• ই-পেপার

হেলসিংবার্গের অভিশপ্ত বিকেল

যেভাবে চুরমার হয়েছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় অহংকার

নারী ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইম আউট’ রিতসি চোডেন

ক্রীড়া ডেস্ক
নারী ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইম আউট’ রিতসি চোডেন
ভুটানের ব্যাটার রিতসি চোডেন। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ‘টাইমড আউট’ হওয়ার ঘটনা এখনো আলোচনায়। সেই ঘটনার প্রায় তিন বছর পর নারী ক্রিকেটেও দেখা গেল একই ধরনের বিরল আউট।

ভুটানের ব্যাটার রিতসি চোডেন আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হয়ে আউট হয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এসিসি প্রিমিয়ার কাপের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে এই ঘটনা ঘটে। রান তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ভুটানের ওপেনার এনগাওয়াং চোডেন। এরপর ব্যাট করতে নামার কথা ছিল রিতসি চোডেনের।

কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। গ্লাভস ও হেলমেট হাতে নিয়ে প্রায় ৯০ সেকেন্ড পর ক্রিজে আসেন চোডেন। তখনই নেপালের ফিল্ডাররা ‘টাইমড আউট’-এর আবেদন করেন।

অন-ফিল্ড আম্পায়ার সেই আবেদন মেনে নিলে কোনো বল না খেলেই সাজঘরে ফিরে যেতে হয় তাকে।

ঘটনার পর মাঠে উল্লাস করেছিল নেপাল দল। তবে ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যায় দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে।

নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএএন) এক বিবৃতিতে ভুটান ক্রিকেট, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় এবং সব অংশীজনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ঘটনাটি ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী হলেও এটি আমাদের ধারণ করা ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ ও ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর প্রতিফলন নয়। খেলাধুলায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হন। এবার সেই বিরল আউটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন ভুটানের রিতসি চোডেন।

মিসরের বিপক্ষে খেলছেন না নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
মিসরের বিপক্ষে খেলছেন না নেইমার
নেইমার

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে নতুন করে চোটের সমস্যায় পড়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। ফলে শনিবার মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, কাফ মাসলের চোটের কারণে নেইমার দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না। তিনি নিউ জার্সিতে দলের ট্রেনিং ক্যাম্পেই থেকে যাবেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।

৩৪ বছর বয়সী নেইমার পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিশ্বকাপের আগে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি। তবে সেখানে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকাকে না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সেলেসাও শিবিরে।

আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

নেইমারের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। 

বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে রুখে দিল ইরাক

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে রুখে দিল ইরাক
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেল না স্পেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ইরাকের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। 

স্পেনের মাঠ এস্তাদিও আবাঙ্কা-রিয়াসোরে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটেই অ্যালেক্স বায়েনার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ইরাক গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল।

আরো পড়ুন
তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

 

তবে ১৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। দানি ওলমোর পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে গোল করেন ফেরান তোরেস। তার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই ছিল, কিন্তু ২৭তম মিনিটে হঠাৎই সমতায় ফেরে ইরাক। বাম দিক থেকে দূরপাল্লার এক চমৎকার লব শটে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন মেরচাস দোস্কি।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। তোরেসের একটি দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর দানি ওলমোর আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন বাসিল।

আরো পড়ুন
ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের

ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের

 

দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তনের কারণে ম্যাচের ছন্দ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। হেসুস রদ্রিগেস, গঞ্জালো গার্সিয়া ও ইয়েরেমি পিনো সুযোগ পেলেও জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি স্পেনের।

বিশ্বকাপের আগে এই ড্র স্পেনের জন্য কিছুটা হতাশার হলেও টানা ২৯ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।

অন্যদিকে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে থাকা ইরাক এই ফল থেকে আত্মবিশ্বাস পাবে। শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের আগে বড় বার্তাই দিল তারা।

তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

ক্রীড়া ডেস্ক
তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল
সংগৃহীত ছবি

এক সময় তালেবান শাসনের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। ফুটবল মাঠ তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপনও হয়ে উঠেছিল কঠিন। তবে হার মানেননি আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা। দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংগ্রাম, অপেক্ষা এবং অদম্য সাহসের পর আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের সব ধরনের খেলাধুলা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিপীড়নের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে ছিলেন গোলরক্ষক ফাতিমা ইউসুফি ও মিডফিল্ডার মোনা আমিনিও।

ফাতিমা মাত্র একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন। সঙ্গে ছিল শুধু একটি স্বপ্ন। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলবেন।

ফাতিমা, মোনাদের আফগান নারী দলের ১৩ জন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় বসতি গড়েন। এরপর গত পাঁচ বছর তারা অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, অপেক্ষা করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগের।

অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে সেই সুখবর আসে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আফগান নারী দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেয়।

বর্তমানে আফগান উইমেন ইউনাইটেড কর্মসূচির ২৩ সদস্য নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রয়েছেন। সেখানে তারা কুক দ্বীপপুঞ্জের একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবেন।

মোনা আমিনি বলেন, ‘যেদিন শুনলাম আমরা আবার আফগানিস্তানের পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে পারব, সেটি ছিল বিশেষ একটি দিন। গত চার-পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল এটি।’

ফাতিমা ইউসুফিও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আসার সময় আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। পরিবার, শৈশবের স্মৃতি এবং জাতীয় দল। আবার জাতীয় দল হিসেবে খেলতে পারব, এর চেয়ে বড় সুখের খবর আর হতে পারে না।’

আফগান নারী দলের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল ২০১৮ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। তবে গত বছর ‘ইউনাইট’ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে লিবিয়ার বিপক্ষে জয় পায় দলটি। তিন বছর পর জাতীয় সঙ্গীত শোনার সেই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন খেলোয়াড়রা।

আফগানিস্তানে থাকা নারী ও কিশোরীদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও অনুভব করেন তারা। মোনা বলেন, ‘আমরা তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ভবিষ্যতের আফগান নারী জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই।’

ফাতিমার বিশ্বাস, তাদের দল এক দিন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই মেয়েরাও সমাজের অংশ, তারা শিক্ষা ও খেলাধুলার অধিকার রাখে।’