওয়ার সময় তার স্ত্রী তাকে বলছিল, আবু সাফয়ান! আপনার ইয়াসরেবি ভাই যে কথা বলেছিলেন, আপনি কি সে কথা ভুলে গেছেন? সে বলল, না, ভুলিনি, আমি তো ওদের সঙ্গে কিছুদূর যাব। (বুখারি ২/৫৬৩, আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৪৮)

মক্কায় জাহেলি যুগ থেকেই আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ও উমাইয়া ইবনে খালাফের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। বদর যুদ্ধের দিনে উমাইয়া তার সন্তান আলীর হাত ধরে দাঁড়িয়েছিল। আবদুর রহমান ইবনে আউফ তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি শত্রুদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কয়েকটি বর্ম নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখে উমাইয়া বলল, আমি কি তোমার প্রয়োজনে লাগতে পারি? তোমার বর্মগুলোর চেয়ে আমরা উত্তম। আজকের মতো দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি। তোমাদের কি দুধের প্রয়োজন নেই? সে আরো বলল, যে ব্যক্তি আমাকে বন্দি করবে, মুক্তিপণ হিসেবে আমি তাকে অনেক দুধেল উটনী দেব। এ কথা শুনে আবদুর রহমান বর্মগুলো ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং উমাইয়া ও তার পুত্রকে বন্দি করে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন।

আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) পরে এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, আমি তাদের নিয়ে যাচ্ছিলাম, এমন সময় বিলাল (রা.) উমাইয়াকে দেখে ফেলেন। তিনি তাকে দেখে বলেন, ওহে কাফিরদের সরদার উমাইয়া ইবনে খালাফ! হয়তো আমি বেঁচে থাকব নতুবা তুমি বেঁচে থাকবে। এরপর উচ্চৈঃস্বরে বলেন, ওহে আনসাররা! এই দেখো কাফিরদের সরদার উমাইয়া ইবনে খালাফ, এবার হয়তো আমি থাকব নতুবা সে থাকবে।

বর্ণনাকারী বলেন, ততক্ষণে লোকেরা আমাদের ঘিরে ফেলে। আমি তাদের রক্ষা করতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু একজন সাহাবি তলোয়ার তুলে উমাইয়ার পুত্র আলীর পায়ে আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে সে ঢলে পড়ল। এদিকে উমাইয়া এমন জোরে চিৎকার দিয়ে উঠল যে আমি এত বিকট শব্দ কখনো শুনিনি। আমি বললাম, পালাও পালাও। কিন্তু আজ তো পালানোর পথ নেই। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোমার কোনো উপকারে আসতে পারব না। এরপর উত্তেজিত সাহাবারা উমাইয়া ও তার পুত্র আলীকে ঘিরে ফেলে আঘাতে আঘাতে হত্যা করে ফেলল। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ২৪৯)



সাতদিনের সেরা