• ই-পেপার

প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল

সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ায় সিজেপি আন্দোলন থেকে দূরে শাবানা আজমি

অনলাইন ডেস্ক
সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ায় সিজেপি আন্দোলন থেকে দূরে শাবানা আজমি
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষার্থীদের চলমান সিজেপি আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমির সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়েছে। ১০২ ডিগ্রি জ্বর হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।

শাবানা আজমির দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, 'শাবানা জির আজ আন্দোলনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার সোয়াইন ফ্লু হয়েছে। তার ১০২ ডিগ্রি জ্বর। চিকিৎসক তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।' সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সিজেপি আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন শাবানা আজমি। চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম দিকের একজন, যিনি প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বহুল আলোচিত ‘চলো সংসদ’ মিছিলে অংশ নেন। সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তিনিও হাঁটেন। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের জন্য অনেকে তাকে প্রশংসা করেন।

গত ২০ জুলাই সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো নাগরিকের সঙ্গে যোগ দেন শাবানা আজমি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন। একটি ছবিতে তাকে প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চারপাশে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার খবরকে স্বাগত জানান শাবানা। তিনি বলেন, এই আন্দোলন একটি 'শান্তিপূর্ণ আন্দোলন'। আন্দোলন নিয়ে যেসব নেতিবাচক অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে শাবানা লেখেন, 'তরুণ সহকর্মীদের সহায়তায় যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে উঠছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে আমরা এখানে এসেছি।' তিনি আরো বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দ করা উচিত। তার মতে, দেশের উন্নতির মানদণ্ড হিসেবেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ ছাড়া তিনি তার বাবা, বিখ্যাত কবি কাইফি আজমির একটি কবিতা আবৃত্তির ভিডিওও শেয়ার করেন। শাবানা বলেন, সত্য কথা বলার কারণে মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, তার বাবার কবিতাগুলো সেই বাস্তবতা তুলে ধরে।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাবানা আজমি জানান, আন্দোলনের সময় কাঁদানে গ্যাসের কারণে তার হাঁপানির সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, 'আমি হাঁপানির রোগী। কাঁদানে গ্যাসের কারণে আমার হাঁপানির আক্রমণ হয়েছিল। তবে আমার ইনহেলার সঙ্গে ছিল। তাই এখন আমি ভালো আছি।' তিনি জানান, তাকে সম্মানের সঙ্গে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর শ্বাস স্বাভাবিক হলে তিনি আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে যান। শাবানা বলেন, লাঠিচার্জের শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাদের মনোবল দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, 'যেসব শিক্ষার্থীকে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মনোবল সত্যিই নজিরবিহীন। তাদের সবাইকে আমার সালাম।'

আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাবানা বলেন, তিনি যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে। তিনি বলেন, '২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা অনশন করছে। তাদের শারীরিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। তারা যে দাবি করছে, তা কোনো খারাপ দাবি নয়।' শাবানার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, 'তাদের কথা শুনুন। তাদের দাবিকে গুরুত্ব দিন। তাদের আশা দিন।'

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর আন্দোলন আরো জোরালো হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অনশন শেষ করেন। গত ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নয়াদিল্লিতে জড়ো হন। তারা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে সংসদের দিকে মিছিল করেন। তবে দিল্লি পুলিশ সেই মিছিল আটকে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র আলোচনা হয়। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে কথিত নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
 

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে নানা প্রশ্ন
ছবি : রয়টার্স

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে সংগঠনটির নেতারা স্বাগত জানালেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ নিয়ে সমালোচনা করছেন।

তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের দাবিতে এখনও অনড় রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংগঠনটির অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। 

এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সমালোচকদের জবাব দিতে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। 

তিনি বলেন, ‘টানা ২৬ দিন অনশনের পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? গভীর দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ ও শোক নিয়েই এই ভিডিও করছি।’ তিনি আরো জানান, দীর্ঘ অনশন, শারীরিক ধকল, আন্দোলন ও নানা চাপের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনমের দাবি, তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার ওজনও ১১ কেজি কমেছে। এ অবস্থায়ও তার অনশনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

সোনম ওয়াংচুক জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই অনেক মানুষ তাকে ফোন করে এবং সরাসরি দেখা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট দেখিয়েছেন। হাসপাতালেই তিনি জানতে পারেন, তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সোনমের অনশন ভাঙার বিষয়ে সিজেপির মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। কারণ, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে অনশন শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সোনমের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে অনেকের প্রশ্ন, কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙা হলো? কেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকলেন না? কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এসব সমালোচনার জবাব দিতেই ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। 

তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করতে হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন অনশনে থাকতাম? অন্যরা কীভাবে সমঝোতা করে, সেটাও তো সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে আরামদায়ক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই তা করতে পারতাম। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় অনাহারে বসে থাকার প্রয়োজন হতো না।’ এ সময় কঠিন পরিস্থিতিতে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। 

