• ই-পেপার

হত্যায় ব্যবহার হয় এমন সব সরঞ্জাম নিষিদ্ধ

উত্তম চরিত্র লাভে পঠিতব্য দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
উত্তম চরিত্র লাভে পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষ স্বভাবতই সুন্দর চেহারা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কামনা করে। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়—প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু মুখমণ্ডলের নয়; বরং উত্তম চরিত্র, নম্র আচরণ ও সুন্দর আখলাকই একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে। আল্লাহ তাআলা যেমন আমাদের অবয়বকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তাঁর কাছেই প্রার্থনা করতে হবে যেন তিনি আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এ দোয়াটি পাঠ করতেন।

اللَّهُمَّ أَحْسَنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহসানতা খালকি ফা আহসিন খুলুকি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার চেহারা সুন্দর করেছেন। অতএব, আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৪৩৯২, বাইহাকি, হাদিস : ৪৮৮)

এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ দোয়ার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর আখলাক অর্জনের জন্যও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা উচিত। কারণ মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার চেহারায় নয়, বরং তার চরিত্র, ব্যবহার এবং তাকওয়ায়। কেননা যে সৌন্দর্য মানুষের চোখে ধরা পড়ে, তার চেয়েও মূল্যবান হলো সেই সৌন্দর্য, যা মানুষের হৃদয় জয় করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়।

কোরআনের বাণী

যে আয়াত জালিমদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে আয়াত জালিমদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যেখানে ঈমানের কারণে অসংখ্য মানুষ অকল্পনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু অত্যাচারীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আল্লাহর বিচারের হাত থেকে তারা কখনোই রক্ষা পায় না। পবিত্র কোরআনের সুরা বুরুজের ১০ নম্বর আয়াতটি এমনই এক চিরন্তন ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ

অর্থ : ‘নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের নির্যাতন করেছে, অতঃপর তাওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা।’ (সুরা : বুরুজ, আয়াত :  ১০)

আয়াত নাজিলের ঐতিহাসিক পটভূমি 
এই আয়াতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়—‘আসহাবুল উখদুদ’ বা খাদের অধিবাসীদের ঘটনা। এক জালিম শাসকের রাজ্যে এক জাদুকরের মাধ্যমে রাজত্ব পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে এক কিশোর একজন আল্লাহভীরু সাধকের সংস্পর্শে এসে সত্যের সন্ধান পায় এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান গ্রহণ করে। আল্লাহ তাকে এমন কিছু অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন, যার মাধ্যমে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অত্যাচারী বাদশা ঈমানদারদের ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করতে চায়। যারা ঈমান থেকে ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের জন্য বিশাল বিশাল খাদ খনন করে তাতে আগুন জ্বালানো হয়। এরপর নারী, পুরুষ এমনকি শিশুদেরও জীবন্ত সেই আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। তবুও তারা ঈমান থেকে বিচ্যুত হননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ তাআলা সুরা বুরুজে অত্যাচারীদের কঠিন পরিণতির ঘোষণা দিয়েছেন। (ইবনে কাসির)

শিক্ষা ও বিধান 
এই আয়াত আমাদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে—
১. ঈমানের জন্য পরীক্ষা আসবেই। আল্লাহর পথে চললে বাধা ও নির্যাতন আসতে পারে, কিন্তু সত্যের পথে অবিচল থাকাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
২. জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। যারা ঈমানদারদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং তাওবা করে না, তাদের জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তি নির্ধারিত।
৩. তাওবার দরজা খোলা। আয়াতে ‘অতঃপর তারা তাওবা করেনি’—এই কথাটি প্রমাণ করে, বড় অপরাধ করলেও আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।
৪. আল্লাহ ন্যায়বিচারকারী। দুনিয়ায় জালিমরা পার পেয়ে গেলেও আখিরাতে কেউ আল্লাহর বিচার থেকে রেহাই পাবে না।
৫. নির্যাতিতদের জন্য আশার বার্তা। আল্লাহ সবকিছু দেখেন, জানেন এবং যথাসময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

একজন মুমিনের করণীয়
এই আয়াত তিলাওয়াত করার সময় শুধু শব্দ উচ্চারণ নয়, এর গভীর অর্থ হৃদয়ে ধারণ করা জরুরি। আমাদের উচিত—
১. ঈমানের ওপর অটল থাকা।
২. কোনো মানুষের ওপর জুলুম না করা।
৩. অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো।
৪. নিজের ভুলের জন্য দ্রুত আল্লাহর কাছে তাওবা করা।

সুরা বুরুজের ১০ নম্বর আয়াতটি মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন সতর্কবার্তা। এটি জালিমদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি এবং নির্যাতিত মুমিনদের জন্য আশা ও সান্ত্বনার ঘোষণা। ‘আসহাবুল উখদুদ’-এর ঘটনায় আমরা দেখি, ঈমানের মূল্য কখনো কখনো জীবন দিয়েও পরিশোধ করতে হয়; কিন্তু আল্লাহর কাছে সেই ত্যাগ কখনোই বিফলে যায় না। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত এই আয়াতের প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করা—জুলুম থেকে বেঁচে থাকা, তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্য ও ঈমানের পথে অবিচল থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

‘যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে সমান নয়’

শিক্ষিত আর অশিক্ষিত কখনো সমান নয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
শিক্ষিত আর অশিক্ষিত কখনো সমান নয়
সংগৃহীত ছবি

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না—তারা কি কখনো সমান হতে পারে? উপদেশ গ্রহণ করে তো শুধু বিবেকবানরাই।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৯)

এই আয়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বহু শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হলো—

প্রথমত, ইসলাম জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। কোরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতই ছিল—‘পড়ুন, আপনার সেই রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : আল-আলাক, আয়াত : ১)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (সহিহুল জামে, হাদিস নম্বর : ৩৯১৪)

