• ই-পেপার

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২৭৮

লোহিত সাগরে বন্ধ হচ্ছে সৌদির নৌবাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগরে বন্ধ হচ্ছে সৌদির নৌবাণিজ্য
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হওয়া এই প্রণালি দিয়ে এবার সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ চলাচলে কঠোর হামলার শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ‘অন্যায়ভাবে’ অবরোধ এবং গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার পর এ ঘোষণা আসে।

ঘোষিত এই নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছে হুথিদের সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি)। সেখানে সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০ জুলাই পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়, ‘সৌদি আরবের কোনো বন্দরে বা সেখান থেকে কোনো জাহাজ পণ্য লোড বা আনলোড করতে পারবে না।’

আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, ‘নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে হুথিদের সামরিক সক্ষমতার আওতায় যেকোনো স্থানে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।’

1

এ বিষয়ে এক হুথি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইয়েমেনের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের ‘অন্যায়ভাবে অবরোধের’ জবাবে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি জাহাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়। অন্যদিকে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক মুইউ জু রয়টার্সকে জানান, বর্তমানে সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ লোহিত সাগরপথের এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে।

এদিকে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মঙ্গলবার ভোরে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর জাহাজটির নাবিকরা সেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

টানা দশম রাতের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালালেও এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেনি তেহরান। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ ফিরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের নতুন হুমকি কার্যকর হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

অনলাইন ডেস্ক
মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন কংগ্রেস নেতারা।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে। 

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসেছি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে মিছিলের এক দিন পর মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

সূত্রের বরাতে সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে সারা রাত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে (রাহুল গান্ধী), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্য নেতাদের সেখান থেকে আটক করে।

পুলিশি অভিযানের সময় রাহুল গান্ধী রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং তিনি বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী দেশবাসীকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর আক্রমণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, তিনি কোনো জবাবদিহি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু এবার তা হবে না। যারা মনে করেন শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন।’

বীমার টাকার লোভে বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
বীমার টাকার লোভে বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাট জেলার হস্তিনাপুরে ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার অর্থ হাতিয়ে নিতে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, ৩০ বছর বয়সী দামিনি পাওয়ার তার কথিত প্রেমিক তুষার কুমারের (৩৪) সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামী অতুল পাওয়ারকে (৩২) হত্যা করেন। তদন্তে জানা গেছে, প্রথমে অতুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তার গায়ের কম্বলের ভেতরে একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে অতুলের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় দামিনি তাদের ছয় বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে অন্য একটি কক্ষে চলে যান।

প্রাথমিকভাবে দামিনি পুলিশকে জানান, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে তিনি ঘরে ফিরে এসে অতুলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। বিছানার ওপর একটি সাপ দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে অতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বাড়ির ভেতরে পাওয়া সাপটিকে স্থানীয় লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলে।

মীরাটের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) অবিনাশ পাণ্ডে জানান, সাত বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন দামিনি ও অতুল। প্রায় তিন মাস আগে তারা একটি প্লে-স্কুল চালু করেন। এরপর স্কুলভ্যানের চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তুষারকে। তদন্তে দেখা যায়, দামিনি ও তুষারের মধ্যে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ ছিল।

তিনি আরো জানান, তুষারের মোবাইল ফোনে একটি বাক্সে রাখা বিষধর সাপের ছবি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, দামিনির অনুরোধে দুই সাপুড়ের কাছ থেকে ওই বিষধর সাপটি কেনা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, অতুলের মৃত্যুর পর তার ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার অর্থ দাবি করা হবে। এরপর তুষার তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনিকে বিয়ে করবেন।

এ ঘটনায় সাপ সরবরাহের অভিযোগে সোনু কুমার ও উদয় কুমার নামে আরো দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩(১) ধারায় (হত্যা) এবং ১২৩ ধারায় (বিষ, মাদক বা অচেতনকারী পদার্থ কিংবা অনুরূপ উপায়ে ক্ষতি সাধন) মামলা করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নেই : ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নেই : ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ ইসরায়েলের নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ।

মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত পরিসরে সংঘাত চলছে, সেটিই আমাদের জন্য সঠিক এবং সবচেয়ে ভালো। আমরা এতে নিজেদের জড়াতে চাই না।’

প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও ইসরায়েল এ লড়াই থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর আলোচনা চলাকালে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে সংঘাত থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে।