• ই-পেপার

আত্মকেন্দ্রিকতা আত্মার নীরব ব্যাধি

বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃষ্টির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
সংগৃহীত ছবি

আকাশে যখন মেঘ জমে, মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়, নদী-নালা পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং মানুষ বৃষ্টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, তখন একজন মুমিনের হৃদয় সর্বপ্রথম মুখাপেক্ষী হয় আসমান-জমিনের মালিক মহান আল্লাহর দিকে। কারণ বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার এক মহা রহমত, যার মাধ্যমে মৃতপ্রায় ভূমি পুনর্জীবন লাভ করে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সচল হয়। তাইতো মহানবী (সা.) যখন অনাবৃষ্টি লক্ষ করতেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান মারিআন মারিয়ান নাফিয়ান গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিলিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো।’

হাদিস : জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করে বলেন, একদিন মহানবী (সা.)-এর কাছে কিছু লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) কাঁদতে কাঁদতে আসলে তিনি তখন তীব্র গরম ও অনেক দিনের অনাবৃষ্টির কারণে বৃষ্টি প্রার্থনা করে এই দোয়া পাঠ করেন। বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, এরপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। এবং প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ হয়। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১১৬৯)

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও ইসলাম

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও ইসলাম
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের শিক্ষা হলো নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার Submissive (আত্মসমর্পিত-অনুগত) সমাজ বিনির্মাণ। প্রিয় নবী (সা.)-এর দর্শন ‘সহজ করো, জটিল করো না। সুসংবাদ দাও, ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়ো না।’ (বুখারি)
মরুর ঊষর-ধূসর প্রান্তরে প্রিয় নবী (সা.)-এর আগমনের প্রতীক্ষায় প্রকৃতি সেজে ছিল মায়াবী রূপসজ্জায়। গাছে গাছে সবুজের সমারোহ, ম ম গন্ধে খেজুরের ছড়াগুলো উঁকি দিচ্ছে আর পাখ-পাখালির কূজন, নদীর কলতান ও বাতাসের উদাসী গুঞ্জরণ ইসলামে পরিবেশের তাৎপর্য শিক্ষা দেয়। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস (WED) ১৯৭২ সালে মানব পরিবেশবিষয়ক স্টকহোম সম্মেলনের সময় জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৭৩ সালে ‘একমাত্র পৃথিবী’ (Only One Earth) এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রথমবার উদযাপিত হয়। ২০২৬ সালে আজারবাইজানের বাকু (Now For Climate) ‘এখন জলবায়ুর জন্য’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদযাপনের আয়োজন করেছে। জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ এবং পৃথিবী থেকে আসা সংকেত, যেমন ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, চরম আবহাওয়া এবং বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয়ের প্রতি সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। এ প্রচারাভিযানটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্র, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের মধ্যে সংযোগ তুলে ধরে।

নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য বৃক্ষের বিকল্প নেই। বৃক্ষ ও জীবজগৎ পরস্পর সম্পৃক্ত, কিন্তু নির্বিচার বৃক্ষ নিধনে পরিবেশ-প্রকৃতিতে দেখা দিচ্ছে বিরূপ প্রভাব। একদিকে খরা ও মরুময়তা, অন্যদিকে অতিবর্ষণ ও বন্যায় তৈরি হচ্ছে ভারসাম্যহীন, ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা।

মানুষ ও প্রাণীর খাদ্যসহ নানা সুবিধার আয়োজন এবং সব প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ‘আকাশ থেকে আমি পানি বর্ষণ করি উপকারী বৃষ্টি এবং তা দিয়ে আমি উদ্যান, শস্যরাজি সৃষ্টি করি ও সমুন্নত খেজুর বৃক্ষ—যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর। আমার বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ; বৃষ্টি দ্বারা আমি সঞ্জীবিত করি মৃতভূমিকে...।’(সুরা : কাফ, আয়াত : ০৯—১১)

তিনি আরো বলেন, ‘আর পানিতে যা আল্লাহ আকাশ থেকে বর্ষণ করেছেন, এরপর পৃথিবীকে সুজলা সুফলা করেছেন...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৪)

জলবায়ু পরিবর্তনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণই একমাত্র সমাধান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই লতা ও উদ্যান সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদবিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জয়তুন ও ডালিম সৃষ্টি করেছেন। তারা একে অন্যের সদৃশ এবং সদৃশহীনও হয়ে থাকে, যখন তা ফলবান হয় তখন তার ফল আহার করবে আর ফসল উঠানোর দিন তার জাকাত (হক) প্রদান করবে এবং অপচয় করবে না। কারণ তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৪১)

বৃক্ষরোপণ একটি ইবাদত তথা আমল ও জিকির। পৃথিবীর সব সৃষ্টি মহান আল্লাহর অনুগত ও ইবাদতরত, সুরা আর-রাহমানে  আছে—‘ওয়াস্সাজারু ইয়াসজুদান...অর্থাৎ সূর্য ও চাঁদ ঘোরে হিসাব মতো, তৃণলতা বৃক্ষ উভয়েই তাঁর অনুগত...।’ (আয়াত : ৫, ৬)

আরো পড়ুন
দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচ সময়

দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচ সময়

 

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি পাতাও ঝরে না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯) প্রিয় নবী (সা.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া বা প্রবহমান দান তুল্য কল্যাণকর ইবাদত অবহিত করে বলেন, ‘যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষরোপণ করে অথবা শস্য ফলায় এবং তা থেকে মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ গণ্য হব্যে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের লক্ষ্য হলো—
সচেতনতা বৃদ্ধি
সহযোগিতা বৃদ্ধি
বৃক্ষরোপণ
পরিচ্ছন্নতা অভিযান
শিক্ষামূলক কর্মশালা
টেকসই অনুশীলন
সৃজনশীল প্রচারাভিযান।
বস্তুত পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ একটি ইবাদত ও আত্মরক্ষামূলক তৎপরতা এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সঞ্চয়। এ জন্য বর্ষাকাল খুবই উপযুক্ত এবং বাংলাদেশের বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণ টিকে থাকার উপায় ও একান্ত জরুরি অগ্রাধিকারের বিষয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া, গাজীপুর

দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচ সময়

মুফতি ইবরাহিম সুলতান
দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচ সময়
সংগৃহীত ছবি

প্রতিদিনের পঠিত আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে তাঁর প্রিয় রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করা। ফজিলতপূর্ণ এ দরুদ পাঠের আমল যেকোনো সময়ই করা যায়। তবে বিশেষ কিছু সময়ের ক্ষেত্রে দরুদ পাঠ করার নির্দেশনা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময়ে দরুদ পাঠের কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো—
 
১. নবীর নাম শুনে দরুদ পাঠ করা : মালেক বিন হুয়াইরিস (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহণ করেন। প্রথম ধাপে চড়েই বলেন, আমিন। অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে চড়ে বলেন, আমিন। অনুরূপ তৃতীয় ধাপেও চড়ে বলেন, আমিন। অতঃপর তিনি (এর রহস্য ব্যক্ত করে) বলেন, “আমার  কাছে জিবরাঈল উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ পাপমুক্ত হতে পারল না আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন।’ তখন আমি (প্রথম) আমিন বললাম। তিনি আবার বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতাকে অথবা তাঁদের একজনকে জীবিতাবস্থায় পেল অথচ তাকে দোজখে যেতে হবে, আল্লাহ তাকেও ধ্বংস করুন।’ এতে আমি (দ্বিতীয়) আমিন বললাম। অতঃপর তিনি বলেন, ‘যার কাছে আপনার (নাম) উল্লেখ করা হয় অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করে না, আল্লাহ তাকেও ধ্বংস করুন।’ এতে আমি (তৃতীয়) আমিন বললাম।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৯০৭)
 
২. মজলিস শেষ করে দরুদ পাঠ করা : বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যেসব লোক কোনো মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তাআলার স্মরণ করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরুদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাদের শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন। (তিরমিজি,  হাদিস : ৩৩৮০)
 
৩. আজানের পর দরুদ পাঠ করা : বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোনো, তখন সে যা বলে তোমরা তা-ই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন...। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৫)

৪. শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা : আওস ইবনু আওস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এদিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল, এদিন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনে আওস (রা.) বলেন, লোকেরা বুঝতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রাসুলদের দেহ হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৫. মোনাজাতের আগে দরুদ : নামাজের পর মোনাজাতের আগে দরুদ পড়াও দোয়া করার আদবগুলোর অন্যতম আদম। যা রাসুল (সা.) নিজেই তাঁর প্রিয় সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন। ফাজালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোককে নবী (সা.) তাঁর নামাজের মাঝে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু নবী (সা.)-এর ওপর সে দরুদ পড়েনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এই ব্যক্তিটি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বলেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করলে সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করে, তারপর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৭)

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আল্লাহর রাসুল (সা.) এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার দিন যেসব কাজ কাম্য নয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যেসব কাজ কাম্য নয়
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন। সব দিনের মধ্যে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তা হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন, তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন, চার. এই দিনে এমন সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না, পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

জুমার দিনটি যেমন মর্যাদা ও ফজিলতে পরিপূর্ণ, তেমনি এই দিনে কিছু নিষিদ্ধ কাজও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। জুমার দিনের নিষিদ্ধ কাজ হলো—

আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা : জুমার আজান হওয়ার পর কেনাবেচা করা এবং দুনিয়াবি সব কাজ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝো।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ৯)

এখানে বেচাকেনা ও ব্যবসা বলতে বোঝানো হয়েছে যাবতীয় ব্যস্ততাকে, তা যেকোনো প্রকারেরই হোক না কেন। জুমার আজানের পর তা ত্যাগ করতে হবে। খুতবা চলাকালীন ঘাড় মাড়িয়ে যাওয়া : খুতবা চলা অবস্থায় মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় দেখলেন জনৈক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৮)

খুতবার সময় দুই হাঁটু উঁচু করে বসা : অনেকে দুই হাঁটু খাড়া করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে বা কাপড় পেঁচিয়ে বসেন। একে আরবিতে ইহতেবা বলা হয়। খুতবা চলাকালীন এভাবে বসা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালে কাউকে হাঁটু খাড়া করে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।’(আবু দাউদ, হাদিস : ১১১০)

খুতবার সময় অনর্থক কথা বলা ও কাজ করা : খুতবার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। খুতবার সময় অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেকেই খুতবার সময় মোবাইল টেপা, মেসেজ চেক করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা ইত্যাদি অনর্থক কাজ করেন। এ কাজগুলো জুমার সওয়াব বাতিল করে দিতে পারে। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার সাথিকে চুপ থাকো বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৩৪)

খুতবা চলাকালীন ঘুমানো : খুতবার সময় ঘুম চলে এলে অজু ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে এবং খুতবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,  ‘যদি মসজিদে কোনো ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৯)

শুধু জুমার দিন রোজা রাখা : শুধু জুমার দিন নির্দিষ্ট করে সিয়াম পালন করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমার দিন সিয়াম পালন না করে। তবে তার আগে এক দিন অথবা পরের দিন (মিলিয়ে রাখবে)।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯৮৫)