• ই-পেপার

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী মিশন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের বারবার আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ঘটনাকেও তারা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আরব গ্রুপ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে দেওয়া এক বক্তব্যে আমিরাতের মিশন এ অবস্থান তুলে ধরে।

বক্তব্যে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তন করা। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

আমিরাতের মিশন আরো জানায়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ, জমি দখল এবং স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের আমিরাত মিশন বলেছে, এসব কার্যক্রম শুধু বর্তমান সংকটকে গভীর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

তাদের মতে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, বসতি সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
 

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর
ছবি : রয়টার্স।

নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে যাত্রীবাহী একটি ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়ার পর তৃষ্ণায় অন্তত ৪৯ জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। নিহতরা প্রতিবেশী মালি থেকে একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিলেন। 

মরুভূমির মধ্যে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাদের কাছে থাকা পানি শেষ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আসামাকা এলাকার পশ্চিমে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আসামাকা হলো নাইজার, আলজেরিয়া ও মালি সীমান্তের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ট্রাকের চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা গাড়িটি মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য ও সহায়তা না থাকায় তারা চরম দাবদাহের মধ্যে আটকা পড়ে যান। ফলে অনেকেই তৃষ্ণায় মারা যান। তবে দুজন যাত্রী প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে একটি পানির উৎসে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে তারা আসামাকায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে। সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীদের একটি পরিচিত পথ। প্রতিবছর চরম গরম, পানির অভাব এবং দুর্গম পরিবেশের কারণে অনেক মানুষ এই পথে প্রাণ হারায়।
 

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারছে না আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি)। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির একটি গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এপি ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনে আইএইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকে সংস্থাটির পরিদর্শকরা এসব স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএইএ বলেছে, ইরানের কাছে বর্তমানে কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেই ইউরেনিয়ামের ধরন কী, সেগুলো কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না- এসব বিষয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

সংস্থাটি আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইরানের ওপর যে তদারকির দায়িত্ব আইএইএর রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তারা তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আইএইএর ভাষায়, এ বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব পালন করা 'অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য'।

এপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনের পর থেকে আইএইএ- এর পরিদর্শকরা মাত্র একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। সেটি হলো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ১ থেকে ৩ জুন সেখানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আইএইএর সর্বশেষ নথিভুক্ত তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে আর খুব বেশি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো।

গ্রোসি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হলে তা বাস্তবায়ন ও তদারকিতে আইএইএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন

অনলাইন ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন
ছবি : রয়টার্স

গবেষকরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একেবারে নতুন ধরনের একটি টিকা তৈরি করা হয়েছে। টিকাটি অনেক ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে মহামারী প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে বলে আমা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের গবেষকরা বলছেন, এই প্রথম কোনো টিকার মূল উপাদান সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবং পরে সেটি মানুষের ওপর পরীক্ষাও করা হয়েছে।

নতুন টিকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯-এর সব ভ্যারিয়েন্ট এবং প্রাণীদের মধ্যে থাকা এমন করোনাভাইরাস, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে নতুন মহামারীর কারণ হতে পারে।

যদিও গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার বিরুদ্ধে একই ধরনের টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

সাধারণভাবে টিকা আমাদের শরীরকে কোনো ভাইরাস বা রোগজীবাণু শনাক্ত করতে শেখায়, যাতে সংক্রমণ হলে শরীর দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে অনেক ভাইরাস সময়ের সঙ্গে নিজেদের গঠন বদলে ফেলে বা মিউটেশন ঘটায়। ফলে পুরোনো টিকা কম কার্যকর হয়ে যায়। এ কারণেই কোভিড-১৯ ও মৌসুমি ফ্লুর টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাইরাসের পেছনে ছুটে চলি। আমাদের লক্ষ্য হলো ভাইরাসের আগেই প্রস্তুত থাকা, যাতে নতুন প্রাদুর্ভাব বা মহামারী শুরু হওয়ার আগেই সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।’

গবেষকদের আশা, এআই নির্ভর এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে আরো দ্রুত ও কার্যকর টিকা তৈরি করা যাবে এবং নতুন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশ্ব ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবে।

এটা কীভাবে কাজ করে?

