আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বানের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। কোরবানির ঈদের ৯ দিন পরও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও খালের পাশে পড়ে আছে অবিক্রীত পশুর চামড়া। পচে যাওয়া এসব চামড়া থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে খালের পানি এবং অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-ঢাকা-মুরাদনগর আঞ্চলিক সড়কের রূপসদী থেকে ফতেপুর সড়কের পাড়াতলী, ছয়ফুল্লাকান্দি ও রূপসদীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ না করায় সেগুলো রাস্তার ধারের খাল ও ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পর অবিক্রীত শত শত পশুর চামড়া অসাধু ব্যক্তিরা খাল ও রাস্তার পাশের নিচু স্থানে ফেলে দেয়। প্রচণ্ড গরমে চামড়াগুলো দ্রুত পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পাশাপাশি এসব বর্জ্য থেকে মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে।
এলাকাবাসী সফিকুল ইসলাম বলেন, “এদিক দিয়ে অনেক এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। ঈদের পর থেকে এতদিন ধরে চামড়া পড়ে আছে। এগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের পাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমনকি ঘরেও দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “রাস্তার পাশের খালে চামড়া ফেলে রাখার কারণে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারা এগুলো ফেলেছে তা আমরা জানি না। দ্রুত অপসারণ না করা হলে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুদকের সহযোগী সংগঠন) বাঞ্ছারামপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, “পচে যাওয়া চামড়ার কারণে খালের পানিও দূষিত হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “চামড়া পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি আমি গতকাল জেনেছি। রাস্তার পাশে খালে ফেলে রাখা পচা চামড়া দ্রুত অপসারণে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগও কমবে।




