• ই-পেপার

সীমিত আয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের রহস্য

মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মদিনা মুনাওয়ারার গৌরবময় ইতিহাস, স্থাপত্যিক বিবর্তন এবং যুগে যুগে এর সম্প্রসারণের অসাধারণ কাহিনি এখন জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক অনন্য প্রদর্শনীতে। মসজিদে নববীর স্থাপত্য প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উপহার দিচ্ছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক ব্যতিক্রমধর্মী ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা।

মসজিদে নববীর দক্ষিণ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই প্রদর্শনীতে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন ফিরে যান ইসলামের স্বর্ণালি অতীতে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন মসজিদে নববীর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর দীর্ঘ ইতিহাস, বিভিন্ন খিলাফত ও ইসলামী যুগে সংঘটিত সম্প্রসারণ এবং স্থাপত্যিক উন্নয়নের ধারাবাহিক বিবরণ।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, এর উন্নতমানের ডিজিটাল উপস্থাপনা। এখানে দর্শনার্থীরা স্পর্শনির্ভর পর্দার মাধ্যমে মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, নকশাগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন যুগে সংযোজিত অংশগুলোর বিস্তারিত তথ্য সহজেই অন্বেষণ করতে পারেন। ফলে ইতিহাস জানার পাশাপাশি তারা এক বাস্তবধর্মী ও প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতার স্বাদ পান।

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত রয়েছে বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা মসজিদে নববীর স্থাপত্যিক যাত্রার বিভিন্ন অধ্যায়কে সাক্ষ্য দেয়। বিশেষ প্রদর্শনী হলে রাখা এসব নিদর্শন যুগে যুগে সংঘটিত সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল, যেসব মডেলের মাধ্যমে মসজিদের ক্রমবিকাশের চিত্র স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।

মসজিদে নববীর ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর গেটের নিকটবর্তী দক্ষিণ প্রবেশপথে অবস্থিত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দেশ-বিদেশের হাজারো মুসল্লি ও পর্যটক এখানে এসে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যিক সৌন্দর্য সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞানার্জন করছেন। ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রদর্শনী শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি মসজিদে নববীর গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস।
 

হজের পর গুনাহমুক্ত জীবন লাভের সাত উপায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
হজের পর গুনাহমুক্ত জীবন লাভের সাত উপায়
সংগৃহীত ছবি

হজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মিক বিপ্লব। লাখো মানুষের সঙ্গে একই পোশাকে, একই ময়দানে দাঁড়িয়ে মানুষ উপলব্ধি করে— একদিন তাকে তার রবের সামনে এভাবেই উপস্থিত হতে হবে। তাই হজের প্রকৃত সফলতা শুধুমাত্র মক্কা-মদিনায় কয়েকটি দিন কাটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হজ থেকে ফিরে জীবনের প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করার মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা। অনেকেই হজ থেকে ফিরে নতুন উদ্দীপনায় জীবন শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃত হাজি তিনি, যার চরিত্র, আমল, চিন্তা ও জীবনাচরণে হজের প্রভাব স্থায়ীভাবে প্রতিফলিত হয়। হজের মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতা ও তাকওয়াকে ধরে রাখাই হলো হজ কবুল হওয়ার অন্যতম আলামত।

 হজের প্রতিদান: নবজাতকের মতো পবিত্রতা অর্জন করা। কবুল হজ মানুষের অতীতের গুনাহ মুছে দেয়। ফলে সে হজ থেকে ফিরে আসে এক নবজাতক শিশুর মতো পবিত্র, নির্মল ও গুনাহমুক্ত হয়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ পালন করে এবং হজের সময় অশ্লীল কথা, কুকর্ম ও গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকে, সে এমন নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে আসে, যেমন ছিল সেদিন, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৫২১)

এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, হজ একজন মানুষকে গুনাহমুক্ত জীবনের নতুন সূচনা করার সুযোগ দেয়। আর হজের পর তাকওয়াই হজের মূল শিক্ষা।  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর; আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত :  ১৯৭)

হজের প্রতিটি কর্মই তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। তাই হজ থেকে ফিরে প্রথম দায়িত্ব হলো আল্লাহভীতিকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা।

হজের পর গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার সাত উপায়

১. ফরজ ইবাদতে অবহেলা না করা : হজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো— পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা, জাকাতসহ সব ফরজ বিধান যথাযথভাবে পালন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

২. অতীতের গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ তওবা করা : যে গুনাহের জন্য হজের আগে অনুতপ্ত ছিলেন, হজের পর যেন আর কখনো সে পথে ফিরে না যান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩১)

৩. কোরআনের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা : হজের পর প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বোঝার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোরআনই একজন মুমিনের জীবন পরিচালনার সর্বোত্তম পথনির্দেশ।

৪. নেককারদের সান্নিধ্যে থাকা : মানুষ তার বন্ধু ও পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই দ্বীনদার, আল্লাহভীরু মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৩৭৮)

৫. মানুষের হক আদায়ে সচেতন হওয়া : হজ কবুল হওয়ার অন্যতম আলামত হলো মানুষের প্রতি আচরণে পরিবর্তন আসা। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের হক যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।

