• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু
ছবি : রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। 

এ সময় তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমারকে কটাক্ষ করে তাকে ‘ফিলিস্তিনি’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, তিনি শুমারকে একটি ফিলিস্তিনি পোশাক পাঠাবেন, যাতে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে এলে তিনি সেটি পরে তাকে স্বাগত জানাতে পারেন। 

ইহুদি ধর্মাবলম্বী শুমারকে নিয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, তিনি এখন ‘ফিলিস্তিনি হয়ে গেছেন’ এবং শরিয়া আইনকে শুমারের ‘নতুন আদর্শ’ বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে শুমারকে ‘ফিলিস্তিনি’ বলে অপমানজনকভাবে উল্লেখ করায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও ইহুদি অধিকার সংগঠনগুলো। 

তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প ‘ফিলিস্তিনি’ শব্দটি গালি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সোমবার ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন এবং মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের পাঁচ মাস পূর্তির সময় এই ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে নানা প্রশ্ন
ছবি : রয়টার্স

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে সংগঠনটির নেতারা স্বাগত জানালেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ নিয়ে সমালোচনা করছেন।

তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের দাবিতে এখনও অনড় রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংগঠনটির অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। 

এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সমালোচকদের জবাব দিতে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। 

তিনি বলেন, ‘টানা ২৬ দিন অনশনের পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? গভীর দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ ও শোক নিয়েই এই ভিডিও করছি।’ তিনি আরো জানান, দীর্ঘ অনশন, শারীরিক ধকল, আন্দোলন ও নানা চাপের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনমের দাবি, তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার ওজনও ১১ কেজি কমেছে। এ অবস্থায়ও তার অনশনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

সোনম ওয়াংচুক জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই অনেক মানুষ তাকে ফোন করে এবং সরাসরি দেখা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট দেখিয়েছেন। হাসপাতালেই তিনি জানতে পারেন, তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সোনমের অনশন ভাঙার বিষয়ে সিজেপির মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। কারণ, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে অনশন শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সোনমের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে অনেকের প্রশ্ন, কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙা হলো? কেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকলেন না? কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এসব সমালোচনার জবাব দিতেই ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। 

তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করতে হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন অনশনে থাকতাম? অন্যরা কীভাবে সমঝোতা করে, সেটাও তো সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে আরামদায়ক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তা করতে পারতাম। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় অনাহারে বসে থাকার প্রয়োজন হতো না।’ এ সময় কঠিন পরিস্থিতিতে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। 

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

গুলির ঘটনার কারণে গত এপ্রিলে স্থগিত হওয়া হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (ডব্লিউএইচসিএ) নৈশভোজে আবারও অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে রসিকতার পাশাপাশি সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের প্রশংসা করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উদ্‌যাপন এবং সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটনে এই নৈশভোজের আয়োজন করে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতি। বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প হালকা রসিকতা করলেও পরে তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ বলে আখ্যা দেন, সেগুলোর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সাংবাদিক ডন লেমন ও লরেন্স ও'ডনেল, রাজনীতিক ক্রিস ক্রিস্টি ও অ্যাডাম শিফ এবং তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জেন ফন্ডাকে কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগের অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের আরো কঠোর সমালোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, 'এই কক্ষে সম্ভবত ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন এমন মানুষই একসঙ্গে বসে আছেন। আগের নৈশভোজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনাদের কেউ কেউ ভাগ্যবান ছিলেন। কারণ, তখন আমি আপনাদের আরো কঠোরভাবে সমালোচনা করতে যাচ্ছিলাম।' এটি ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে অংশগ্রহণ। আগের মেয়াদে তিনি অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিলেন। তবে এবার আগামী বছরও অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিছু সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ সীমিত করেছে এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং পক্ষপাত দূর করতে কাজ করছে।

মূল নৈশভোজটি ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৫ এপ্রিল এক ব্যক্তি নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলরুমের বাইরে শটগান থেকে গুলি ছোড়েন। সে সময় ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের আসনে বসছিলেন। ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কোল অ্যালেন প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলের ছোট একটি ভেন্যুতে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বিদায়ী সভাপতি ও সিবিএস নিউজের সাংবাদিক ওয়েইজিয়া জিয়াং হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'আজ রাতের আমাদের বার্তা হলো, আমরা ফিরে এসেছি। আমরা ভয় পাব না। কোনো ধরনের সহিংসতাকে আমরা শেষ কথা হতে দেব না।' ট্রাম্পও একই ধরনের বার্তা দিয়ে বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক সহিংসতার কাছে মাথা নত করি না। বন্দুক হাতে কোনো উন্মত্ত ব্যক্তি কখনোই এটি বদলে দিতে পারবে না।'

অনুষ্ঠানে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা ভিক্টর গনজালেসকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। এপ্রিলের হামলার সময় নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার সময় হামলাকারীর গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হামলা থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ওই রাতে অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করা ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের কর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান গনজালেস। হামলায় আহত একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও রসিকতা করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি জানি, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের সঙ্গে মানানসই জুতা খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। অনেকেই সেই জ্যাকেট পরতে চাননি। কারণ, তাদের কাছে ২০ পাউন্ড বেশি ভারী দেখানোর চেয়ে মরে যাওয়াই যেন ভালো মনে হয়েছে।' এবারের নৈশভোজে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কোনো কৌতুকশিল্পী ছিলেন না। তার পরিবর্তে বিনোদনের দায়িত্ব পালন করেন মানসিক কৌশল প্রদর্শনকারী শিল্পী অজ পার্লম্যান।
 

প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল
ছবি : রয়টার্স

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে অন্টারিও পর্যন্ত নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

গত সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানলের সৃষ্টি হয়। সেখানে এখনো ৯০টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে ২৫টি জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের কাছে কিম্বার্লির দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক জানান, চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না

প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতে সৃষ্ট এই দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে। ফলে আলবার্টার ব্যানফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কানাডা সরকার। আগুন নেভাতে ৫,৩০০ জনেরও বেশি দক্ষ দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে মেক্সিকো থেকে আরো ২০০ জন দমকলকর্মী আগামী সপ্তাহে কানাডায় পৌঁছাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯.৫ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড় ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আদিবাসী গোষ্ঠীসহ হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুইবেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও আবহাওয়ার সামান্য উন্নতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে যেকোনো সময় আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।