• ই-পেপার

ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ঝড়ের আভাস

প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া উৎসবের চূড়ান্ত পর্ব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া উৎসবের চূড়ান্ত পর্ব শুরু
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রায় ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা কাল শুরু হয়েছে। এটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তাদের মধ্যে বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৮ জন এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন।

এ বছরের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দল ও ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছে। অপরদিকে বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দল এবং ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় মাঠে নেমেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি ক্ষুদে খেলোয়াড় এই  প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ  করেছে।

গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

গতকাল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মিরপুরস্থ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। উদ্বোধনকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের মধ্যেই রয়েছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা যেন খেলাধুলায় পারদর্শী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ’

এবার জাতীয় পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৮টি বালক ও ৮টি বালিকা দল রয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী-পুরুষ সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা ও সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২০ জুন ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের কথা রয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুসংগঠিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশের ক্রীড়া ও শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা হচ্ছে, শিশুদের জন্য এই মহোৎসব ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির পাশাপাশি একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

পুশ ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার

অনলাইন ডেস্ক
পুশ ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার
সংগৃহীত ছবি

পুশ ইন প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে কোস্ট গার্ড। আজ শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আওতাধীন সীমান্তবর্তী এলাকার সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম ও নজরদারি জোরদার করেছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তাদের দায়িত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে পুশ ইন প্রতিরোধসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। 

কোস্ট গার্ড সুন্দরবনসহ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন সারভেইলেন্স এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে।

পুশ ইন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ প্রদান করে পুশ ইন রোধে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাব্বির আলম সুজন। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, দুপুরে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজারে পৌঁছান হাকান ফিদান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

প্রথমে তারা উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরবর্তীতে ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন হাকান ফিদান। এসব ক্যাম্পে অবস্থিত তুরস্কের নির্মিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা, থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, এপিবিএন ও র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচআরএসএএসের প্রতিবেদন

মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে মৃত্যু ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মবে মৃত্যু ৩৬
প্রতীকী ছবি

দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব জাস্টিস বা গণপিটুনির ঘটনা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সদ্যসমাপ্ত মে মাসেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ৫ জন এবং মব সহিংসতার নির্মম শিকারে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন নাগরিক। এ ছাড়া সাংবাদিক হেনস্তা, সীমান্ত হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মে-২০২৬ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

  • রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫, আহত ২৮৯

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। তবে মে মাসে হতাহতের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় কিছুটা কম। গত এপ্রিল মাসে ৯৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছিলেন।

মে মাসের রাজনৈতিক সহিংসতার রাজনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৪ জন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১০টি ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১৪টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৭২ জন আহত, এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন ২ জন সদস্য। নিহত মোট ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ১ জন, জামায়াতের ১ জন, ইউপিডিএফের ২ জন এবং ১ জন সাধারণ নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ সহিংসতাই ঘটেছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া ৮টি সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

  • যৌথবাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার

মে মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৩টিরও বেশি মামলা হয়েছে, যেখানে ৪০৫ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৯৩২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য ইস্যুতে মোট ২১২টি ঘটনায় অন্তত ৩৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৪৬ জন, বিএনপির ৬৪ জন, জামায়াতের ১২ জন এবং এনসিপির ৯ জন রয়েছেন।

এর বাইরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৯৩৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য।

  • মব সহিংসতায় ৩১ জনের মৃত্যু

মব সহিংসতা ও গণপিটুনি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ৬৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন।

  • মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। ১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং ২টি মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পাশাপাশি ১০টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যাতে ৪১ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশের জেরে অন্তত ১১টি ঘটনায় ৬ জনকে আটক ও ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ১ জন এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে ৫টি পৃথক মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • সংখ্যালঘু ও মাজারে হামলা

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৩টি হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৬টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং ১টি ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া ও ঢাকায় পৃথক দুটি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • সীমান্তে উত্তেজনা ও হতাহত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও হামলার ৬টি ঘটনায় ৬ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন (যার মধ্যে ৩ জন গুলিবিদ্ধ)। এছাড়া ১৪ জনকে আটক করেছে বিএসএফ। অপরদিকে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪টি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।

  • শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি

মে মাসে ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে অস্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৪১ জন শ্রমিক কর্মস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন।

  • নারী ও শিশু নির্যাতন চরম পর্যায়ে

মে মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এই এক মাসে মোট ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৭ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরী। ১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৭৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতার কারণে ৬৩ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৪৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া যৌতুকের কারণে ৩ জন নিহত এবং এসিড নিক্ষেপে ১ জন নারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মে মাসে অন্তত ২১৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক ও নারী-শিশু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব সমস্যার জরুরি সমাধান করা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।