• ই-পেপার

‘মাদকসেবন করে’ সড়কে বিশৃঙ্খলা, ছাতকে ৪ যুবক গ্রেপ্তার

‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার ‘দাঁড়িয়ে যাওয়া’ আলোচিত কড়ই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে প্রশাসন। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি গোড়া থেকে অপসারণ করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরে গাছটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়ার পর গাছটি আবার দাঁড়িয়ে গেছে— এমন দাবিকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেন, আবার অনেকে এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। গাছটির গোড়ায় আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো, মানত করা এবং শিকড় সংগ্রহের ঘটনাও দেখা যায়।

আরো পড়ুন
ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

 

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এছাড়া এটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি জানান, গাছের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে মালিক সম্মতি দিয়েছেন।

এদিকে গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। আখাউড়া বড়বাজারের বাসিন্দা মির্জা মারুফ ফেসবুকে লেখেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের ওপরের অংশ কেটে ফেলার ফলে ওজন কমে গিয়ে এবং শিকড় ও মাটির স্থিতিস্থাপকতার কারণে গাছটি আংশিকভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। বিষয়টিকে রহস্যময় বা অলৌকিক হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ঘটনাটিকে সৃষ্টিকর্তার কুদরত হিসেবে দেখছেন। গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, ‘কীভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। গাছটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছিল। অনেকে মানত করছিলেন, শিকড় সংগ্রহ করছিলেন।’

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া জানান, ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর মাটিতে থাকা অবস্থায় তিনি গাছটি কাটতে শুরু করেন। ডালপালা কেটে ফেলার পর গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তার মতে, ওপরের অংশের ভার কমে যাওয়ায় এমনটি ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ও সাবেক অধ্যক্ষ বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, ‘কিছু গাছ ভারসাম্যের কারণে আংশিকভাবে সোজা হয়ে যেতে পারে। তবে কড়ই গাছের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়। এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, মাস দেড়েক আগে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছটি কাটার সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়ার দাবি সামনে এলে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে গাছটিকে ঘিরে ধর্মীয় আচরণ ও জনসমাগম বাড়তে থাকায় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে।

নদীতে গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল বেরোবি শিক্ষার্থীর

রংপুর অফিস
নদীতে গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল বেরোবি শিক্ষার্থীর
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মহানগরীর তাজহাট পানবাড়ি এলাকায় ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে শিহাব শাহরিয়ার নামের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রংপুর নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে তিন বন্ধুর সঙ্গে নগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাড়ি ব্রিজসংলগ্ন ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নামেন শিহাব। একপর্যায়ে তিনি নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিহাব নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে শিহাবকে নদী থেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ফারুক জানান, নদী থেকে উদ্ধারের সময় শিহাবের হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিহাবের অকাল মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।

মদনে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
মদনে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
মিঠু মিয়া ও জামাল ভূইয়া (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার মদনে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ও আজ শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলায় কনস্টেবল মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান আহত হন। পরে ওই ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।

এ সময় মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ তাকে সরে যেতে বললে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর মদন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্তার হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঘটনাস্থল থেকেই ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তিনি মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শুক্রবার মিঠু মিয়াকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল।

মামলার অপর আসামি জামাল ভূঁইয়াকে (জাপান) শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত হেলিম ভূঁইয়ার ছেলে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উপস্থিত থেকে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পুলিশ আইন অনুযায়ী দেখছে।’

শিশুদের খেলা নিয়ে দুই পরিবারের সংঘর্ষ, নিহত ১

কেন্দুয়া(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি
শিশুদের খেলা নিয়ে দুই পরিবারের সংঘর্ষ, নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলা নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে জামাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মেহেদী মাকসুদ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের গণ্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জামাল মিয়া ওই গ্রামের মৃত মনোয়ার মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলার সময় জামাল মিয়া ও সুজন মিয়ার পরিবারের দুই শিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন জামাল মিয়া।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

গণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম আকন্দ কল্যাণ বলেন, শিশুদের খেলা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামাল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ বলেন, সংঘর্ষে আহত জামাল মিয়াকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় অজু আক্তারকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সুজন মিয়া পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।