৬. নফল ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা : তাহাজ্জুদ, নফল রোজা, দান-সদকা ও অধিক জিকির বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।’ (সহিহ বুখারি, আয়াত : ৬৫০২)

৭. হজের স্মৃতি নয়, হজের শিক্ষা ধরে রাখা : অনেকেই হজের স্মৃতি সংরক্ষণ করেন, কিন্তু হজের শিক্ষা ভুলে যান। প্রকৃত সফলতা হলো হজের পরেও বিনয়, তাকওয়া, ধৈর্য ও ইখলাস বজায় রাখা। হজ কবুল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

হজ মানুষের জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক মহান সুযোগ— নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। হজ শেষে যদি আমরা আগের মতোই গুনাহে নিমজ্জিত হয়ে যাই, তাহলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু যদি আমরা নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, তওবা, নেক আমল ও তাকওয়ার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করি, তাহলে হজ আমাদের জন্য হবে জান্নাতের পথে এক উজ্জ্বল সূচনা।

হাদিসের বাণী

দান যেভাবে জীবনে প্রশস্ততা বয়ে আনে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
দান যেভাবে জীবনে প্রশস্ততা বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, কৃপণ ও দানবীরের দৃষ্টান্ত হলো ওই দুই ব্যক্তির মতো, যাদের পরনে দুটি লোহার ঢাল বা বর্ম আছে। যা শুধুমাত্র তাদের বুক থেকে গলা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তারপর দানবীর ব্যাক্তি যখন দান করে, তখনই সেই বর্ম তার পুরো শরীরে বিস্তৃত হয়। সেটা তার আঙুলগুলোকেও ঢেকে রাখে এবং তার গুনাহ ও ত্রুটিগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। অপরদিকে কৃপণ যখনই কিছু দান করার ইচ্ছা করে, তখনই বর্মের প্রতিটি আংটা এসে জায়গামত আটকে যায়। ফলে সে (তার দানের হাত) প্রসারিত করতে চাইলে, তা সংকুচিত হয়ে যায়। (অবশেষে সে আর দান করতে পারে না।) (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৪৪৩, সহিহ মুসলিম, ২৩৬৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৭৮৮৩) 

শিক্ষা ও বিধান

১. দান মানুষের হৃদয়কে প্রশস্ত করে। তাই দানশীল ব্যক্তি যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে, তখন তার অন্তর উদার হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং নেক কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

২. দান গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। হাদিসে বর্ম মানুষের শরীর ঢেকে ফেলার মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দান মানুষের ত্রুটি ও গুনাহ ঢেকে দেয়। ফলে আল্লাহ তাআলা দানকারীর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন।

৩. কৃপণতা মানুষের হৃদয়কে সংকুচিত করে। ফলে কৃপণ ব্যক্তি দান করতে চাইলেও তার মন বাধা দেয়। সে সম্পদ কমে যাওয়ার ভয়ে দান থেকে পিছিয়ে যায়। ফলে তার অন্তর আরও কঠিন ও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।

৪. দানশীল ব্যক্তি একবার দান করলে পরবর্তীতে আরও দান করতে উৎসাহিত হয়। আল্লাহ তার জন্য কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দেন।

৫.  সম্পদের প্রকৃত বরকত দানের মাধ্যমে আসে। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আল্লাহ তার সম্পদে বরকত দান করেন এবং তাকে আরও কল্যাণ দান করেন।

৬. শয়তান মানুষকে দান থেকে বিরত রাখতে চায়। ফলে দান করতে গেলে নানা অজুহাত, ভবিষ্যতের দারিদ্র্যের ভয় এবং সম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা।

৭. উদারতা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই একজন সত্যিকার মুমিন মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

৮. দান আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। কেননা দান মানুষের লোভ, স্বার্থপরতা ও সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দূর করে এবং তাকওয়া বৃদ্ধি করে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই হাদিসের ওপর যথাযথভাবে আমল করার করার তাওফিক দান করুক। আমিন। 

বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
সংগৃহীত ছবি

আকাশে যখন মেঘ জমে, মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়, নদী-নালা পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং মানুষ বৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, তখন একজন মুমিনের হৃদয় সর্বপ্রথম মুখাপেক্ষী হয় আসমান-জমিনের মালিক মহান আল্লাহর দিকে। কারণ বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার এক মহা রহমত, যার মাধ্যমে মৃতপ্রায় ভূমি পুনর্জীবন লাভ করে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সচল হয়। তাইতো মহানবী (সা.) যখন অনাবৃষ্টি লক্ষ্য করতেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান মারিআন মারিয়ান নাফিয়ান গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিলিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো।’

হাদিস : জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করে বলেন, একদিন মহানবী (সা.)-এর কাছে কিছু লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) কাঁদতে কাঁদতে আসলে তিনি তখন তীব্র গরম ও অনেক দিনের অনাবৃষ্টির কারণে বৃষ্টি প্রার্থনা করে এই দোয়া পাঠ করেন। বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, এরপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। এবং প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ হয়। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১১৬৯)