ফ্রান্স ওপেনের সেমিফাইনালে শীর্ষ বাছাই রুশ তারকা মিরা আন্দ্রেভার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছেন ইউক্রেনের মার্তা কস্তিউক। এতেই রোলা গ্যারোতে (ফ্রেঞ্চ ওপেন) মেয়েদের এককের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন রাশিয়ার ১৯ বছর বয়সী কিশোরী মিরা।
কস্ত্যুককে ৬-১, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়ে ম্যাচটিতে নিজের পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেন রুশ উদীয়মান তারকা। গত ৩০ বছরে মার্টিনা হিঙ্গিস, কিম ক্লাইস্টার্স ও কোকো গফের পর চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়লেন আন্দ্রেভা।
মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে শীর্ষ স্তরে খেলা আন্দ্রেভা এত দিন নিজের রাগ, আবেগ এবং প্রত্যাশার চাপ সামলাতে বেশ ভুগছিলেন। তবে অবশেষে যেন তিনি নিজেকে চিনেছেন এবং বড় শিরোপার জন্য প্রস্তুত করেছেন। ম্যাচ শেষে আন্দ্রেভা বলেন, ‘আমি নিজেকে শান্ত ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করছি। ইদানীং আমি অনেক কিছু নিয়ে কাজ করছিলাম। মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত আমি সঠিক পথটি খুঁজে পেয়েছি যা আমার জন্য কাজ করছে।’
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক ১১ দিন আগে, প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের দিন সকালে কস্তিউক জানতে পারেন যে ইউক্রেনে তার পারিবারিক বাড়ির মাত্র ১০০ মিটার দূরে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যেখানে তার মা, বোন ও নানি অবস্থান করছিলেন। ক্যারিয়ারের সেরা গ্র্যান্ড স্লাম সফর শেষে সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের খেলোয়াড়ের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হলো তাকে।
হারের পর কস্তিউক বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালের পর দর্শকরা যেভাবে আমাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে, তা আমি কোনো দিন ভুলব না। এই স্মৃতি আমি চিরকাল বয়ে বেড়াব। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি বলে যে তাদের কোনো প্রভাব নেই, আমি তা কখনোই বিশ্বাস করব না। কারণ আমি নিজে এর প্রমাণ পেয়েছি।’
এদিকে ম্যাচের আগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি পরিস্থিতি নিয়ে সবার একটি স্পষ্ট অবস্থান থাকবে, বিশেষ করে যখন আপনার দেশ অন্য দেশের মানুষকে হত্যা করছে। এই পরিস্থিতির পরও কোনো কথা না বলে কেউ কীভাবে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, তা আমার জানা নেই।’
গত চার বছর ধরে ডব্লিউটিএ ট্যুরে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার খেলোয়াড়দের এই বৈরিতা নিয়মিত রূপ নিয়েছে। ম্যাচের আগে টসের সময় দুই দেশের খেলোয়াড়রা শিশুদের সঙ্গে আলাদাভাবে ছবি তোলেন। ম্যাচ শেষে যথারীতি আন্দ্রেভার সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থাকেন কস্তিউক।
অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয়ের পরও আন্দ্রেভাকে দেখা যায় বেশ সংযত। কস্তিউক করমর্দন করবেন না এমন সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ম্যাচ জয়ের পর জালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি কমিয়ে দেন তিনি, যাতে দুই খেলোয়াড়কে একই সময়ে নেটের সামনে মুখোমুখি হতে না হয়।