ইরানের বিরুদ্ধে টানা সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাচ্ছে—এমন খবর নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি গোলাবারুদ আছে। আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি মজুদ রয়েছে।’ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ চাপের মুখে পড়েছে—এমন প্রতিবেদনও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের কয়েকটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বিশেষভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএম-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পর্যবেক্ষণ করছেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডসহ সামরিক নেতৃত্ব মনে করছে, বর্তমানে এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তারা আরো বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতার ওপর আগাম হামলা বাড়ানো হলে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন কমতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদের ঘাটতি কোনো সমস্যা নয়। তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে দেশটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, অস্ত্রের সংকটে বরং ইরানই বেশি সমস্যায় পড়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের অস্ত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে। হামলা চালানোর জায়গাও কমে যাচ্ছে। কারণ তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অস্ত্রের মজুদ নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন। একটি ছবিতে যুদ্ধবিমানকে ইরানের প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘খার্গে হামলা’। আরেকটি ছবিতে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ দেখা যায়, যেগুলোকে ইরানি তেলবাহী জাহাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'এখন এটি আমাদের তেলবাহী জাহাজ!' আরেকটি ছবিতে একটি ইরানি জাহাজ বিস্ফোরিত অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, 'আর কোনো ইঞ্জিন নেই।'
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার প্রশাসন তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতে চায়। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রভাব নিয়ে দেশটির ভেতরে আলোচনা ও উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।











