প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৩৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে সংশোধিত বাজেট ছিল ২৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ বেড়েছে আট হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা ২৭.৯১ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ২৯ হাজার ৪৩১ কোটি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে আট হাজার ৬২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ২৩ হাজার ৫২ কোটি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ছয় হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ২৭.৬৭ শতাংশ বা ছয় হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ২৮.৭২ শতাংশ বা এক হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। গতকাল বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ বাজেটে আমাদের লক্ষ্য থাকবে চলমান প্রণোদনা প্যাকজগুলোর বাস্তবায়ন সফলভাবে শেষ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধারা টেকসই করা।’ প্রস্তাবিত বাজেটে কভিড-১৯ রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ২৯ হাজার ৮৯০ জনকে ১৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা আরো সুলভ করার উদ্দেশ্যে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের আরো ১০০টি কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা, ছয়টি জেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা শিক্ষায় সব স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে এক প্ল্যাটফরমের আওতায় নিয়ে আসা, পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার অবকাঠামো তৈরি, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্য খাতের নতুন উদ্ভাবনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল’-এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তামাকজাতীয় পণ্য, যেমন—তরল নিকোটিনের ওপর ১৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সিগারেট ও সমজাতীয় ইলেকট্রিক ভ্যাপোরাইজার (ভ্যাপ) ডিভাইসের যন্ত্রাংশের শুল্কহার বাড়িয়ে মূল পণ্যের সমান ২১২.২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।