• ই-পেপার

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শীতলক্ষ্যা রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ সভা

কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৫

৫ মাসে ৭ জনের মৃত্যু কুমেকে চিকিৎসাধীন ৫৪৬ জন কুমিল্লায় জেলায় আক্রান্ত ৩৮৫

জাহিদ পাটোয়ারী, কুমিল্লা
কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৫
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লায় এইচআইভি সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। গত পাঁচ মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৩৭ জন। এ নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে বর্তমানে ১৫ জেলার মোট ৫৪৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে শুধু কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ৩৮৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ যৌনকর্মী।

কুমেকের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম এডমিন মো. আরিফ হাসান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মে মাসের ২৫ তারিখে ২১ বছর বয়সী এক জন, ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী একজন এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা তিনজনই পুরুষ এবং সবাই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

এ নিয়ে চলতি বছরেই কুমিল্লা জেলার মোট ৭ জনের মৃত্যুর হয়েছে। তাদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চে ১ জন, এপ্রিলে ১ জন এবং মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়।

নিহত ২১ বছর বয়সী যুবকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাদের বিয়ের আগেই এইচআইভি পজেটিভ ধরা পড়লেও বিয়ের সময় বিষয়টি গোপন রাখা হয়। স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন আগে ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জনতে পারেন এইডসে আক্রান্ত।

আরো পড়ুন
আইভীর বাড়ির সামনে কর্মীর ভিড়, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

আইভীর বাড়ির সামনে কর্মীর ভিড়, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

 

তিনি বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর কুমিল্লা মেডিক্যালে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি তিনিও এইচআইভিতে আক্রান্ত। বর্তমানে আমিও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।’

এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্র মতে, কুমিল্লা জেলায় বর্তমানে ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের স্যাম্পল পরীক্ষায় ৩৭ জনের এইচআইভি সনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন (পুরুষ) যৌন সম্পর্কিত, বিবাহিত সম্পর্ক থেকে ৩ জন, সাধারণ মানুষ ২ জন, বিদেশ ফেরত আক্রান্ত ২ জন, নারী যোনকর্মীর গ্রাহক ১ জন এবং অন্যান্য ৬ জন।

২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমেকে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষায় ২৭৮ জন সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ এবং বান্দরবান জেলার ৫৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন ১৩ জন।
 
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কুমিল্লা এআরটিতে ২০১৯ সালের ২২৬ জনের পরীক্ষায় ১৫ জনের পজেটিভ, ২০২০ সালে ৩১১ জনের পরীক্ষায় ৮ জনের পজেটিভ, ২০২১ সালে ৪৯৮ জনের পরীক্ষায় ১৪ জনের পজেটিভ, ২০২২ সালে ৭৮৬ জনের পরীক্ষায় ২১ জনের পজেটিভ, ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০ জনের পরীক্ষায় ৪৮ জনের পজেটিভ, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১ জনের পরীক্ষায় ৫৮ জনের পজেটিভ, ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২ জনের পজেটিভ এবং ২০২৬ সালের ৫ মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের পরীক্ষায় ৩৭ জনকে সনাক্ত হয়।

আরো পড়ুন
পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি কল্যাণ সমিতির

পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি কল্যাণ সমিতির

 

মো. আরিফ হাসান জানান, সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো আগে বেশিরভাগ সংক্রমণই রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে ছড়ালেও এখন যেসব কেসগুলো পাওয়া যাচ্ছে যৌনবাহিত বলেই সনাক্ত হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত জন শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই পুরুষ থেকে পুরুষে যৌন সম্পর্কিত ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন এবং প্রবাস থেকে ফেরত আসা ৪৯ জন। এইচআইভি সংক্রমিত বিবাহিত সঙ্গী থেকে সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ জন, নারী যৌন কর্মী থেকে ছড়িয়েছে ২১ জনে। তবে এর মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যা ৩২ জন।

তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত সবাইকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। 

গ্রেপ্তার হওয়া মোজাহিদ শেখ (৪০) একই গ্রামের মৃত গাউস শেখের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে অভিযুক্তকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি গণশিক্ষা বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে প্রায়ই শিশুটিকে বিভিন্ন খাবার কিনে দিতেন। শিশুটি অভিযুক্তকে চাচা বলে ডাকতেন।  

গত ৩ জুন দুপুরে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করানোর জন্য নিয়ে সেখানে ধর্ষণ করেন। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করলে তার মায়ের কাছে অসুস্থতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়। 

আরো পড়ুন
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর। সে কাজের সন্ধানে বাইরে থাকায় ও মা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার সুবাদে অভিযুক্ত মোজাহিদ শেখ শিশুটিকে প্রায়ই ঘুরতে নিয়ে যেত। এর আগে শিশুটির কিছু কথাবার্তায় অভিযুক্তের বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। সর্বশেষ শিশুটির অসুস্থতার পর পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণের বিষয়ে বুঝতে পারেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বৈলতলী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সৌরভ হোসেন নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী ইপিজেডের বেপজা আবাসিক কোয়ার্টারের সি-১ ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সৌরভের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সৌরভ হোসেন  (১৩) নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার আশুরপুর এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। সে আদমজী ইপিজেডের এম. ডব্লিউ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে ওই আবাসিক কোয়ার্টারেই বসবাস করত নিহত সৌরভ।

স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে সৌরভ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মা তাকে ডাকতে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও তার পা বিছানা ও মেঝে স্পর্শ করছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন না এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঝুলন্ত মরদেহের অবস্থান নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

পুলিশ আরো জানায়, নিহত সৌরভের বাবা মো. সাদ্দাম হোসেন আদমজী ইপিজেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হওয়ায় তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক(ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

পীরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
পীরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগাছায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) এবং শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪)। তারা চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাই-বোন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে দুই শিশু একসঙ্গে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময় পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

আরো পড়ুন

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে আপন ২ ভাইয়ের মৃত্যু

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে আপন ২ ভাইয়ের মৃত্যু

 

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দুই শিশুরই মৃত্যু হয়।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল শেষে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।