• ই-পেপার

ভাড়া দিচ্ছিলেন নারী, বাসচাপায় সড়কে ঝরল প্রাণ

ইউএনওর হস্তক্ষেপ

ছেলের নতুন দালানে ফিরলেন সেই বৃদ্ধা মা, মুচলেকা দিলেন পুত্রবধূ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ছেলের নতুন দালানে ফিরলেন সেই বৃদ্ধা মা, মুচলেকা দিলেন পুত্রবধূ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে সেই বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো ছেলের নতুন দালানে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনকে চৌদ্দগ্রামের ইউএনও মো. শাহাদাৎ হোসেনের হস্তক্ষেপে পুত্রবধূ রুমা বেগম ঘরে তুলে নেন।

এর আগে পুত্রবধূ রুমা বেগম শাশুড়ি ছামেনা খাতুনকে নতুন দালান থেকে বের করে দেন। ‘চৌদ্দগ্রামে বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো না ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে’ শিরোনামে বুধবার এ নিয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি চৌদ্দগ্রামের ইউএনওর নজরে আসে।

ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। বৃহস্পতিবার আমি আলকরা ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছি।

আলকরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, ইউএনও স্যার আমাকে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেন। আমি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে ঘটনাস্থলে আসি। সেখান থেকে ছামেনা খাতুনকে নিয়ে ছেলে ফয়েজ আহাম্মদের নতুন দালানে নিয়ে যাই।

আবুল বশর আরো বলেন, এসময় পুত্রবধূ রুমা বেগম আগের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে ছামেনা খাতুনের সঙ্গে আর কোনো অন্যায় হবে না বলে লিখিত মুচলেকা দেন।

গ্রামের সুমন মিয়াসহ একাধিক লোকজন বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে আমরা সাংবাদিক ও ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ জানাই ছামেনা খাতুনকে তার ছেলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া জন্য।

খুলনা সিটি মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে, চলছে উদ্ধার অভিযান

খুলনা অফিস
খুলনা সিটি মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে, চলছে উদ্ধার অভিযান
ছবি: কালের কণ্ঠ

নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন চলছে উদ্ধার অভিযান। রোগীদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদেরও হাসপাতাল থেকে নামিয়ে অন্য হাসপাতালে এবং তুলনামূলক সুস্থদেরকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ঠিক এই মুহূর্তে কতজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে বাইরে নেওয়া হয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সোয়া ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে চালায়।

রাত ১টা ৬ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৪ জন রোগী রয়েছেন। যারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাদেরকে নামিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। স্বজনদেরকে খুমেক হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেডিএ চেয়ারম্যান হলেন খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি মনা

খুলনা অফিস
কেডিএ চেয়ারম্যান হলেন খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি মনা
অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা। সংগৃহীত ছবি

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এক বছরের জন্য নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী এস এম শফিকুল আলমকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/ সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে ১ (এক) বছর মেয়াদে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

কেডিএ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রজ্ঞাপনে বিদায়ি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। গত দুই যুগ ধরে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা প্রেষণে কেডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সূত্রটি বলছে, কেডিএ’র ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। এর আগে খুলনার নাগরিক নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছিল যাতে কেডিএতে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ন্যায় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু সে দাবি কোনো সরকারই বাস্তবায়ন করেনি। 

খুলনার নাগরিক নেতারা মনে করেন, এর মধ্যদিয়ে হয়ত সে দাবিটিও বাস্তবায়ন হতে পারে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, এর মধ্যদিয়ে খুলনার মানুষের প্রতি কেডিএ’র দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করার প্রবণতা সৃষ্টি হলো।

নগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র নয়া চেয়ারম্যান অ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, আধুনিক খুলনা গড়তে তিনি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন। কেডিএ হবে জনগণের প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সন্দ্বীপের বেলায়েত

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন সন্দ্বীপের বেলায়েত
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রাকচার প্ল্যান-১৯৯৫ অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ১৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিডিএর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর সীমানা উত্তরে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া, দক্ষিণে সাঙ্গু নদী ও আনোয়ারা উপজেলা, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পেশাজীবী ও ঠিকাদার হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চট্টগ্রামের পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এদিকে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তাঁর জন্মস্থান সন্দ্বীপে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা কর্মসূচির আয়োজন করেন। অনেকেই এ নিয়োগকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।