এ থেকেই বোঝা যায়, ইসলামের ভিত্তিই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয়ত, দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনের প্রতি আন্তরিক হওয়া। একজন সৌভাগ্যবান মুসলিমের কর্তব্য হলো এমন জ্ঞান অর্জনে আন্তরিক হওয়া, যা তার দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে আনে। আল্লাহ তাআলা তাদের নিন্দা করেছেন, যারা কেবল দুনিয়াবি জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, ‘তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয়ই শুধু জানে, কিন্তু আখিরাত সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন।’ (সুরা : আর-রুম, আয়াত : ৭)

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ দুনিয়ার জীবন, উপার্জন ও এর নানা বিষয় ছাড়া আর কিছুই জানে না। তারা দুনিয়ার সম্পদ অর্জনে অত্যন্ত দক্ষ ও বিচক্ষণ; কিন্তু আখিরাতে যা তাদের উপকার করবে, সে সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন। যেন তাদের কোনো বিবেক বা দূরদৃষ্টি নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বিনের গভীর জ্ঞান দান করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘এই হাদিসে জ্ঞানের মর্যাদা, দ্বিনের গভীর জ্ঞান অর্জনের ফজিলত এবং এর প্রতি উৎসাহ আছে। কারণ দ্বিনের জ্ঞানই মানুষকে আল্লাহভীতির দিকে পরিচালিত করে।’

তৃতীয়ত, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকা। যে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেই, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া বা ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়াই জটিল রোগের চিকিৎসা মানুষের কাছে বলে বেড়ায়, তবে সে মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে; এমনকি নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানিরও কারণ হতে পারে। তখন অনুশোচনা করেও কোনো লাভ হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবন হাজার আল-আসকালানি (রহ.)-এর বিখ্যাত উক্তি—‘কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বিষয়ের বাইরে কথা বলে, তখন সে বিস্ময়কর ভুল করে বসে।’

চতুর্থত, জ্ঞানের কোনো শেষ নেই। জ্ঞান এমন এক মহাসাগর, যার কোনো তীর নেই। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২৮২)

আর মানুষের অবস্থা হলো তারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপরে আছেন আরো অধিক জ্ঞানী।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৭৬)

পঞ্চমত, সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের শিক্ষা। এই আয়াত মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়—জ্ঞানী ও অজ্ঞ কি কখনো সমান হতে পারে?

ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘অজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধকারে পথহারা মানুষের মতো। সে ভালো কাজের প্রতিদান আশা করে না এবং মন্দ কাজের শাস্তিকেও ভয় করে না।’

অতএব, সফল মানুষ সেই, যার হৃদয় জ্ঞান অর্জনের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় তাওফিক হলো মানুষ যেন বৈধ সব উপায়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করে এবং প্রত্যেক বিষয়ে নির্ভরযোগ্য, সৎ, আল্লাহভীরু ও সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

ষষ্ঠত, প্রকৃত আলেম সেই, যে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে। জ্ঞান অর্জনের সর্বোচ্চ মর্যাদা তখনই লাভ হয়, যখন একজন ছাত্র বা আলেম নিজেই তার জ্ঞানের প্রথম উপকারভোগী হয়। সে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলে এবং আমল করে। ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘যারা প্রকৃত জ্ঞানী, তারা নিজের জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করে। আর যে ব্যক্তি নিজের জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হয় না এবং সে অনুযায়ী আমলও করে না, সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তিরই সমতুল্য।’

সপ্তমত, আজ জ্ঞান অর্জন থেকে দূরে থাকার কোনো অজুহাত নেই। আল্লাহর অনুগ্রহে বর্তমান যুগে জ্ঞান অর্জনের অসংখ্য সহজ মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, অনলাইন লাইব্রেরি, ইসলামী অ্যাপ, নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন দারস ও ক্লাস—সবই জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছে। তবে জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে—নির্ভরযোগ্য উৎস নির্বাচন করতে হবে। বিশুদ্ধ আকিদা ও সঠিক মানহাজ অনুসরণ করতে হবে। কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে চলতে হবে। সালাফে সালেহিনের মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে।

অষ্টমত, এই আয়াত জীবনের সব ধরনের জ্ঞানের ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আয়াত শুধু শরিয়তের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামী জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং মানবজীবনের সব উপকারী জ্ঞানের ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। মানুষের মর্যাদা তার জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। যে ব্যক্তি নিজের পছন্দের বা কর্মক্ষেত্রের বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে, সে সমাজে আস্থা, সম্মান ও নেতৃত্বের স্থান লাভ করে।

নবমত, ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি হলো জ্ঞান। যে ব্যক্তি সমাজ বা জাতি জ্ঞান অর্জনকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তাকে বিরাট সফলতা দান করেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়—
শিক্ষিত ব্যক্তি ও অশিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষিত সমাজ ও অশিক্ষিত সমাজের উন্নতির ব্যবধানও অত্যন্ত বড়। একটি জাতির অগ্রগতি, সভ্যতা, স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব অনেকাংশেই তার শিক্ষার মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্ঞানার্জন, জ্ঞানচর্চা এবং জ্ঞানের প্রসারই ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণ, স্থিতিশীলতা, উৎকর্ষ ও উন্নতির সর্বোত্তম ও একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে জ্ঞান মানুষকে মর্যাদাবান করে, সত্যের পথে পরিচালিত করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার দ্বার উন্মুক্ত করে। তবে সেই জ্ঞানই প্রকৃত কল্যাণকর, যা আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে, আমলে পরিণত হয় এবং মানুষের উপকারে আসে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৫ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৫ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১০ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৪৯ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১১ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৪ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।