• ই-পেপার

তুরস্কে একীভূত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় তিন ইসলামী ব্যাংক

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৪৯

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে ভয়ে নতজানু।...যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে দাখিল করবেন স্বীয় রহমতে। এটাই মহাসাফল্য। পক্ষান্তরে যারা কুফরি করে তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতগুলো পাঠ করা হয়নি? কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়। (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ২৭-৩১)

আয়াতগুলোতে মানুষের আমলনামা ও পরকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. কিয়ামতের দিন প্রত্যেকের আমলনামা তার কৃতকর্ম প্রকাশ করবে এবং তার পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে।

২. আল্লাহ অনাদি কাল থেকে প্রত্যেকের আমল সম্পর্কে জানেন। কিন্তু শুধু নিয়মানুবর্তিতার জন্য তা লিপিবদ্ধ করতে ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন।

৩. কিয়ামতের দিন প্রত্যেকের হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, যেন সে নেক আমল দেখে আনন্দিত অথবা মন্দ আমল দেখে লজ্জিত হয়।

৪. আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ-উপদেশ এবং যথাযথ দলিল-প্রমাণ থাকার পরও যারা ঈমান গ্রহণ করে না তারা মূলত সত্তাগতভাবে পাপী।

৫. কোরআনে জান্নাতকে রহমত বলার কারণ হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া তা অর্জিত হবে না এবং জান্নাতে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ থাকবে।
(বুরহানুল কুরআন : ৩/৩৫৩)

 

বাজেটে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বাজেটে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সুখবর দিল সরকার। বাজেটে ধর্মীয় উপাসনালয়ে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় এই প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মোট আট হাজার টাকা মাসিক সম্মানি দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ হাজার ৫২০ জন এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সব ধর্মীয় উপসনালয়ে এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই সম্মানি সুবিধা দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

 

পবিত্র মদিনা অঞ্চলে ১,৭৭৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার

আবু তাশফিন
পবিত্র মদিনা অঞ্চলে ১,৭৭৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার

সৌদি আরবের হেরিটেজ কমিশন মদিনা অঞ্চলের আল-মাহদ গভর্নরেটে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ কার্যক্রমের দ্বিতীয় মৌসুম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই জরিপে অতীতের বিভিন্ন সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন উন্মোচিত হয়েছে, যা ইসলামী রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে দীর্ঘ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।

কমিশন আল-সুয়াইরিকিয়াহ, আল-মুওয়াইহিয়াহ ও হাধাহএই তিনটি জরিপ এলাকায় মোট এক হাজার ৭৭৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নথিভুক্ত করেছে। এসব স্থানে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলো যুগের পর যুগ ধরে মানব বসতির উপস্থিতির চিহ্ন বহন করে আসছে।

জানা যায়, জরিপে ১৫৬টি নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে। আবিষ্কৃত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ৪৬১টি ইসলামী শিলালিপি, ৩৪টি সামুদীয় শিলালিপি, এক হাজার ২৫৯টি শিলাচিত্র (রক আর্ট), ১১টি পাথরের স্থাপনা, তিনটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ, দুটি প্রাচীন কাফেলা পথ ও চারটি কূপ।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নামসংবলিত শিলালিপি। এ ছাড়া পাথরের গায়ে খোদাই করা আরবি কবিতারও সন্ধান মিলেছে, যা এসব স্থানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

হেরিটেজ কমিশন জানিয়েছে, সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তারা প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও নথিভুক্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত সপ্তাহে কমিশন যুক্তরাজ্যের টহরাবত্ংরঃু ড়ভ ঊীবঃবৎ-এর সঙ্গে যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা মিশনের প্রথম মৌসুম সম্পন্ন করেছে। প্রাচীন আল-জুহফাহ মিকাত এলাকায় পরিচালিত এই গবেষণায় এক হাজার ৭০০-রও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যা মিসরীয় হজযাত্রীদের ঐতিহাসিক পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে স্থানটির গুরুত্ব নিশ্চিত করেছে।

আবিষ্কৃত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর খণ্ডাংশ, ছয়টি মৃৎপাত্র পোড়ানোর চুল্লি, একটি পানি সরবরাহ খাল, যা সম্ভবত হজযাত্রী ও পথিকদের সেবায় ব্যবহৃত হতো এবং উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগের ১৩টি সমাধিফলক।

গবেষণায় আরো জানা গেছে, কিছু নিদর্শনের উৎস ছিল শাম (লেভান্ত), মিসর ও ইথিওপিয়া। এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে যে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হজযাত্রীরা এই মিকাত অতিক্রম করতেন।

মক্কার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৮৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-জুহফাহ মিকাত ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকেই একটি সুপরিচিত মিকাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মহানবী (সা.)-এর হিজরতের ইতিহাসের সঙ্গেও স্থানটির সম্পর্ক রয়েছে। ধারণা করা হয়, দ্বিতীয় হিজরি শতকে এটি একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছিল, যেখানে হজযাত্রীদের সেবায় পানির ব্যবস্থা ও বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠেছিল।

