• ই-পেপার

সালমান খান কেন বললেন, ‘যে ভয় পায়, সে মরে যায়'

আইসিসিবি হেরিটেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্র্যান্ড কাওয়ালি নাইট’

অনলাইন ডেস্ক
আইসিসিবি হেরিটেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্র্যান্ড কাওয়ালি নাইট’

সুর, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা-এর আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্র্যান্ড কাওয়ালি নাইট – সিজন ২’-এর প্রথম পর্ব। প্রাণবন্ত পরিবেশ, মনোমুগ্ধকর লাইভ কাওয়ালি পরিবেশনা এবং রাজকীয় মুঘল খাবারের সমন্বয়ে সন্ধ্যাটি পরিণত হয় এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা লাইভ সুফি ও কাওয়ালি সংগীতের মুগ্ধতায় যেমন আপ্লুত হন, তেমনি উপভোগ করেন হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন মুঘল থালি। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। প্রথম পর্বের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্র্যান্ড কাওয়ালি নাইট – সিজন ২’-এর দ্বিতীয় পর্ব।

আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট সকল ভোজনরসিক, সংগীতপ্রেমী ও শুভানুধ্যায়ীদের আগামী আয়োজনে অংশগ্রহণের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সুরের মূর্ছনা, রাজকীয় খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে একটি ব্যতিক্রমী সন্ধ্যা উপভোগ করতে এখনই আপনার আসনটি সংরক্ষণ করুন। রিজার্ভেশনের জন্য যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে ০১৯৯১১৯৭৭১৯ নাম্বারে। সুরের আবেশে, ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় আবার দেখা হবে আগামী ৩১ জুলাই।

সালমানের প্রস্তাব নাকচ, দেনা নিয়েই থেকে যান রাজেশ খান্না

অনলাইন ডেস্ক
সালমানের প্রস্তাব নাকচ, দেনা নিয়েই থেকে যান রাজেশ খান্না

হিন্দি সিনেমার প্রথম ‘সুপারস্টার’ বলা হয় রাজেশ খান্নাকে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অভিনয় জীবন শুরু করে সত্তরের দশক জুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা উপভোগ করেছেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তার চূড়ায় থাকাকালেই জড়িয়ে পড়েন নানা সংকটে, যার কেন্দ্রে ছিল মুম্বাইয়ের কার্টার রোডের বিখ্যাত বাংলো ‘আশীর্বাদ’।

৫০-এর দশকে এই বাংলোটির মালিক ছিলেন অভিনেতা ভরত ভূষণ, পরে তা কিনেন রাজেন্দ্র কুমার এবং নিজের মেয়ের নামে নাম রাখেন ‘ডিম্পল’। সত্তরের দশকে রাজেন্দ্রর কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় এটি কিনে নেন রাজেশ খান্না। শর্ত অনুযায়ী রাজেন্দ্রর কথাতেই তিনি এর নাম পাল্টে রাখেন ‘আশীর্বাদ’। একসময় এই বাংলোর সামনে উপচে পড়ত হাজার হাজার অনুরাগীর ভিড়। 

তবে সত্তরের দশকের শেষভাগে অমিতাভ বচ্চনের উত্থান এবং অ্যাংরি ইয়াং ম্যান ইমেজের জনপ্রিয়তার কারণে রাজেশের ছবি একের পর এক বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে শুরু করে। ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন এই অভিনেতা। এমনকি তার সঙ্গে কাজ করতেও অনীহা দেখান পরিচালকরা। একপর্যায়ে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে একাকী বাংলোয় না থেকে লিঙ্কিং রোডের অফিসে সময় কাটাতে থাকেন তিনি। এমন জটিল পরিস্থিতিতে বাংলোটির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকার কর বাকি পড়ে যায়।

ঠিক এই সময়ে রাজেশের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চান সালমান খান। চিত্রনাট্যকার রুমি জাফরির মাধ্যমে সালমান প্রস্তাব পাঠান, তিনি বাজারমূল্য দিয়ে বাংলোটি কিনতে চান। বিনিময়ে রাজেশের সমস্ত ঋণ শোধ করার পাশাপাশি তার প্রযোজনা সংস্থার একটি ছবিতে বিনামূল্যে অভিনয় করারও প্রস্তাব দেন। কিন্তু এমন প্রস্তাব পেয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন রাজেশ খান্না এবং তা সরাসরি নাকচ করে দেন।

শেষ পর্যন্ত আমৃত্যু এই বাংলোতেই বসবাস করেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে ‘আশীর্বাদ’ বাংলোটি ৯০ কোটি টাকায় এক শিল্পপতির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বড় পর্দায় ‘রামায়ণ’ দেখতে চান রণবীর কাপুর

অনলাইন ডেস্ক
মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বড় পর্দায় ‘রামায়ণ’ দেখতে চান রণবীর কাপুর