সাধারণত কোনো ভাইরাসের বর্তমান ধরন বা স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য বিশ্বজুড়ে পরিচালিত ভাইরাস নজরদারি কর্মসূচি থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এসব জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এটিকে চিনেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখে।

গবেষকদের মতে, এই সুপার-অ্যান্টিজেন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস নয়, বরং পুরো একটি ভাইরাস পরিবারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি ভাইরাসের রূপ পরিবর্তন হলেও বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কার্যকর থাকতে পারে।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, এই প্রথম এআই দ্বারা তৈরি কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করছে এবং মানবকল্যাণে এর সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন টিকা তৈরি করা, যা শুধু বর্তমানের ভাইরাস থেকে নয়, ভবিষ্যতে নতুন রোগ বা প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে এমন ভাইরাস থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে।’

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহামারীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তখন বিজ্ঞানীরা নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর টিকা তৈরির পরিবর্তে আগেভাগেই সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে পারবেন। এআই-নির্ভর নতুন টিকার পরীক্ষায় আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নতুন ধরনের টিকার প্রাথমিক মানব পরীক্ষায় ৩৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল টিকাটি মানুষের জন্য নিরাপদ কি না তা যাচাই করা। গবেষকরা বর্তমানে প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে বড় একটি পরীক্ষা চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জানা যাবে টিকাটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কতটা কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকাটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এখন পর্যন্ত সামান্য প্রভাব দেখিয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সল ফাউস্ট বলেন, এআই-ভিত্তিক এই নকশার ‘স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে’ এবং এটি খুবই রোমাঞ্চকর একটি অগ্রগতি।

তিনি কয়েকটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। তার মতে, ভাইরাস যখন ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন সম্ভাব্য মহামারীর বিরুদ্ধে আগাম টিকা তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন একটি সার্বজনীন ফ্লু টিকা নিয়ে প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যা সফল হলে প্রতি বছর নতুন করে হালনাগাদ করার প্রয়োজন হবে না।

একই সঙ্গে তারা এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর বিরুদ্ধেও একটি টিকা তৈরি করছেন। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমানে পাখিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়ে মহামারীর কারণ হতে পারে। এ ছাড়া তারা ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের বিরুদ্ধে একটি টিকা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, যার মধ্যে ইবোলাও থাকবে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে যে ইবোলা প্রাদুর্ভাব চলছে, তার জন্য এখনও কোনো কার্যকর টিকা নেই।

গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেছেন, প্রাণীদের ওপর করা গবেষণায় এই পদ্ধতির পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এআই-ভিত্তিক এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে এমন টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে এবং মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বকে প্রস্তুত করে তুলতে পারে। 

গবেষণাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড বলেন, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ফলাফল। তার মতে, অনেকেই হয়তো ভাবেননি, বিজ্ঞানীরা এ ধরনের বিস্তৃত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের শরীরে টিকাটি কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়। কারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরীক্ষাগারের ইঁদুরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বছরের পর বছর বিভিন্ন সংক্রমণের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

অধ্যাপক পোলার্ডের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে টিকা গবেষণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, এআই এমনভাবে উন্নত হচ্ছে যে, এটি আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে কোনো টিকার প্রতি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে সাড়া দেবে। এর ফলে নতুন টিকা তৈরির প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে এবং আরো বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও যত্ন গবেষণা জাতীয় ইনস্টিটিউট-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক মেরিয়ান নাইট এই গবেষণাকে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি এই ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’-এর সফল পরীক্ষা প্রমাণ করছে যে ভবিষ্যতে বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নতুন এক দিগন্তের দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, এটি টিকা প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।