আমেরিকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং এশিয়ায় কয়লা রপ্তানি বাড়াতে কয়েক কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। তহবিলের বড় অংশই আসবে স্নায়ুযুদ্ধকালীন একটি বিশেষ জরুরি আইন থেকে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।
ট্রাম্প ১৩টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিকায়নের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন (৪২ কোটি ৫০ লাখ) ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কয়লা রপ্তানি টার্মিনালের জন্য ৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছেন। এই অর্থায়নের জন্য তিনি ১৯৫০ সালের ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ নামক একটি বিশেষ আইন প্রয়োগ করেছেন, যা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে শিল্প খাতের ওপর ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। এ ছাড়া আলাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার নতুন প্রকল্পসহ চারটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উন্নয়নে আরো ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, কয়লার দূষণ মানুষের হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ বাড়ায়, যা মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন সিয়েরা ক্লাবের জলবায়ুনীতি পরিচালক প্যাট্রিক ড্রাপ এটিকে করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে ক্ষোভ জানান। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আদালতে লড়াই করবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
আমেরিকায় নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সস্তা প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়ায় কয়লা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা অনেক কমেছে। ১৯৯০ সালে আমেরিকার অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ কয়লা থেকে এলেও এখন তা এক-পঞ্চমাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এমনকি ট্রাম্পের নানামুখী চেষ্টা সত্ত্বেও দেশটিতে কয়লা খনি শ্রমিকের সংখ্যা ২০১৭ সালের ৫১,৫০০ থেকে কমে গত বছর প্রায় ৩৯,৮০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স








