ভেনেজুয়েলার উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ১০ দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন জুয়ান জাপাতা নামের এক ব্যক্তি। ভবন ধসে পড়ার পর দীর্ঘ দুই দিন সাত ঘণ্টা (৫৫ ঘণ্টা) ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন তিনি। অবশেষে বেসামরিক উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
পঞ্চম তলার বাসিন্দা জাপাতা জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছিটকে পড়েন এবং দুইটি রডের টুকরোর মাঝে আটকে যান। উদ্ধারের পর তিনি যখন জানতে পারেন যে তিনি আর পঞ্চম তলায় নেই, বরং একেবারে বেসমেন্টে (ভূগর্ভস্থ তলা) নেমে গেছেন, তখন তিনি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মার্কিন সাহায্য সংস্থা ‘সামারিটানস পার্স’ পরিচালিত একটি ফিল্ড হাসপাতালে ভাঙা পাঁজর ও গুরুতর আঘাত নিয়ে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। ভূমিকম্পে ফোন ও পরিচয়পত্র হারিয়ে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা তার পরিবারের সঙ্গে তিনি এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকার নিহতের সংখ্যা ২৯৫৪ জন বলে ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া সরকারি হিসেবে ১৬০০০ মানুষ গৃহহীন হলেও একটি বেসরকারি হিসাব মতে, নিখোঁজের সংখ্যা ৪১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রায় ৩০,০০০ সরকারি কর্মকর্তা এবং ৩,০০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন বলে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ দাবি করলেও, সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারের এই ভূমিকাকে ধীর ও অকার্যকর বলে সমালোচনা করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খাদ্য ও চিকিৎসার মতো জরুরি সাহায্য পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র অভাব রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বাহিনীর ওপর ভরসা না করে সাধারণ মেকানিক, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেরাই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বজনহারা মানুষেরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী বা পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা উদ্ধারকাজের চেয়ে অস্ত্র হাতে টহল দেওয়াতেই বেশি ব্যস্ত। তবে নিখোঁজদের জীবিত অথবা মৃতাবস্থায় উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই বেসামরিক উদ্ধারকারীরা মাঠ ছাড়বেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।







