• ই-পেপার

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আগে দেখার সেবা বিক্রি করবে ট্রাম্প মিডিয়া

তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ
ছবি: রয়টার্স

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে চীনের গৃহস্থালি যন্ত্র নির্মাতা ‘মিডিয়া’র বহনযোগ্য এসি ‘পোর্টাস্প্লিট’ এই গ্রীষ্মে ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত পণ্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশে বাজারে আসার পরপরই এটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুনরায় বিক্রির ওয়েবসাইটগুলোতে এটি স্বাভাবিক দামের দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ বছর পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার হয়েছে। জার্মানির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকটি তাপপ্রবাহ হতে পারে। এর ফলে যেসব দেশে আগে এসির ব্যবহার তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন এসব যন্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জার্মানির হামেলিন শহরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী প্রকৌশলী স্টিভেন শোলটিসেক কয়েক মাস আগে একটি চিলেকোঠার ফ্ল্যাটে ওঠেন। এমন ফ্ল্যাট গরমের সময় খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গরমের দিনে ছাদের নিচের এসব ফ্ল্যাটে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর তিনি মিডিয়ার তৈরি পোর্টাস্প্লিট এসি কেনেন। তার ভাষায়, এই যন্ত্র কেনার পর পুরো পরিস্থিতিই বদলে গেছে। এখন তীব্র গরমেও তিনি স্বস্তিতে থাকতে পারছেন। শুধু জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অনেক ব্যবহারকারী।

মিডিয়া আগে ইউরোপে খুব পরিচিত ব্র্যান্ড ছিল না। তবে পোর্টাস্প্লিট বাজারে আসার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দোকানে থাকা এসব যন্ত্র দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। পরে অনেক ক্রেতা সেগুলো অনলাইনে পুনরায় বিক্রির জন্য তুলেছেন। সেখানে প্রায় ৭৫০ ইউরো দামের যন্ত্র দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কোথায় এই এসি পাওয়া যাচ্ছে, তা জানাতে ‘মিডিয়াফাইন্ডার’ নামে একটি আলাদা ওয়েবসাইটও চালু হয়েছে।

ইউরোপের অনেক শহরে পুরোনো ও ঐতিহাসিক ভবনের বাইরের দেয়ালে ছিদ্র করে প্রচলিত এসির বাইরের ইউনিট বসানোর ওপর কঠোর নিয়ম রয়েছে। ফলে অনেক বাসিন্দা চাইলে সাধারণ এসি লাগাতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে পোর্টাস্প্লিট। এতে একটি হালকা বাইরের ইউনিট থাকে, যা ব্যবহারকারীরা সহজেই জানালার বাইরে বসাতে পারেন। এজন্য ভবনের দেয়ালে কোনো পরিবর্তন করতে হয় না। মিডিয়ার দাবি, এই যন্ত্র ইউরোপের অধিকাংশ ধরনের জানালার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার বাসিন্দা ডেনিস ইউরচাক বলেন, মিডিয়া এই সমস্যার খুব কার্যকর একটি সমাধান বের করেছে। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে তাপপ্রবাহের সময় এসি খুঁজতে গিয়ে প্রথম পোর্টাস্প্লিট সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে অনলাইনে ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক মতামত দেখে তিনি এটি কেনেন। তার ভাষায়, এখন এই যন্ত্রকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবহারকারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর প্রতিদিনই অনেক মানুষ তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইছেন। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি দিন-রাত প্রায় সারাক্ষণ এসিটি চালিয়ে রেখেছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’কে মিডিয়া জানিয়েছে, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে তাদের এসি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও বিবিসির কাছে প্রতিষ্ঠানটির ইউরোপ কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। শুধু মিডিয়াই নয়, চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান 'টিসিএল' জানিয়েছে, শুধু ফ্রান্সেই তাদের এসি বিক্রি ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এসি নির্মাতা চীনের ‘গ্রি’ও বলেছে, এ গ্রীষ্মে তাদের পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের অনেক ক্রেতাই জীবনে প্রথমবারের মতো এসি কিনছেন। কারণ ইউরোপে এখন আগের তুলনায় তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।

তবে এসির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের প্রায় সাত শতাংশ খরচ হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে। এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প খাত থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই-অক্সাইডের ২ দশমিক ৭ শতাংশের জন্যও এসব যন্ত্র দায়ী। এ কারণে ইউরোপের পরিবেশবাদী এবং অনেক রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই এসির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, এসি ভবনের ভেতর ঠাণ্ডা করলেও বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দেয়। ফলে জনবহুল এলাকায় বাইরের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। আবার অনেকের মতে, বছরে মাত্র কয়েক দিনের গরমের জন্য এসি কেনা অর্থের অপচয়। তবে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের পর অনেক মানুষের এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। জুনের শেষ দিকে ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড হয়। তীব্র গরমের কারণে সে সময় শত শত স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এর কয়েক দিন পর দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, স্কুল ও কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে পাখা, এসি এবং অন্যান্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনে তারা ৮ কোটি ইউরো ব্যয় করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপ কার্যালয় বলেছে, এসি ব্যবহার করতে হবে পরিস্থিতি বুঝে এবং ভারসাম্য রেখে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাপপ্রবাহ মোকাবেলার টেকসই সমাধান নয়। তবে চরম গরমে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষায় এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সংবাদমাধ্যমগুলো পোর্টাস্প্লিটের জনপ্রিয়তাকে ‘চীনে তৈরি’ পণ্যের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। এত দিন ইউরোপে চীনা পণ্যকে তুলনামূলক কম মানের ও সস্তা বলে মনে করা হতো। তবে অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, পোর্টাস্প্লিট ব্যবহারের পর তাদের সেই ধারণা বদলেছে। জার্মানির স্টিভেন শোলটিসেক বলেন, যন্ত্রটির নকশা ও মান তাকে ইতিবাচকভাবে অবাক করেছে। তার মতে, এটি ইউরোপের অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্যের মতোই ভালো। ২০২৪ সালে জার্মানির বাজারে আসে পোর্টাস্প্লিট। মিডিয়ার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি স্টুটগার্টে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাকেন্দ্রের জার্মান প্রকৌশল এবং ইতালীয় নকশার সমন্বয়ে তৈরি। শোলটিসেকের মতে, ড্রোন নির্মাতা ডিজেআই এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মতো চীনের প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি শুধু পোর্টাস্প্লিট কেনেননি, পরে মিডিয়ার শেয়ারও কিনেছেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