আসন্ন ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্রে ভগবান রামের ভূমিকায় দেখা যাবে রণবীর কাপুরকে। তবে পৌরাণিক এই কালজয়ী চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব যখন প্রথম তার কাছে আসে, তখন তিনি সংশয়ে ছিলেন। সম্প্রতি এক কমিক-কন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

রণবীর জানান, প্রস্তাব পাওয়ার পর তার মনে প্রথম প্রশ্ন জেগেছিল—তিনি এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত কি না। তবে সেই ভয় খুব দ্রুতই কৃতজ্ঞতায় রূপ নেয়। তিনি বিষয়টিকে একটি বিশেষ আশীর্বাদ, জীবনের সেরা সুযোগ এবং বড় এক নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। রণবীরের ভাষায়, ‘রামায়ণ আমাদের অবচেতন মনে গেঁথে আছে। ৪০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভগবান রাম কোটি কোটি মানুষের বিবেক রক্ষক এবং প্রতিকূলতার মুখে মানব আত্মার বিজয়ের প্রতীক। এমন একজন সাহসী, দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্বকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই অনেক দায়িত্বের।’

ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে রণবীর আরো উল্লেখ করেন, সিনেমাটি দেখার জন্য তার অধীর আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তার মেয়ে রাহা কাপুর। বড় পর্দায় রামায়ণ-এর মাধ্যমে রাহাকে প্রথমবারের মতো ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে হলে বসে ছবিটি দেখতে তিনি অত্যন্ত মুখিয়ে আছেন।

পৌরাণিক কাহিনীর অন্যতম শ্রদ্ধেয় চরিত্রটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেতা বলেন, খুব শুরুতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই রূপায়ণের জন্য অটুট বিশ্বাস, সততা ও মহৎ উদ্দেশ্য প্রয়োজন। সিনেমাটির পুরো কলাকুশলী দল গল্পটিকে শতভাগ প্রামাণিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সোয়াইন ফ্লু

সিজেপি আন্দোলনে থাকছেন না শাবানা আজমি

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপি আন্দোলনে থাকছেন না শাবানা আজমি
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষার্থীদের চলমান সিজেপি আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমির সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়েছে। ১০২ ডিগ্রি জ্বর হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।

শাবানা আজমির দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শাবানা জির আজ আন্দোলনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার সোয়াইন ফ্লু হয়েছে। তার ১০২ ডিগ্রি জ্বর। চিকিৎসক তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।’ সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সিজেপি আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন শাবানা আজমি। চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম দিকের একজন, যিনি প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বহুল আলোচিত ‘চলো সংসদ’ মিছিলে অংশ নেন। সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তিনিও হাঁটেন। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের জন্য অনেকে তাকে প্রশংসা করেন।

গত ২০ জুলাই সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো নাগরিকের সঙ্গে যোগ দেন শাবানা আজমি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন। একটি ছবিতে তাকে প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চারপাশে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার খবরকে স্বাগত জানান শাবানা। তিনি বলেন, এই আন্দোলন একটি ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’। আন্দোলন নিয়ে যেসব নেতিবাচক অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে শাবানা লেখেন, ‘তরুণ সহকর্মীদের সহায়তায় যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে উঠছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে আমরা এখানে এসেছি।’ তিনি আরো বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দ করা উচিত। তার মতে, দেশের উন্নতির মানদণ্ড হিসেবেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ ছাড়া তিনি তার বাবা, বিখ্যাত কবি কাইফি আজমির একটি কবিতা আবৃত্তির ভিডিওও শেয়ার করেন। শাবানা বলেন, সত্য কথা বলার কারণে মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, তার বাবার কবিতাগুলো সেই বাস্তবতা তুলে ধরে।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাবানা আজমি জানান, আন্দোলনের সময় কাঁদানে গ্যাসের কারণে তার হাঁপানির সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি হাঁপানির রোগী। কাঁদানে গ্যাসের কারণে আমার হাঁপানির আক্রমণ হয়েছিল। তবে আমার ইনহেলার সঙ্গে ছিল। তাই এখন আমি ভালো আছি।’ তিনি জানান, তাকে সম্মানের সঙ্গে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর শ্বাস স্বাভাবিক হলে তিনি আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে যান। শাবানা বলেন, লাঠিচার্জের শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাদের মনোবল দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীকে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মনোবল সত্যিই নজিরবিহীন। তাদের সবাইকে আমার সালাম।’

আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাবানা বলেন, তিনি যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে। তিনি বলেন, ‘২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা অনশন করছে। তাদের শারীরিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। তারা যে দাবি করছে, তা কোনো খারাপ দাবি নয়।’ শাবানার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কথা শুনুন। তাদের দাবিকে গুরুত্ব দিন। তাদের আশা দিন।’

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর আন্দোলন আরো জোরালো হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অনশন শেষ করেন। গত ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নয়াদিল্লিতে জড়ো হন। তারা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে সংসদের দিকে মিছিল করেন। তবে দিল্লি পুলিশ সেই মিছিল আটকে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র আলোচনা হয়। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে কথিত নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।