হোয়াইট হাউসের এক টেলিপ্রম্পটার পরিচালকের বিরুদ্ধে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে বাজি ধরার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে কোন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হবে, সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় ১ লাখ ডলার আয়ের চেষ্টা করেছিলেন।
অভিযুক্ত কর্মীর নাম গ্যাব্রিয়েল পেরেজ । তিনি ২০১৬ সাল থেকে হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসভা ও সরকারি ভাষণে তিনি কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে বাজি ধরতেন। এসবের মধ্যে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণও ছিল। এসব বাজি ধরা হয়েছিল 'কালশি' নামের একটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্ল্যাটফর্মে। এই প্ল্যাটফর্মে বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা কীভাবে ঘটবে, তা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। কালশি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি শনাক্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) কাছে তথ্য ও প্রমাণ পাঠিয়েছে। এই সংস্থাই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম তদারকি করে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, অর্থ তোলার আগেই পেরেজের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়।
কালশির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকেরা প্রেসিডেন্টের ভাষণে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের ওপর করা বাজিতে অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করেন। এই ধরনের বাজারে অংশগ্রহণকারীরা অনুমান করেন, কোনো বক্তা তার ভাষণে নির্দিষ্ট কোনো দেশ, অর্থনীতি-সংক্রান্ত শব্দ বা নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করবেন কি না। কালশি বলেছে, প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের বক্তব্য অনেক সময় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, তেলের বাজার এবং শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তাই এসব ভাষণকে ঘিরে তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
তদন্তে অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে কালশি জানতে পারে, ওই ব্যবহারকারী একজন ফেডারেল কর্মী এবং তিনি হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্থ তোলার আগেই তারা ৯০ হাজার ডলারের বেশি আটকে দেয়। কালশির প্রয়োগবিষয়ক প্রধান রবার্ট ডেনল্ট বলেন, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণও জমা দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানান, অভিযোগ ওঠার পর গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে প্রথমে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তিনি আর হোয়াইট হাউসে কাজ করবেন না।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ। পরে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও খবরটি নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল পেরেজ বর্তমানে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা এ ঘটনায় আপাতত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিবিসি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন জানায়, কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিতও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না।






