• ই-পেপার

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর

কী ঘটছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে?

অনলাইন ডেস্ক
কী ঘটছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে?
ছবি: রয়টার্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ভোররাতে অভিযান চালিয়ে এক শিশুসহ অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও শরণার্থী শিবিরে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে নিয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালফিত শহরের পশ্চিমে অবস্থিত ব্রুকিন এলাকায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাতজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় সেনারা বাড়িঘর তল্লাশি চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ ছাড়া হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের আদ-দাহিরিয়া শহরেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে আরো দুই ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে, নাবলুস শহরের পূর্বাঞ্চলে ভোরের দিকে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরো চারজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা শহরের পূর্ব দিক দিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর তারা বালাতা শরণার্থী শিবির, আসকার আল-জাদিদ শরণার্থী শিবির, বালাতা আল-বালাদ এলাকা এবং পপুলার হাউজিং এলাকায় একাধিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এসব এলাকায় বাড়ি তল্লাশির পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী মিশন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের বারবার আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ঘটনাকেও তারা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আরব গ্রুপ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে দেওয়া এক বক্তব্যে আমিরাতের মিশন এ অবস্থান তুলে ধরে।

বক্তব্যে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তন করা। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

আমিরাতের মিশন আরো জানায়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ, জমি দখল এবং স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের আমিরাত মিশন বলেছে, এসব কার্যক্রম শুধু বর্তমান সংকটকে গভীর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

তাদের মতে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, বসতি সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
ফাইল ছবি

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাইর শহরের বাইরে শামা শহরের সামনের একটি পাহাড়ি এলাকায় সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর কয়েক মিনিট আগে দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জবেইল জেলাতেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই সময় কাফরা শহরের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা এসব হামলায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক হামলাই গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনার খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের আশপাশের এলাকাও রয়েছে।

সম্প্রতি জাবাল আমেল হাসপাতালের কাছের একটি ব্যাংক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালটি দক্ষিণ লেবাননের এখনো চালু থাকা শেষ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের অন্যতম। টাইর শহরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর চিকিৎসাসেবার জন্য নির্ভরশীল।

এর আগে আরেকটি বিমান হামলায় হাসপাতালের ঠিক বিপরীত পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই হামলার প্রভাব হাসপাতালেও পড়ে এবং ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলাগুলো বারবার হাসপাতালের খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। যদিও সরাসরি হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না, তবুও বিস্ফোরণের কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পুরো টাইর শহর ঘিরে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও এখনো কিছু বাসিন্দা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের মতে, যারা এখনো সেখানে রয়েছেন, তারা প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। কারণ অঞ্চলটিতে হামলা, গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলেও গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিউফোর্ট দুর্গের কাছের কয়েকটি কৌশলগত উঁচু স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বেড়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারছে না আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি)। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির একটি গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এপি ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনে আইএইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকে সংস্থাটির পরিদর্শকরা এসব স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএইএ বলেছে, ইরানের কাছে বর্তমানে কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেই ইউরেনিয়ামের ধরন কী, সেগুলো কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না- এসব বিষয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

সংস্থাটি আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইরানের ওপর যে তদারকির দায়িত্ব আইএইএর রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তারা তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আইএইএর ভাষায়, এ বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব পালন করা 'অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য'।

এপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনের পর থেকে আইএইএ- এর পরিদর্শকরা মাত্র একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। সেটি হলো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ১ থেকে ৩ জুন সেখানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আইএইএর সর্বশেষ নথিভুক্ত তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে আর খুব বেশি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো।

গ্রোসি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হলে তা বাস্তবায়ন ও তদারকিতে আইএইএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।