• ই-পেপার

তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ

ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউস কর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলারের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউস কর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলারের অভিযোগ
ছবি: রয়টার্স

হোয়াইট হাউসের এক টেলিপ্রম্পটার পরিচালকের বিরুদ্ধে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে বাজি ধরার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে কোন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হবে, সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায়  ১ লাখ ডলার আয়ের চেষ্টা করেছিলেন।

অভিযুক্ত কর্মীর নাম গ্যাব্রিয়েল পেরেজ । তিনি ২০১৬ সাল থেকে হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসভা ও সরকারি ভাষণে তিনি কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে বাজি ধরতেন। এসবের মধ্যে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণও ছিল। এসব বাজি ধরা হয়েছিল 'কালশি'  নামের একটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্ল্যাটফর্মে। এই প্ল্যাটফর্মে বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা কীভাবে ঘটবে, তা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। কালশি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি শনাক্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) কাছে তথ্য ও প্রমাণ পাঠিয়েছে। এই সংস্থাই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম তদারকি করে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, অর্থ তোলার আগেই পেরেজের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়।

কালশির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকেরা প্রেসিডেন্টের ভাষণে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের ওপর করা বাজিতে অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করেন। এই ধরনের বাজারে অংশগ্রহণকারীরা অনুমান করেন, কোনো বক্তা তার ভাষণে নির্দিষ্ট কোনো দেশ, অর্থনীতি-সংক্রান্ত শব্দ বা নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করবেন কি না। কালশি বলেছে, প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের বক্তব্য অনেক সময় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, তেলের বাজার এবং শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তাই এসব ভাষণকে ঘিরে তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। 

তদন্তে অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে কালশি জানতে পারে, ওই ব্যবহারকারী একজন ফেডারেল কর্মী এবং তিনি হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্থ তোলার আগেই তারা ৯০ হাজার ডলারের বেশি আটকে দেয়। কালশির প্রয়োগবিষয়ক প্রধান রবার্ট ডেনল্ট বলেন, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণও জমা দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানান, অভিযোগ ওঠার পর গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে প্রথমে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তিনি আর হোয়াইট হাউসে কাজ করবেন না।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ। পরে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও খবরটি নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল পেরেজ বর্তমানে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা এ ঘটনায় আপাতত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিবিসি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন জানায়, কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিতও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না।

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং

অনলাইন ডেস্ক
২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে থাকা গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা তুলে নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে। ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিরাপদ নয় এবং এটি হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপি বা বাইরের হস্তক্ষেপ প্রায় অসম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা সেই মান থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। ট্রাম্প আরো জানান, নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে। তার দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা আগে ধারণা করা তুলনায় অনেক বেশি সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্য চীনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিল জনমতের প্রবণতা বোঝা। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো কোনো প্রমাণের কথা বলা হয়নি। অন্যদিকে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ৬০টির বেশি মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনো আদালতেই এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ভোট পুনর্গণনা, বিভিন্ন নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও এমন কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

২৪ মিনিটের ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প ‘সেভ অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। এই আইনের পূর্ণ নাম ‘সেইফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এই আইন কার্যকর হলে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিক নন—এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া আগে থেকেই অবৈধ। এ ছাড়া এমন ঘটনা খুবই বিরল বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে দেওয়া তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম তার ভাষণ দেখায়নি, তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, এসব গণমাধ্যম নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভাষণে তিনি এবিসি এবং এনবিসি নেটওয়ার্কের নামও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র  লিউ চাং বলেন, চীন সব সময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। চীন কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আগে দেখার সেবা বিক্রি করবে ট্রাম্প মিডিয়া

অনলাইন ডেস্ক
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আগে দেখার সেবা বিক্রি করবে ট্রাম্প মিডিয়া
ছবি: রয়টার্স

