• ই-পেপার

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কার করে দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে

এইচআরএসএএসের প্রতিবেদন

মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে মৃত্যু ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে মৃত্যু ৩৬
প্রতীকী ছবি

দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব জাস্টিস বা গণপিটুনির ঘটনা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ৫ জন এবং মব সহিংসতার নির্মম শিকারে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন নাগরিক। এছাড়া সাংবাদিক হেনস্তা, সীমান্ত হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মে-২০২৬ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

  • রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫, আহত ২৮৯

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। তবে মে মাসে হতাহতের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় কিছুটা কম। গত এপ্রিল মাসে ৯৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছিলেন।

মে মাসের রাজনৈতিক সহিংসতার রাজনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৪ জন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১০টি ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১৪টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৭২ জন আহত, এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন ২ জন সদস্য। নিহত মোট ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ১ জন, জামায়াতের ১ জন, ইউপিডিএফের ২ জন এবং ১ জন সাধারণ নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ সহিংসতাই ঘটেছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। এছাড়া ৮টি সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

  • যৌথবাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার

মে মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৩টিরও বেশি মামলা হয়েছে, যেখানে ৪০৫ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৯৩২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য ইস্যুতে মোট ২১২টি ঘটনায় অন্তত ৩৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৪৬ জন, বিএনপির ৬৪ জন, জামায়াতের ১২ জন এবং এনসিপির ৯ জন রয়েছেন।

এর বাইরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সারাদেশে মোট ১ হাজার ৯৩৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য।

  • মব সহিংসতায় ৩১ জনের মৃত্যু

মব সহিংসতা ও গণপিটুনি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ৬৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন।

  • মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। ১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং ২টি মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পাশাপাশি ১০টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যাতে ৪১ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের জেরে অন্তত ১১টি ঘটনায় ৬ জনকে আটক ও ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ১ জন এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে ৫টি পৃথক মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • সংখ্যালঘু ও মাজারে হামলা

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৩টি হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৬টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং ১টি ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া ও ঢাকায় পৃথক দুটি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • সীমান্তে উত্তেজনা ও হতাহত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও হামলার ৬টি ঘটনায় ৬ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন (যার মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ)। এছাড়া ১৪ জনকে আটক করেছে বিএসএফ। অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪টি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।

  • শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি

মে মাসে ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে অস্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৪১ জন শ্রমিক কর্মস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন।

  • নারী ও শিশু নির্যাতন চরম পর্যায়ে

মে মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এই এক মাসে মোট ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৭ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরী। ১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৭৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতার কারণে ৬৩ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৪৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া যৌতুকের কারণে ৩ জন নিহত এবং এসিড নিক্ষেপে ১ জন নারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মে মাসে অন্তত ২১৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক ও নারী-শিশু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব সমস্যার জরুরি সমাধান করা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।

ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ঝড়ের আভাস
ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের ১৪ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আজ বিকেল থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৪ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার এই পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মোনাজাত করছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখনই সাংবাদিকদের পাশে থাকে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাংবাদিকবান্ধব নানা কর্মসূচি সরকার হাতে নিচ্ছে। তাঁরা যেমন সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করে গেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও তাই করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বিএনপি সরকার অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে নানা হস্তক্ষেপ করত সরকার। তারা নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দিত। তাছাড়াও তৈলমর্দন করাকে তারা স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমরা কিন্তু তা করছি না। সেরকম কিছু করার ইচ্ছে কিংবা মানসিকতাও নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগ করেছি বলে কেউ বলতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যম তার নিজ গতিতে চলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিকরা পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করবে। তবে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য যেন খবরে না আসে। এজন্য আমরা আহ্বান জানাব সাংবাদিকরা যেন বিষয়গুলো খেয়াল রাখেন। বর্তমানে এআই বিশ্বব্যাপী এমন একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমাদের নিয়ে গেছে। যে কাউকে অপদস্ত করা যাচ্ছে। নানাভাবে ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন সহজ হয়ে গেছে। তবে এআই’র পজিটিভ দিকও রয়েছে। তাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের ওপর মানুষের আস্থা আরো বাড়বে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অধিকারগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে অতীতে যেসব আবাসন বিএনপি সরকার দিয়েছিল সেগুলো ধরে রাখা গেছে কিনা সেটি আমাদের ভাবতে হবে। সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, যেগুলো আগের সরকার দেয়নি। সেই দাবি অনুসারে আমি তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছি। তবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছে একটা দাবি জানিয়েছি যেন আমাদের সাংবাদিক ভাইদেরও কোনো বেতন বকেয়া না থাকে। তারা যেন প্রতি মাসে সঠিক সময়ে বেতনটা পায়। কারণ অনেকে আমার কাছে প্রায় আসে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভূমি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহণ করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশ পরিচালনা করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে যৌক্তিক সমালোচনাও প্রয়োজন। কেননা তা হলেই আমরা আমাদের ভুলগুলো বুঝতে পারব। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে সাংবাদিক, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে জীবন, যৌবন, অধ্যবসায় পার করেছে, তারা সবাই যেন একটি বৃহৎ সাংবাদিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করতে পারে।’


অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য ওসমান গনি মনসুর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল কবিম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু নাসের, কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তাফা নঈম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারেক আহমদ, সিএমইউজের সদস্য আমিনুল ইসলাম, বাসসের সিনিয়র রিপোর্টার মিয়া মো. আরিফ এবং দৈনিক আমার দেশের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, প্রবীণ সাংবাদিক, পেশাজীবী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আবাসন সংকট, বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত সমস্যা তুলে ধরেন। তারা এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম খাতের আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফিতা কেটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। 

সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের সমঝোতা স্মারক সই

অনলাইন ডেস্ক
সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষাবিষয়ক একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

আজ শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের প্রিমিয়াম লাউঞ্জে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্কের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নিজ নিজ সরকারের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ছাড়া উভয় দেশের সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রত্নসম্পদ রক্ষা, আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থাপনা, মহাফেজখানার ঐতিহাসিক নথি ও গ্রন্থাগার সামগ্রী সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হলো। 

এর আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৯৮১ সালের সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০১২ সালের শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, শিল্প, প্রেস ও তথ্য, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সহযোগিতা কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে।

নতুন এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ ইউনেস্কোর ১৯৭০ সালের কনভেনশনের আলোকে সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ আমদানি, রপ্তানি ও মালিকানা হস্তান্তর প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে দুই দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাচীন সম্পদের সঠিক তালিকাভুক্তি ও নথিবদ্ধকরণে পারস্পরিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর ও বিস্তৃত করবে। বিশেষ করে তুরস্কের আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়নে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস দেন। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তি দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অবদান রাখবে।