• ই-পেপার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর
ছবি : রয়টার্স।

নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে যাত্রীবাহী একটি ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়ার পর তৃষ্ণায় অন্তত ৪৯ জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। নিহতরা প্রতিবেশী মালি থেকে একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিলেন। 

মরুভূমির মধ্যে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাদের কাছে থাকা পানি শেষ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আসামাকা এলাকার পশ্চিমে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আসামাকা হলো নাইজার, আলজেরিয়া ও মালি সীমান্তের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।

স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ট্রাকের চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা গাড়িটি মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য ও সহায়তা না থাকায় তারা চরম দাবদাহের মধ্যে আটকা পড়ে যান। ফলে অনেকেই তৃষ্ণায় মারা যান। তবে দুজন যাত্রী প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে একটি পানির উৎসে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে তারা আসামাকায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে। সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীদের একটি পরিচিত পথ। প্রতিবছর চরম গরম, পানির অভাব এবং দুর্গম পরিবেশের কারণে অনেক মানুষ এই পথে প্রাণ হারায়।
 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
ফাইল ছবি

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাইর শহরের বাইরে শামা শহরের সামনের একটি পাহাড়ি এলাকায় সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর কয়েক মিনিট আগে দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জবেইল জেলাতেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই সময় কাফরা শহরের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা এসব হামলায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক হামলাই গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনার খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের আশপাশের এলাকাও রয়েছে।

সম্প্রতি জাবাল আমেল হাসপাতালের কাছের একটি ব্যাংক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালটি দক্ষিণ লেবাননের এখনো চালু থাকা শেষ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের অন্যতম। টাইর শহরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর চিকিৎসাসেবার জন্য নির্ভরশীল।

এর আগে আরেকটি বিমান হামলায় হাসপাতালের ঠিক বিপরীত পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই হামলার প্রভাব হাসপাতালেও পড়ে এবং ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলাগুলো বারবার হাসপাতালের খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। যদিও সরাসরি হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না, তবুও বিস্ফোরণের কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পুরো টাইর শহর ঘিরে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও এখনো কিছু বাসিন্দা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের মতে, যারা এখনো সেখানে রয়েছেন, তারা প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। কারণ অঞ্চলটিতে হামলা, গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলেও গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিউফোর্ট দুর্গের কাছের কয়েকটি কৌশলগত উঁচু স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বেড়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারছে না আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি)। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির একটি গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এপি ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনে আইএইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকে সংস্থাটির পরিদর্শকরা এসব স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএইএ বলেছে, ইরানের কাছে বর্তমানে কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেই ইউরেনিয়ামের ধরন কী, সেগুলো কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না- এসব বিষয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

সংস্থাটি আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইরানের ওপর যে তদারকির দায়িত্ব আইএইএর রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তারা তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আইএইএর ভাষায়, এ বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব পালন করা 'অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য'।

এপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনের পর থেকে আইএইএ- এর পরিদর্শকরা মাত্র একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। সেটি হলো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ১ থেকে ৩ জুন সেখানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আইএইএর সর্বশেষ নথিভুক্ত তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে আর খুব বেশি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো।

গ্রোসি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হলে তা বাস্তবায়ন ও তদারকিতে আইএইএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
 

ফিলিস্তিনি গ্রাম উচ্ছেদে ইসরায়েলি নির্দেশ, নিন্দা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনি গ্রাম উচ্ছেদে ইসরায়েলি নির্দেশ, নিন্দা জাতিসংঘের
ছবি: রয়টার্স

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত খান আল-আহমার এলাকার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) একটি বিশেষ কমিটি।

কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের এই উদ্যোগ ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত ও বেআইনি নীতি। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও আধিপত্যের ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বহুবার ভোট দিয়েছে। তাই এসব এলাকায় জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন বা ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিপন্থী।

কমিটির মতে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের এ ধরনের পদক্ষেপ ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ‘নাকবা’র ধারাবাহিকতাকেই আজো বজায় রাখছে। ‘নাকবা’ বলতে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে বোঝানো হয়।

এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের তথাকথিত ‘ই-১ এলাকায় অবস্থিত খান আল-আহমার জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি ইসরায়েলি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই খান আল-আহমারের বাসিন্দারা উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।