• ই-পেপার

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে নানা প্রশ্ন

পাকিস্তান ছড়াচ্ছে মোদির ফেক ভিডিও

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান ছড়াচ্ছে মোদির ফেক ভিডিও
ছবি : রয়টার্স।

দিল্লিতে চলমান আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেক ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তানি নেটওয়ার্ক থেকে এই অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো-পিআইবি।

আন্দোলনকে বিভ্রান্তি করতে একাধিক ফেক ভিডিও পড়েছে ইন্টারনেটে। এসব ফেক ভিডিওতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন এবং আন্দোলনের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তবে বাস্তবে তাদের কেউ এ ধরনের কোনো কথা বলেননি। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন প্রণয়নের কথাও জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিওতেই এআই দিয়ে তার বক্তব্য বিকৃত করে হুমকিমূলক বার্তা ছড়ানো হয়। একইভাবে, সংসদের বাইরে পীযূষ গোয়েলের দেওয়া একটি বক্তব্যকেও ডিজিটালি বিকৃত করা হয়েছে, যাতে এটিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি এক ধরণের হুমকি বলে মনে হয়।

পিআইবির ফাক্ট চেকিং ইউনিট যাচাই করে দেখেছে, এই ভিডিওগুল এআই দিয়ে বানানো। ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেউ এ ধরনের কোনো হুমকি দেননি বা এ ধরনের কোনো বক্তব্য রাখেননি। পিআইবি দাবি করেছে, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্যই পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ভিডিওগুলো শেয়ার করা হচ্ছে। পিআইবি যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিওর ব্যাপারে তাদের অবহিত করতে অনুরোধ করেছে।
 

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই ২ হাজার ৩১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এটি গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে বছর টিকা না নেওয়া দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। অনেক অভিভাবক টিকা নিয়ে দ্বিধায় থাকায় আগের মতো টিকাদান হচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংক্রমণের ওপর। আগামী নভেম্বরে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্যানেল সিদ্ধান্ত নেবে, যুক্তরাষ্ট্র হাম নির্মূল করা দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে কি না।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশে একই ধরনের হামের ভাইরাস যদি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে টানা ছড়াতে থাকে, তাহলে সেই দেশ হাম নির্মূলের মর্যাদা হারায়। গত বছর কানাডা এই মর্যাদা হারিয়েছে। একই ধরনের ঝুঁকিতে এখন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই সংখ্যা আগের ২৫ বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত বছর টেক্সাসে মেনোনাইট সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেখানে টিকা না নেওয়া দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে টিকা না নেওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্কও হামে মারা যান। এ ছাড়া গত এক মাসে ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে হামের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে উটাহ অঙ্গরাজ্য এখনো গত বছর শুরু হওয়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে পরবর্তী মহামারির মতো উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এ ছাড়া জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। টিকা আবিষ্কারের আগে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশু এই রোগে আক্রান্ত হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম খুব সহজেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়া। ফলে শরীর পরে অন্য সংক্রমণের বিরুদ্ধেও দুর্বল হয়ে পড়ে।

হামের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, হাম সম্পর্কে তার বিভিন্ন মন্তব্য এবং টিকা নীতিতে আনা পরিবর্তন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে। টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশের জন্য পরিচিত কেনেডি এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা নিয়ে একাধিকবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই টিকাকে নিরাপদ ও অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের এমএমআর টিকার দুটি ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি ডোজ এই রোগ থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। তবে কেনেডি নিজেও বলেছেন, এমএমআর টিকাই ‘হামের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’ পাশাপাশি তিনি এমন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিরও প্রচার করেছেন, যেগুলোর কার্যকারিতা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। চলতি বছরের শুরুতে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ সম্প্রতি হাম নির্মূলের মর্যাদা হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘সারা বিশ্বেই হামের সবচেয়ে খারাপ বছর গেছে।’

চলতি বছরের শুরুতে এক ফেডারেল বিচারক কেনেডির নেতৃত্বে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা স্থগিত করেন। ওই পরিকল্পনার মধ্যে শিশুদের জন্য সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৭ থেকে কমিয়ে ১১-তে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও ছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার ঠেকাতে গণরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি করা জরুরি। এর জন্য মোট জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় টিকাদানের হার এর চেয়ে অনেক কম।

