• ই-পেপার

হজের পর গুনাহমুক্ত জীবন লাভের সাত উপায়

মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মদিনা মুনাওয়ারার গৌরবময় ইতিহাস, স্থাপত্যিক বিবর্তন এবং যুগে যুগে এর সম্প্রসারণের অসাধারণ কাহিনি এখন জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক অনন্য প্রদর্শনীতে। মসজিদে নববীর স্থাপত্য প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উপহার দিচ্ছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক ব্যতিক্রমধর্মী ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা।

মসজিদে নববীর দক্ষিণ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই প্রদর্শনীতে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন ফিরে যান ইসলামের স্বর্ণালি অতীতে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন মসজিদে নববীর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর দীর্ঘ ইতিহাস, বিভিন্ন খিলাফত ও ইসলামী যুগে সংঘটিত সম্প্রসারণ এবং স্থাপত্যিক উন্নয়নের ধারাবাহিক বিবরণ।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, এর উন্নতমানের ডিজিটাল উপস্থাপনা। এখানে দর্শনার্থীরা স্পর্শনির্ভর পর্দার মাধ্যমে মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, নকশাগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন যুগে সংযোজিত অংশগুলোর বিস্তারিত তথ্য সহজেই অন্বেষণ করতে পারেন। ফলে ইতিহাস জানার পাশাপাশি তারা এক বাস্তবধর্মী ও প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতার স্বাদ পান।

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত রয়েছে বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা মসজিদে নববীর স্থাপত্যিক যাত্রার বিভিন্ন অধ্যায়কে সাক্ষ্য দেয়। বিশেষ প্রদর্শনী হলে রাখা এসব নিদর্শন যুগে যুগে সংঘটিত সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল, যেসব মডেলের মাধ্যমে মসজিদের ক্রমবিকাশের চিত্র স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।

মসজিদে নববীর ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর গেটের নিকটবর্তী দক্ষিণ প্রবেশপথে অবস্থিত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দেশ-বিদেশের হাজারো মুসল্লি ও পর্যটক এখানে এসে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যিক সৌন্দর্য সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞানার্জন করছেন। ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রদর্শনী শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি মসজিদে নববীর গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস।
 

সীমিত আয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের রহস্য

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সীমিত আয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের রহস্য
সংগৃহীত ছবি

অনেক মানুষ আছেন, যাদের আয় সীমিত; তবুও তাদের সংসারে প্রশান্তি, তৃপ্তি ও সুখের কমতি নেই। আবার কেউ কেউ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও অশান্তি, উদ্বেগ ও অপূর্ণতায় ভোগেন। এই দুই অবস্থার পার্থক্যের নামই হলো ‘বরকত’। ইসলামের দৃষ্টিতে বরকত শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা অল্পকে অনেক এবং সীমিতকে অর্থবহ করে তোলে। সময়, সম্পদ, জ্ঞান, পরিবার কিংবা স্বাস্থ্যে যখন বরকত আসে, তখন মানুষের জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময় ও পরিপূর্ণ। তাই একজন মুমিনের জন্য বরকতের প্রকৃত অর্থ জানা এবং তা অর্জনের পথ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বরকতের অর্থ- মুসলিম হিসেবে আমরা প্রতিদিনের কথাবার্তা, দোয়া এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে ‘বরকত’ শব্দটি ব্যবহার করি। সালামের জবাবে বলি, ‘আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’ ঈদের দিনে বলি ‘ঈদ মোবারক’। নতুন বিবাহিত দম্পতির জন্যও সুন্নত অনুযায়ী বরকতের দোয়া করা হয়। আরবি ভাষা ও ব্যাকরণবিদদের মতে, ‘বরকত’ শব্দের অর্থ স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা, বৃদ্ধি, প্রাচুর্য এবং কল্যাণের ধারাবাহিকতা। সহজ ভাষায়, কোনো কাজে যখন আল্লাহর বরকত থাকে, তখন সামান্য প্রচেষ্টা থেকেও আশাতীত ফল লাভ করা যায়।

বরকতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হলো- কল্যাণের ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ শুধু প্রাপ্তি নয়, সেই প্রাপ্তির স্থায়িত্ব ও উপকারিতাও বরকতের অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে বরকত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা মানুষের জীবনকে কল্যাণময়, অর্থবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী সুফলে পরিপূর্ণ করে।

পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে ‘বরকত’ শব্দ ও তার বিভিন্ন রূপ এসেছে। মহান আল্লাহ নিজেই কোরআনকে বরকতময় কিতাব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এমন এক কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি; এটি অত্যন্ত বরকতময়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯২)

হাদিসে বরকতের প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে...।’ (তিরমিজি , হাদিস নং : ২৯১০)

এই হাদিস প্রমাণ করে, আল্লাহর বরকত থাকলে সামান্য আমলও বহুগুণ ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। অনেক সময় মানুষ সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা ও বাহ্যিক সফলতা অর্জন করেও অন্তরে শান্তি খুঁজে পায় না। আবার সীমিত আয় ও সাধারণ জীবনযাপন করেও কেউ সুখী ও তৃপ্ত থাকেন। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো বরকতের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। আর জীবনে বরকত ফিরিয়ে আনার কার্যকর উপায় হলো-

১. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া : বরকত লাভের প্রথম শর্ত হলো কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)
কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের কথা নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তার সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করাও কৃতজ্ঞতার অংশ। তাই তাঁর যে কোনো নেয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করা উচিত। 

২. দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা : প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় আল্লাহর কাছে দোয়ার জন্য নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে বরকতের জন্য দোয়া করা প্রয়োজন- সময়, সম্পদ এবং সুস্বাস্থ্য। কেননা সময়ের বরকত কর্মদক্ষতা বাড়ায়, সম্পদের বরকত অভাব দূর করে এবং স্বাস্থ্যের বরকত মানুষকে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী রাখে।

৩. নামাজকেন্দ্রিক জীবন গড়ে তোলা : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে কেন্দ্র করে দিনের পরিকল্পনা সাজালে জীবনে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

৪. আত্মীয়তা ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা : পরিবার ও সমাজের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বরকতের অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি এবং আয়ুতে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫৯৮৬)

এভাবে সুসম্পর্ক, সততা এবং উত্তম আচরণ মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও নুসরত বয়ে আনে।

অতএব, বরকত এমন একটি নেয়ামত, যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে লাভ করতে হয়। জীবনে বরকত থাকলে অল্প সম্পদেও সুখ থাকে, সীমিত সময়েও কাজ সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ জীবনও হয়ে ওঠে প্রশান্তিময়। তাই আমাদের উচিত কৃতজ্ঞতা, নামাজ, দোয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বরকত লাভের চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃত সফলতা শুধু বেশি পাওয়া নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া সামান্য নিয়ামতের মধ্যেও অসীম কল্যাণ খুঁজে পাওয়ার নামই বরকত।

হাদিসের বাণী

দান যেভাবে জীবনে প্রশস্ততা বয়ে আনে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
দান যেভাবে জীবনে প্রশস্ততা বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, কৃপণ ও দানবীরের দৃষ্টান্ত হলো ওই দুই ব্যক্তির মতো, যাদের পরনে দুটি লোহার ঢাল বা বর্ম আছে। যা শুধুমাত্র তাদের বুক থেকে গলা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তারপর দানবীর ব্যাক্তি যখন দান করে, তখনই সেই বর্ম তার পুরো শরীরে বিস্তৃত হয়। সেটা তার আঙুলগুলোকেও ঢেকে রাখে এবং তার গুনাহ ও ত্রুটিগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। অপরদিকে কৃপণ যখনই কিছু দান করার ইচ্ছা করে, তখনই বর্মের প্রতিটি আংটা এসে জায়গামত আটকে যায়। ফলে সে (তার দানের হাত) প্রসারিত করতে চাইলে, তা সংকুচিত হয়ে যায়। (অবশেষে সে আর দান করতে পারে না।) (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৪৪৩, সহিহ মুসলিম, ২৩৬৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৭৮৮৩) 

শিক্ষা ও বিধান

১. দান মানুষের হৃদয়কে প্রশস্ত করে। তাই দানশীল ব্যক্তি যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে, তখন তার অন্তর উদার হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং নেক কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

২. দান গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। হাদিসে বর্ম মানুষের শরীর ঢেকে ফেলার মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দান মানুষের ত্রুটি ও গুনাহ ঢেকে দেয়। ফলে আল্লাহ তাআলা দানকারীর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন।

৩. কৃপণতা মানুষের হৃদয়কে সংকুচিত করে। ফলে কৃপণ ব্যক্তি দান করতে চাইলেও তার মন বাধা দেয়। সে সম্পদ কমে যাওয়ার ভয়ে দান থেকে পিছিয়ে যায়। ফলে তার অন্তর আরও কঠিন ও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।

৪. দানশীল ব্যক্তি একবার দান করলে পরবর্তীতে আরও দান করতে উৎসাহিত হয়। আল্লাহ তার জন্য কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দেন।

৫.  সম্পদের প্রকৃত বরকত দানের মাধ্যমে আসে। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আল্লাহ তার সম্পদে বরকত দান করেন এবং তাকে আরও কল্যাণ দান করেন।

৬. শয়তান মানুষকে দান থেকে বিরত রাখতে চায়। ফলে দান করতে গেলে নানা অজুহাত, ভবিষ্যতের দারিদ্র্যের ভয় এবং সম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা।

৭. উদারতা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই একজন সত্যিকার মুমিন মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

৮. দান আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। কেননা দান মানুষের লোভ, স্বার্থপরতা ও সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দূর করে এবং তাকওয়া বৃদ্ধি করে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই হাদিসের ওপর যথাযথভাবে আমল করার করার তাওফিক দান করুক। আমিন। 

বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
সংগৃহীত ছবি

আকাশে যখন মেঘ জমে, মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়, নদী-নালা পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং মানুষ বৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, তখন একজন মুমিনের হৃদয় সর্বপ্রথম মুখাপেক্ষী হয় আসমান-জমিনের মালিক মহান আল্লাহর দিকে। কারণ বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার এক মহা রহমত, যার মাধ্যমে মৃতপ্রায় ভূমি পুনর্জীবন লাভ করে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সচল হয়। তাইতো মহানবী (সা.) যখন অনাবৃষ্টি লক্ষ্য করতেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান মারিআন মারিয়ান নাফিয়ান গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিলিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো।’

হাদিস : জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করে বলেন, একদিন মহানবী (সা.)-এর কাছে কিছু লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) কাঁদতে কাঁদতে আসলে তিনি তখন তীব্র গরম ও অনেক দিনের অনাবৃষ্টির কারণে বৃষ্টি প্রার্থনা করে এই দোয়া পাঠ করেন। বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, এরপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। এবং প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ হয়। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১১৬৯)