ট্রুথ সোশ্যালের মালিক প্রতিষ্ঠান 'ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ' অর্থের বিনিময়ে নতুন একটি তথ্যসেবা চালু করতে যাচ্ছে। এই সেবার মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী পহেলা আগস্ট থেকে নতুন এই সেবা চালু হবে। এর নাম ‘ট্রুথ এপিআই’। এই সেবায় অর্থ পরিশোধ করা প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্ট 'মিলিসেকেন্ডের মধ্যে' পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ট্রাম্প মিডিয়া। বর্তমানে ট্রুথ সোশ্যালে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তার বিভিন্ন পোস্ট প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, শুল্ক ও অর্থনীতি নিয়ে তার মন্তব্য অনেক সময় শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। ট্রাম্প মিডিয়া বলছে, নতুন এই সেবা প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত আয়ের একটি নতুন উৎস হবে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লোকসানে রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সেবার প্রধান গ্রাহক হবে ব্যাংক, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, হেজ ফান্ড এবং শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্য যত দ্রুত সম্ভব জানতে চায়। তাদের জন্য কয়েক সেকেন্ডের দেরিও বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেরাই ট্রুথ সোশ্যালে নজর রাখতে হতো। কিন্তু নতুন সেবা চালু হলে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ফলে আলাদাভাবে প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন কমে যাবে। ট্রাম্প মিডিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্টের কারণে অনেক সময় বাজারে দ্রুত পরিবর্তন আসে। তার ভাষায়, এই নতুন সেবা প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ট্রুথ এপিআই সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

২০২২ সালে চালু হওয়া ট্রুথ সোশ্যালের মালিক প্রতিষ্ঠান আরো দাবি করেছে, গত কয়েক মাস ধরে কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমতি ছাড়াই প্ল্যাটফর্মের তথ্য ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, খুব শিগগিরই অননুমোদিতভাবে তথ্য নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর যেসব প্রতিষ্ঠান ট্রুথ সোশ্যালের তথ্য ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের অনুমোদিত বা সরকারি এই সেবাই কিনতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কারণ তার পরিবারের কাছে এখনও ট্রাম্প মিডিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য পোস্ট দ্রুত পাওয়ার সুযোগ বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি আয় করলে, সেখান থেকে ট্রাম্পের পরিবারেরও লাভ হতে পারে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের পোস্ট এই অর্থের বিনিময়ের সেবার আওতায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে বিবিসি ট্রাম্প মিডিয়া এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ডেটা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে। তবে ট্রাম্প মিডিয়ার এই নতুন উদ্যোগ আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং তার সরকারি দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'স্ট্যানফিল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের' বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ মার্ক স্পিগেল বলেন, যদি প্রেসিডেন্টের পোস্ট এই সেবার অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে এটি হবে একেবারেই নতুন ধরনের ঘটনা। তার মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বশেষ খবরের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে লেনদেন করে, তারা দ্রুত তথ্য পাওয়ার জন্য অর্থ না দিলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ তারা এমন গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট মিস করতে পারে, যা বাজারে তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তবে মার্ক স্পিগেল আরো বলেন, বাজারে প্রভাব ফেলে এমন অনেক বিষয়ের মধ্যে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট একটি অংশ মাত্র। বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে আরো অনেক অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


 

ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটনে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইলামের স্মরণে শোকসভা শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রসারে নিবেদিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এ শোকসভার আয়োজন করবে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ‘রাইট টু ফ্রিডম’।

যারা সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার এবং রেকর্ড করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মাইলাম এ বছরের শুরুতে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। সাত দশক ধরে জনসেবা, গবেষণা ও বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। ১৯০৬ সালে অ্যারিজোনার বিসবিতে জন্মগ্রহণকারী তিনি ১৯৫৯ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে একটি বিশিষ্ট কর্মজীবন শুরু করেন।

কর্মজীবনে রাষ্ট্রদূত মাইলাম আফ্রিকা, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি ২০০১ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের মরুকরণ প্রতিরোধ চুক্তির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং পারমাণবিক অপ্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানের জন্য একটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে তাকে পুনরায় জনসেবায় ডাকা হয়।

অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রদূত মাইলাম উড্রো উইলসন সেন্টারে সিনিয়র স্কলার হিসেবে লেখালেখি ও গবেষণা চালিয়ে যান এবং ২০১০ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে তার বই ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান: ফ্লার্টিং উইথ ফেইলিয়ার ইন সাউথ এশিয়া’ প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঙ্গে মিলে ‘রাইট টু ফ্রিডম’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘রাইট টু ফ্রিডম’ এমন একটি সংগঠন, যা নিজ নিজ দেশে যাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য গঠিত হয়েছিল।

রাইট টু ফ্রিডমের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘শোক ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয় নিয়ে আমরা জনসাধারণকে রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মিলামের অসাধারণ জীবন উদযাপনে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেকের কাছে তিনি একজন বিশিষ্ট কুটনীতিকের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অবিচল বন্ধু একজন উদার পরামর্শদাতা এবং সকল মানুষের জন্য স্বাধীনতা ও মর্যাদার স্থায়ী শক্তিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ।

এই স্মরণসভায় বিশ্বজুড়ে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীরা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রদূত মাইলামের অসাধারণ জীবন ও উত্তরাধিকার নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।