মিডিয়ার ইউরোপ কার্যক্রমের মহাব্যবস্থাপক রালফ কোবসিক বলেন, ইউরোপের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপের ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ফ্রান্সের ২৬ বছর বয়সী আদ্রিয়েন ওলার সম্প্রতি জীবনের প্রথম এসি হিসেবে একটি পোর্টাস্প্লিট কিনেছেন। তিনি বলেন, এসি কেনার আগে তীব্র গরমে ঠাণ্ডা থাকার জন্য বারবার মুখে পানি ছিটিয়ে সময় কাটাতে হতো। এখন ঘরে ঢুকলেই মনে হয় যেন ফ্রিজের ভেতরে ঢুকেছেন। তার ভাষায়, আগের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য সত্যিই অনেক বড়।


 

ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রসারে নিবেদিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এ শোকসভার আয়োজন করবে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ‘রাইট টু ফ্রিডম’।

যারা সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার এবং রেকর্ড করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মাইলাম এ বছরের শুরুতে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। সাত দশক ধরে জনসেবা, গবেষণা ও বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। ১৯০৬ সালে অ্যারিজোনার বিসবিতে জন্মগ্রহণকারী তিনি ১৯৫৯ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে একটি বিশিষ্ট কর্মজীবন শুরু করেন।

কর্মজীবনে রাষ্ট্রদূত মাইলাম আফ্রিকা, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি ২০০১ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের মরুকরণ প্রতিরোধ চুক্তির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং পারমাণবিক অপ্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানের জন্য একটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে তাকে পুনরায় জনসেবায় ডাকা হয়।

অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রদূত মাইলাম উড্রো উইলসন সেন্টারে সিনিয়র স্কলার হিসেবে লেখালেখি ও গবেষণা চালিয়ে যান এবং ২০১০ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে তার বই ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: ফ্লার্টিং উইথ ফেইলিয়ার ইন সাউথ এশিয়া’ প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঙ্গে মিলে ‘রাইট টু ফ্রিডম’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘রাইট টু ফ্রিডম’ এমন একটি সংগঠন, যা নিজ নিজ দেশে যাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য গঠিত হয়েছিল।

রাইট টু ফ্রিডমের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘শোক ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয় নিয়ে আমরা জনসাধারণকে রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মিলামের অসাধারণ জীবন উদযাপনে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেকের কাছে তিনি একজন বিশিষ্ট কুটনীতিকের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অবিচল বন্ধু একজন উদার পরামর্শদাতা এবং সকল মানুষের জন্য স্বাধীনতা ও মর্যাদার স্থায়ী শক্তিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ।

এই স্মরণসভায় বিশ্বজুড়ে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীরা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রদূত মাইলামের অসাধারণ জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কফিনের গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস

বিলবোর্ডটির পাশেই রয়েছে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে ঘিরে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিলবোর্ডে কালো রঙের খোলা কফিনে ট্রাম্পকে এলোমেলো চুল, বন্ধ চোখ ও মুখে দেখানো হয়েছে। লাল টাইয়ের ওপর রাখা দুই হাত এবং কফিনের ওপরে সোজা উঁচু হয়ে থাকা দুই পা ছবিটিকে আরো প্রতীকী করে তুলেছে।

কফিনজুড়ে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’। একই সঙ্গে ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডে মিনাবের শিশুদের স্মরণে লেখা একটি বার্তাও রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের শুরুতে এক বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু মারা যায়।

ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা নিয়ে অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পবিরোধী এ ধরনের বিলবোর্ড নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’।

আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে এই বিলবোর্ডটির ভাষা আগেরগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন। অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের রক্ষণশীল মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্য নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ১৩ জন বিদেশি নেতার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ কয়েকজন পশ্চিমা নেতার ছবি স্থান পায়।

এর আগে, বাবার দাফনের দুই দিন পর দেওয়া প্রথম বার্তায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। লিখিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা শুধু তার বা সরকারের নয়, বরং পুরো ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছার প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, এ প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।

ইরানে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে : আরাগচি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে : আরাগচি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা এবং সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধমূলক উদ্দেশ্য’ প্রকাশ করে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার দাবি, এসব হামলা ১৯৪৯ সালের চারটি জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতির আওতায় গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরাগচি আরো বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা সব রাষ্ট্রের দায়িত্ব। 

তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক বক্তব্য ও শয়তানি হুমকি’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের স্বাধীনতা, বৈধ অধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই বৈরিতা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করেছেন—এমন অজুহাত দেখিয়ে আইনি দায় এড়াতে পারবেন না।’