এর একটি উদাহরণ দেখা যায় গত বছর সাউথ ক্যারোলাইনার স্পার্টানবার্গ এলাকায়। সেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সম্প্রদায়ের কিছু স্কুলে শিশুদের টিকাদানের হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, যা বিশেষজ্ঞদের মতে বড় ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছে। 


 

‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

গুলির ঘটনার কারণে গত এপ্রিলে স্থগিত হওয়া হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (ডব্লিউএইচসিএ) নৈশভোজে আবারও অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে রসিকতার পাশাপাশি সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের প্রশংসা করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উদ্‌যাপন এবং সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটনে এই নৈশভোজের আয়োজন করে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতি। বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প হালকা রসিকতা করলেও পরে তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ বলে আখ্যা দেন, সেগুলোর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সাংবাদিক ডন লেমন ও লরেন্স ও'ডনেল, রাজনীতিক ক্রিস ক্রিস্টি ও অ্যাডাম শিফ এবং তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জেন ফন্ডাকে কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগের অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের আরো কঠোর সমালোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, 'এই কক্ষে সম্ভবত ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন এমন মানুষই একসঙ্গে বসে আছেন। আগের নৈশভোজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনাদের কেউ কেউ ভাগ্যবান ছিলেন। কারণ, তখন আমি আপনাদের আরো কঠোরভাবে সমালোচনা করতে যাচ্ছিলাম।' এটি ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে অংশগ্রহণ। আগের মেয়াদে তিনি অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিলেন। তবে এবার আগামী বছরও অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিছু সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ সীমিত করেছে এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং পক্ষপাত দূর করতে কাজ করছে।

মূল নৈশভোজটি ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৫ এপ্রিল এক ব্যক্তি নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলরুমের বাইরে শটগান থেকে গুলি ছোড়েন। সে সময় ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের আসনে বসছিলেন। ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কোল অ্যালেন প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলের ছোট একটি ভেন্যুতে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বিদায়ী সভাপতি ও সিবিএস নিউজের সাংবাদিক ওয়েইজিয়া জিয়াং হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'আজ রাতের আমাদের বার্তা হলো, আমরা ফিরে এসেছি। আমরা ভয় পাব না। কোনো ধরনের সহিংসতাকে আমরা শেষ কথা হতে দেব না।' ট্রাম্পও একই ধরনের বার্তা দিয়ে বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক সহিংসতার কাছে মাথা নত করি না। বন্দুক হাতে কোনো উন্মত্ত ব্যক্তি কখনোই এটি বদলে দিতে পারবে না।'

অনুষ্ঠানে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা ভিক্টর গনজালেসকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। এপ্রিলের হামলার সময় নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার সময় হামলাকারীর গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হামলা থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ওই রাতে অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করা ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের কর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান গনজালেস। হামলায় আহত একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও রসিকতা করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি জানি, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের সঙ্গে মানানসই জুতা খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। অনেকেই সেই জ্যাকেট পরতে চাননি। কারণ, তাদের কাছে ২০ পাউন্ড বেশি ভারী দেখানোর চেয়ে মরে যাওয়াই যেন ভালো মনে হয়েছে।' এবারের নৈশভোজে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কোনো কৌতুকশিল্পী ছিলেন না। তার পরিবর্তে বিনোদনের দায়িত্ব পালন করেন মানসিক কৌশল প্রদর্শনকারী শিল্পী অজ পার্লম্যান।
 

প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল
ছবি : রয়টার্স

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে অন্টারিও পর্যন্ত নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

গত সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানলের সৃষ্টি হয়। সেখানে এখনো ৯০টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে ২৫টি জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের কাছে কিম্বার্লির দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক জানান, চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না

প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতে সৃষ্ট এই দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে। ফলে আলবার্টার ব্যানফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কানাডা সরকার। আগুন নেভাতে ৫,৩০০ জনেরও বেশি দক্ষ দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে মেক্সিকো থেকে আরো ২০০ জন দমকলকর্মী আগামী সপ্তাহে কানাডায় পৌঁছাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯.৫ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড় ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আদিবাসী গোষ্ঠীসহ হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুইবেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও আবহাওয়ার সামান্য উন্নতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে যেকোনো সময় আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।