• ই-পেপার

আজও ভারতের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে সিজেপি

ছাত্রদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত: রাহুল গান্ধী

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত: রাহুল গান্ধী

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থক আহত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন। 

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দলের সাংসদরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নৃশংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চান। 

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল। দেশের তরুণদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা যায় না। তাদের ভবিষ্যৎ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, আর সেই কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছে।’ তার মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে তরুণদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

 

তিনি আরো বলেন, ‘এটি শুধু শিক্ষা খাতের বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই ছাত্রদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত এবং তাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।’

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে যাবেন। বিক্ষোভে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা আর সংসদ অভিমুখে নতুন করে কোনো পদযাত্রা করবে না। মঙ্গলবার দলের প্রধান অভিজিৎ দিপকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হওয়ার পর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য এখন আর কোনো আন্দোলনকারী, বিশেষ করে তরুণদের, ঝুঁকির মুখে না ফেলা। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে আহত হওয়া ঘিটোর্নির ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বর্তমানে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ (এলএইচএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হালকা আহত কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চোখে পেলেটের আঘাত পাওয়া আরেক বিক্ষোভকারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আহত এক তরুণী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। মিছিল আটকে দিতে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে আহত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পদক্ষেপে অনেক বিক্ষোভকারী, বিশেষ করে তরুণীরা, মারধরের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, আহত সমর্থকদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের আচরণ ছিল অমানবিক এবং তাদের রক্ষা করতে তিনি আরও বেশি কিছু করতে পারতেন।

পোস্টে তিনি আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দীপকে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে এবং তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

জাতিসংঘের কাছে ইরানের হামলার ক্ষতিপূরণ চায় কাতার

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘের কাছে ইরানের হামলার ক্ষতিপূরণ চায় কাতার
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক ইরানের একের পর এক হামলার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কাতার। চিঠিতে হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে কাতার এসব ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

দোহার অভিযোগ, কাতারের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং দেশটির ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে কাতার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কাতার।

চিঠিতে কাতার দাবি করেছে, ইরান দেশটির ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। গত ৭ জুলাই কাতারের তেলবাহী জাহাজ আল রেকাইয়াত-এ হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ১২ জুলাই কাতারের ওপর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও বলা হয়েছে চিঠিটিতে। যদিও ওই হামলা দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে কাতার।

কাতারের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে ইরান। তাই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য কাতার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজকে ঘিরে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট দিয়ে চলাচল করছিল। 

তবে ইরানের দাবি, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে এ রুট ব্যবহার করা মানে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে এ রুট ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২৭৮

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২৭৮
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় গত মাসে হওয়া দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে  পাঁচ হাজার ২৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৪ জুন আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২ ও ৭.৫। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জনে রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত ২৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। স্টেডিয়াম, গণচত্বর ও অন্যান্য স্থানে গড়ে তোলা এসব শিবিরে স্বেচ্ছাসেবকেরা চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন।
 

চিলিতে প্রবল বৃষ্টিতে নিহত ১০, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
চিলিতে প্রবল বৃষ্টিতে নিহত ১০, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

চিলির উত্তরাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ১০ জন নিহত, ১৭ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। বৃষ্টিতে  এক হাজার ১০০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

গত সপ্তাহ থেকে সাধারণত শুষ্ক কোকিম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এসব এলাকায় এত ভারি বৃষ্টি খুবই বিরল ঘটনা। চিলির জাতীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা সেনাপ্রেডের পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান জানান, বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

রাষ্ট্রপতি হোসে আন্তোনিও কাস্ট বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই আরো গুরুতর হয়ে উঠছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর ফলে সরকার দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পাঠানো, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে।

প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোকিম্বো অঞ্চলে কাদা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ম্যাক্সিমো পাভেজ জানান, কিছু এলাকায় এক ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত পুরো এক মাসে হয়। তিনি এই পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক ও চরম বলে বর্ণনা করেন। 

জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা আর্নাল্ডো জুনিগা বলেন, গত দুই দশকে চিলিতে এত বেশি বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। তার মতে, বহু বছর পর দেশটি এমন চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।