আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলী মাঠে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা। ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম। ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। দেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর জরুরি।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, ‘জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক প্রমূখ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ধরা’র সদস্য শাহরিয়ার শাওনের একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।




