নেত্রকোনার মদনে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ও আজ শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলায় কনস্টেবল মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান আহত হন। পরে ওই ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
এ সময় মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ তাকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর মদন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্তার হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঘটনাস্থল থেকেই ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তিনি মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শুক্রবার মিঠু মিয়াকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল।
মামলার অপর আসামি জামাল ভূইয়াকে (জাপান) শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত হেলিম ভূইয়ার ছেলে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উপস্থিত থেকে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পুলিশ আইন অনুযায়ী দেখছে।’