বিশ্বের বিখ্যাত পাঁচ কোরআন জাদুঘর

আবরার আবদুল্লাহ
বিশ্বের বিখ্যাত পাঁচ কোরআন জাদুঘর

কোরআন মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এবং সর্বশেষ নাজিল হওয়া আসমানি কিতাব। কোরআন ও তার মর্যাদা রক্ষা করা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। মহানবী (সা.)-এর সময় থেকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে কোরআন সংরক্ষিত হয়ে আসছে। আধুনিক যুগে কোরআন সংরক্ষণের একটি মাধ্যম জাদুঘর। পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিশেষায়িত জাদুঘর, যার মধ্যে পাঁচটি বিখ্যাত জাদুঘরের বিবরণ তুলে ধরা হলো।

১. বাইত আল কোরআন : বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত বিশেষায়িত এই জাদুঘর ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এর সংগ্রহে ১০ হাজারের বেশি কোরআনের অনুলিপি রয়েছে, যার মধ্যে আছে খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর যুগে তৈরি কোরআনের অনুলিপি। ধারণা করা হয়, এটাই কোরআনের সবচেয়ে প্রাচীন কপি। আরো আছে, হিজরি প্রথম শতকের (৭০০ খ্রি.) একাধিক অনুলিপি, জার্মানি থেকে মুদ্রিত প্রথম কোরআন (১৬৯৪ খ্রি.), সুইজারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত কোরআনের প্রথম লাতিন অনুবাদ (৯৫৫ খ্রি.), কোরআনের ক্ষুদ্রতম অনুলিপি ইত্যাদি। জাদুঘর হলেও এখানে আছে ৫০ হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ একটি বড় পাঠাগার, সুপরিসর মসজিদ ও সভাকক্ষ।

২. হলি কোরআন এক্সিবিশন : সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত এই জাদুঘরটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক কোরআন প্রদর্শনী কেন্দ্র, যা মসজিদে নববী কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত। এই জাদুঘরে হিজরি প্রথম শতক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একাধিক কোরআনের অনুলিপি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআন মুদ্রণের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে হাফেজ উসমান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কোরআনের অনুলিপি আছে, যা হরিণের চামড়ায় লেখা হয়েছে। এ ছাড়া আছে প্রায় ২০০ বছর আগে গোলাম মহিউদ্দিন প্রস্তুতকৃত কোরআনের বৃহৎ অনুলিপি। এটা এত ভারী যে চারটি উটের পিঠে করে তা আফগানিস্তান থেকে মদিনায় আনা হয়েছিল। পাণ্ডুলিপিটি দেড় মিটার লম্বা এবং এক মিটার চওড়া। এর ওজন ১৫৪ কেজি। এর প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে ফারসি ভাষায় কোরআনের অনুবাদ আছে।

৩. হলি কোরআন মিউজিয়াম : সংযুক্ত আরব আমিরাতের সারজায় অবস্থিত এই জাদুঘরকে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম আইকনিক কোরআন জাদুঘর মনে করা হয়। এখানে কোরআনের সাড়ে চৌদ্দ শ বছরের ইতিহাস জীবন্ত করে তোলা হয়েছে; যেমনএখানে প্রথম কোরআন নাজিলের স্থান হিসেবে হেরা গুহার মডেল তৈরি করা হয়েছে। প্রথম যুগে পশুর হাড়, গাছের বাকল ও চামড়ায় কিভাবে আয়াত লেখা হতো তা দৃশ্যমান করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরআন সংরক্ষণের ইতিহাস লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে কোরআনের ৬০টি প্রাচীন অনুলিপি আছে, যা হিজরি শতক অনুসারে ১৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এখানে আছে খেজুরপাতায় লেখা কোরআনের বিরল অনুলিপি।

৪. ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব হলি কোরআন : ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাদুঘরটি কোরআন বিষয়ক সর্ববৃহৎ জাদুঘর এবং এর অবস্থান ভূস্তর থেকে ১৪ মিটার গভীরে। জাদুঘরটির আয়তন ১০ হাজার বর্গমিটার। এখানে শুধু কোরআনের প্রাচীন অনুলিপি ও ইতিহাসই তুলে ধরা হয়নি, কোরআনিক শিল্পকলার বিমূর্ত চিত্রও প্রদর্শন করা হয়েছে। এই জাদুঘরে চতুর্থ হিজরি শতক থেকে কাজার আমলের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত সময়কালের কোরআনের একাধিক অনুলিপি আছে। পাশাপাশি কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য শিল্পকলা, যেমনসোনালি প্রলেপ, বাঁধাই, ক্যালিগ্রাফি ইত্যাদির বিকাশপ্রক্রিয়াও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

৫. মালাক্কা আল কোরআন মিউজিয়াম : এটি মালয়েশিয়ার মালাক্কা শহরে অবস্থিত কোরআন বিষয়ক বিশেষায়িত জাদুঘর, যা রেস্তু ফাউন্ডেশন ও মালাক্কা রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। ১০ জানুয়ারি ২০০৮ জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি মালাক্কার কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত। এই জাদুঘরে ১২টি প্রধান হল আছে, যাতে কোরআনের বিভিন্ন সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। জাদুঘরের সংগ্রহশালায় আছে কোরআনের একাধিক প্রাচীন অনুলিপি ও কোরআন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও নিদর্শন।  এ ছাড়া জাদুঘরে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ে ওহি নাজিলের প্রেক্ষাপট এবং ইন্দোচীন ও মালয়বিশ্বে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যঋণ : আরব নিউজ, মাদায়েন প্রজেক্ট, ভিজিট সারজা, ভিজিট ইরান ও উইকিপিডিয়া