সাম্প্রতিক উপহার হিসেবে কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ফেরার পথে সেই বিমানের পরিবর্তে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি ব্যবহার করেন তিনি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিককে সমন পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার জারি করা সমনে সাংবাদিকদের আগামী বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে। ফেডারেল এজেন্টরা কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে সমন পৌঁছে দেন। সমন পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন জুলিয়ান ই. বার্নস, এরিক লিপটন, টাইলার পেজার এবং এরিক স্মিত।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবী ডেভিড ম্যাকক্র বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের বাড়ির দরজায় ফেডারেল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী যেকোনো নাগরিকের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো ঘটনা।’
সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ বৃদ্ধি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের পদক্ষেপ। সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সমন জারি করা হয়েছিল। পরে দুটি ক্ষেত্রেই বিচার বিভাগ সেসব সমন প্রত্যাহার করে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সংবাদমাধ্যমকে ‘আমেরিকার জনগণের শত্রু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তিনি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা, টেলিভিশন সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এবং সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে বিতর্ক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করলেও, ফেরার পথে প্রথমে তিনি পুরোনো মডেলের এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের সাফোকে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে যান। পরে সেখানে নতুন বিমানে উঠে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।
এ সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি তেহরান তিনটি উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রে হামলা চালায়।
ইরান ও তুরস্কের সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ধারণা করা হয়, প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা নতুন বিমানটিতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো কিছু উন্নত নিরাপত্তা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
আরো পড়ুন
নতুন বিমান ছেড়ে পুরনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, নেপথ্যে কী
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নতুন বিমানটিতে পুরোনো বিমানের কিছু উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অনুপস্থিত ছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব নিরাপত্তা উদ্বেগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মিলডেনহলে যাত্রাবিরতির উদ্দেশ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের নতুন বিমানটি দেখার সুযোগ করে দেওয়া।
এ ছাড়া ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কারণে দুটি বিমান ব্যবহার করা হয়েছে—এমন দাবিও তিনি নাকচ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময়ই হুমকির মুখে থাকি। তাদের তালিকায় আমি এক নম্বরে আছি।’
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিয়াংও নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে কোনো নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিমানটি অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ মানের ব্যবস্থা রয়েছে।’