• ই-পেপার

দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল, সংকটে ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্র

ইরানের ইউরেনিয়াম নিতে চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম নিতে চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কাছ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও চুক্তির প্রয়োজন নেই।

একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানায় আরব নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনও চুক্তির প্রয়োজন নেই বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন। 

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাইলে এখনই সেটা (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) পেতে পারি। আমার মনে হয় না, আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এর কোনও প্রয়োজন নেই। এটা এখন চাপা পড়ে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনও ইচ্ছা তার নেই। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনও চুক্তি হয়, তাহলে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর যদি এমনটা ঘটে, তাহলে আমি সম্মানজনক আচরণই করব।’

প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা এবং পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও প্রক্রিয়াজাত করলে তুলনামূলক দ্রুত সময়ে অস্ত্রমানের উপাদানে রূপান্তর করা সম্ভব।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন লাগার ঘটনায় বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতি সরকারের প্রাথমিক বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের হাতে আসা নতুন ভিডিওতে এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মার্চে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছিল। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগুন লাগার ঘটনাটিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছিল।

নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, রণতরির ভেতরের নাবিকদের থাকার জায়গা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোয়ার খাটগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় বাঁকানো ধাতব কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।

ছাদ ও উপরের অংশ আগুনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ছাদের ভেতর থেকে খোলা তার ঝুলতে দেখা গেছে এবং পুরো এলাকায় ছাই ও পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহাজে থাকা এক নাবিক জানান, আগুন নেভানোর সময় তারা সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে পুরো রণতরিটি হারিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, 'আমি সত্যিই মনে করেছিলাম আমরা জাহাজটি হারাতে যাচ্ছি। তখন মনে হয়েছিল, হয় লড়তে হবে, না হলে মরতে হবে।'

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে, ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এবং পুনরায় আগুন লাগা ঠেকাতে জাহাজের কর্মীদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

এই ঘটনায় প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা ব্যবহার করতে পারেননি বলে জানা গেছে। এতে জাহাজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা ওই বিমানবাহী রণতরিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।


 

মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজেকে উন্নত করতে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

অনলাইন ডেস্ক
মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজেকে উন্নত করতে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক
ছবি : সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পানি অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে এটি মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজেকে উন্নত করবে এবং নিজের চেয়েও শক্তিশালী নতুন এআই তৈরি করতে পারে। 

কম্পানিটি বলছে, এই ধারণাকে বলা হয় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট।’ অর্থাৎ এআই নিজেই নিজের ক্ষমতা বাড়াবে এবং নতুন সংস্করণ তৈরি করবে, যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না।

অ্যানথ্রপিক সতর্ক করেছে, এমন প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ নিলে মানুষের পক্ষে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে। কম্পানিটির মতে, বর্তমানে এআইকে সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজে ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কম্পিউটিং শক্তি থাকলে ভবিষ্যতে এমন সময় আসতে পারে, যখন একটি এআই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে পারবে।

অ্যানথ্রপিক আরো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের সফটওয়্যার কোডের ৮০ শতাংশেরও বেশি লিখেছে তাদের নিজস্ব এআই মডেল। একটি কোডবেস হলো কোনো সফটওয়্যার তৈরির, পরীক্ষা করার এবং রক্ষণাবেক্ষণের মূল কাঠামো বা ভিত্তি। তবে কম্পানিটি মনে করে, এআই যদি নিজেকে আরো উন্নত করতে পারে, তাহলে এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে এটি বড় অগ্রগতি আনতে পারে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, আগামী কয়েক বছরে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়বে বলে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, নিজেকে তৈরি ও উন্নত করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে, যা যেমন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, তেমনি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করবে।

অ্যানথ্রপিক সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যদি এআই নিজেই নিজের চেয়ে আরো উন্নত এআই তৈরি করতে পারে, তাহলে এসব প্রযুক্তিকে নিরাপদ রাখা, নজরদারিতে রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ করা  গুরুত্বপূর্ণ।

ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণোই বলেন, এখন এআই ক্রমেই নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কোড লিখতে শুরু করেছে। ফলে চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন প্রযুক্তি তৈরি নয়, বরং তা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করাও। তার মতে, নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি অনেক দ্রুত করতে পারে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং তদারকি নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এআই যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা যেন মানুষের লক্ষ্য ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

অ্যানথ্রপিকের মতে, উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ এআই কম্পানিগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করা বা সাময়িক বিরতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, যদি শুধু কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন থামায় আর অন্যরা এগিয়ে যেতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বাস্তবে সব কম্পানিকে একসঙ্গে এআই উন্নয়ন থামাতে রাজি করানো কঠিন। কারণ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয় সব সময়ই থাকবে। এ কারণে অ্যানথ্রপিকের গবেষণা বিভাগ নীতিনির্ধারক, গবেষক, সামাজিক সংগঠন এবং অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায়। এসব আলোচনায় এআইয়ের ঝুঁকি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় নিয়ে মতবিনিময় করা হবে।

অন্যদিকে, সবাই এআই নিয়ে সমানভাবে উদ্বিগ্ন নন। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এআই কখনোই পুরোপুরি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে না, কারণ প্রয়োজন হলে মানুষ সব সময় এসব ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে পারবে। তবে তারা এটাও মনে করেন, নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করতে সক্ষম অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও দেখা দিতে পারে।

শপথের ৩ দিনের মাথায় ভারতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
শপথের ৩ দিনের মাথায় ভারতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ
সংগৃহীত ছবি

নিজের পছন্দের দপ্তর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে শপথ নেয়ার মাত্র ৩ দিনের মাথায় মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন কংগ্রেস নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। এতে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের নতুন সরকার গঠনের তিন দিনের মাথায় বড় ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার।

রামালিঙ্গা রেড্ডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত বুধবার কর্ণাটকের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। এর তিনদিন পর আজ শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। 

দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে রেড্ডি বলেন, ‘ডি কে শিবকুমার তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়, যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’

রেড্ডি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ডি কে শিবকুমার আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাকে বেঙ্গালুরুর দায়িত্ব দেয়া হবে। আমি কোনও নির্দিষ্ট দপ্তর চাইনি, তিনিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আমি তাতে সম্মতি জানিয়েছিলাম।’

প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাকে দুবার একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাকে সেচ মন্ত্রণালয় দেয়া হয়।’

এটি মেনে নিতে পারেননি উল্লেখ করে রেড্ডি বলেন, ‘এ কারণেই আমি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তিনি আরও ঘোষণা দেন, এখন তার পছন্দের কোনও দপ্তর দেয়া হলেও তিনি ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় আর যোগ দেবেন না। তার ভাষায়, ‘এখন যদি আমাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরও দেয়া হয়, তবুও আমি তা গ্রহণ করব না। আমি বিধায়ক হিসেবে কাজ করব এবং কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকব।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার তার ১৩ সদস্যের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন করেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, রামালিঙ্গা রেড্ডি বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর পাওয়ার বিষয়ে অনড় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সেই দায়িত্ব দেয়া হয়নি।