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই ২ হাজার ৩১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এটি গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে বছর টিকা না নেওয়া দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। অনেক অভিভাবক টিকা নিয়ে দ্বিধায় থাকায় আগের মতো টিকাদান হচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংক্রমণের ওপর। আগামী নভেম্বরে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্যানেল সিদ্ধান্ত নেবে, যুক্তরাষ্ট্র হাম নির্মূল করা দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে কি না।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশে একই ধরনের হামের ভাইরাস যদি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে টানা ছড়াতে থাকে, তাহলে সেই দেশ হাম নির্মূলের মর্যাদা হারায়। গত বছর কানাডা এই মর্যাদা হারিয়েছে। একই ধরনের ঝুঁকিতে এখন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই সংখ্যা আগের ২৫ বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত বছর টেক্সাসে মেনোনাইট সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেখানে টিকা না নেওয়া দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে টিকা না নেওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্কও হামে মারা যান। এ ছাড়া গত এক মাসে ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে হামের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে উটাহ অঙ্গরাজ্য এখনো গত বছর শুরু হওয়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে পরবর্তী মহামারির মতো উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এ ছাড়া জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। টিকা আবিষ্কারের আগে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশু এই রোগে আক্রান্ত হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম খুব সহজেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়া। ফলে শরীর পরে অন্য সংক্রমণের বিরুদ্ধেও দুর্বল হয়ে পড়ে।

হামের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, হাম সম্পর্কে তার বিভিন্ন মন্তব্য এবং টিকা নীতিতে আনা পরিবর্তন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে। টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশের জন্য পরিচিত কেনেডি এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা নিয়ে একাধিকবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই টিকাকে নিরাপদ ও অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের এমএমআর টিকার দুটি ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি ডোজ এই রোগ থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। তবে কেনেডি নিজেও বলেছেন, এমএমআর টিকাই ‘হামের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’ পাশাপাশি তিনি এমন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতিরও প্রচার করেছেন, যেগুলোর কার্যকারিতা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। চলতি বছরের শুরুতে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ সম্প্রতি হাম নির্মূলের মর্যাদা হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘সারা বিশ্বেই হামের সবচেয়ে খারাপ বছর গেছে।’

চলতি বছরের শুরুতে এক ফেডারেল বিচারক কেনেডির নেতৃত্বে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা স্থগিত করেন। ওই পরিকল্পনার মধ্যে শিশুদের জন্য সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৭ থেকে কমিয়ে ১১-তে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও ছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার ঠেকাতে গণরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি করা জরুরি। এর জন্য মোট জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় টিকাদানের হার এর চেয়ে অনেক কম।

এর একটি উদাহরণ দেখা যায় গত বছর সাউথ ক্যারোলাইনার স্পার্টানবার্গ এলাকায়। সেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সম্প্রদায়ের কিছু স্কুলে শিশুদের টিকাদানের হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, যা বিশেষজ্ঞদের মতে বড় ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছে। 


 

‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে রসিকতা ও কটাক্ষে ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

গুলির ঘটনার কারণে গত এপ্রিলে স্থগিত হওয়া হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (ডব্লিউএইচসিএ) নৈশভোজে আবারও অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে রসিকতার পাশাপাশি সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের প্রশংসা করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উদ্‌যাপন এবং সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটনে এই নৈশভোজের আয়োজন করে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতি। বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প হালকা রসিকতা করলেও পরে তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ বলে আখ্যা দেন, সেগুলোর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সাংবাদিক ডন লেমন ও লরেন্স ও'ডনেল, রাজনীতিক ক্রিস ক্রিস্টি ও অ্যাডাম শিফ এবং তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জেন ফন্ডাকে কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগের অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের আরো কঠোর সমালোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, 'এই কক্ষে সম্ভবত ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন এমন মানুষই একসঙ্গে বসে আছেন। আগের নৈশভোজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনাদের কেউ কেউ ভাগ্যবান ছিলেন। কারণ, তখন আমি আপনাদের আরো কঠোরভাবে সমালোচনা করতে যাচ্ছিলাম।' এটি ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে অংশগ্রহণ। আগের মেয়াদে তিনি অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিলেন। তবে এবার আগামী বছরও অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিছু সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ সীমিত করেছে এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং পক্ষপাত দূর করতে কাজ করছে।

মূল নৈশভোজটি ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৫ এপ্রিল এক ব্যক্তি নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলরুমের বাইরে শটগান থেকে গুলি ছোড়েন। সে সময় ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের আসনে বসছিলেন। ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কোল অ্যালেন প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলের ছোট একটি ভেন্যুতে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির বিদায়ী সভাপতি ও সিবিএস নিউজের সাংবাদিক ওয়েইজিয়া জিয়াং হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'আজ রাতের আমাদের বার্তা হলো, আমরা ফিরে এসেছি। আমরা ভয় পাব না। কোনো ধরনের সহিংসতাকে আমরা শেষ কথা হতে দেব না।' ট্রাম্পও একই ধরনের বার্তা দিয়ে বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক সহিংসতার কাছে মাথা নত করি না। বন্দুক হাতে কোনো উন্মত্ত ব্যক্তি কখনোই এটি বদলে দিতে পারবে না।'

অনুষ্ঠানে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা ভিক্টর গনজালেসকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। এপ্রিলের হামলার সময় নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার সময় হামলাকারীর গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হামলা থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ওই রাতে অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করা ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের কর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান গনজালেস। হামলায় আহত একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও রসিকতা করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি জানি, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের সঙ্গে মানানসই জুতা খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। অনেকেই সেই জ্যাকেট পরতে চাননি। কারণ, তাদের কাছে ২০ পাউন্ড বেশি ভারী দেখানোর চেয়ে মরে যাওয়াই যেন ভালো মনে হয়েছে।' এবারের নৈশভোজে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কোনো কৌতুকশিল্পী ছিলেন না। তার পরিবর্তে বিনোদনের দায়িত্ব পালন করেন মানসিক কৌশল প্রদর্শনকারী শিল্পী অজ পার্লম্যান।