• ই-পেপার

অল্প বয়সেই কর্মক্ষেত্রে সম্মান অর্জনের ৩ উপায়

‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক
‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার
সংগৃহীত ছবি

শতবর্ষী জীবনের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কিভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে ১০০ বছর বা তারও বেশি দিন বেঁচে থাকেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘায়ু পাওয়ার এই কৌশল কোনো কঠিন নিয়মকানুন বা বিদেশি দামি খাবারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও সাধারণ কিছু জীবনযাত্রার সঠিক সমন্বয়েই লুকিয়ে আছে শতবর্ষ পাওয়ার আসল চাবিকাঠি। 

সুস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার এক জনপ্রিয় নাম ‘ব্লু জোনস’ ডায়েট। জাপানের ওকিনাওয়া, ইতালির সার্ডিনিয়া, গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ সুস্থভাবে ৯০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। তাদের এই খাদ্যাভ্যাস মূলত উদ্ভিদ-ভিত্তিক, যেখানে শিম, ডাল, শাকসবজি, ফল, শস্যদানা ও বাদাম বেশি থাকে। মাংস ও চিনি খাওয়া হয় খুবই কম, আর প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে প্রায় অনুপস্থিত। ব্লু জোনস ডায়েটের নীতিগুলো গ্রহণ করতে কোনো বিদেশি উপাদান বা আমদানি করা সুপারফুডের প্রয়োজন হয় না। 

শুধু খাবার নয়, জরুরি জীবনযাত্রাও
দীর্ঘায়ু লাভের একমাত্র কারণ শুধু খাবার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, পারিবারিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানসিক চাপ কম রাখাই তাদের সুস্থতার প্রধান চালিকাশক্তি। তাড়াহুড়ো না করে সবার সাথে আনন্দ নিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

হৃদযন্ত্র ও শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক এই খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
ফাইবার ও কোলেস্টেরল : শিম ও ওটসের দ্রবণীয় ফাইবার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
পটাশিয়াম ও রক্তচাপ : শাকসবজি ও ফলের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সুস্থ হৃদযন্ত্র : বাদাম ও বীজের অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের পুষ্টিকর খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

আমাদের দেশীয় খাদ্যাভ্যাসে ব্লু জোনসের প্রয়োগ
ব্লু জোনসের এই স্বাস্থ্যকর নীতি মেনে চলতে কোনো বিদেশি দামি খাবার বা সুপারফুডের প্রয়োজন নেই। আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—যেমন ডাল, ছোলা, বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি ও ফলমূল এই ধারণার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

কী বর্জন করা উচিত : শরীর সুস্থ রাখতে তেলেভাজা, ময়দার তৈরি খাবার, মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ : বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খেলেই স্বাস্থ্যের বড় ধরণের উন্নতি সম্ভব।

দীর্ঘায়ু কোনো ম্যাজিক বা বিশেষ একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে না। এটি বছরের পর বছর ধরে চর্চা করা ছোট ছোট ভালো অভ্যাসের সমষ্টি। নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শারীরিক সক্রিয়তা ধরে রাখা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা—এই সাধারণ সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আয়ু ও জীবনযাত্রার মান বাড়িয়ে তোলে।

অল্প বয়সেই কর্মক্ষেত্রে সম্মান অর্জনের ৩ উপায়

অনলাইন ডেস্ক
অল্প বয়সেই কর্মক্ষেত্রে সম্মান অর্জনের ৩ উপায়
সংগৃহীত ছবি

কর্মক্ষেত্রে নতুনদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের আস্থা ও সম্মান অর্জন করা। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধু অভিজ্ঞতা বা পদবির ওপর নির্ভর করে। তবে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া এক কনটেন্ট নির্মাতা বলছেন, সম্মান অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজের ধরন এবং আচরণ।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেও তিনি মাত্র ১৫ মাসে টানা তিনবার পদোন্নতি পেয়েছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে বয়স বা পদবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় একজন কর্মী কীভাবে প্রতিদিনের কাজ সামলান। তিনি এমন তিনটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন, যা নতুন বা তরুণ পেশাজীবীদের দ্রুত সবার আস্থা ও সম্মান অর্জনে সাহায্য করতে পারে।

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড ভাবুন

তার মতে, অনেক নতুন কর্মী ব্যবস্থাপক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করেন। তারা দ্রুত নিজেদের দক্ষতা দেখাতে চান। কিন্তু এতে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় বা ভুল তথ্য বলে ফেলেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রশ্ন শুনেই উত্তর না দিয়ে দুই সেকেন্ড থামা ভালো। তার ভাষায়, 'আগে বিষয়টি বুঝে নিন। মাথা নেড়ে বোঝান যে আপনি প্রশ্নটি শুনেছেন। তারপর উত্তর দিন।' তিনি বলেন, কয়েক সেকেন্ড ভেবে উত্তর দিলে বোঝা যায়, আপনি শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং চিন্তা করে কথা বলেন। এতে আপনাকে আরো পেশাদার মনে হবে। 

কাজ বুঝেছেন কি না, তা আবার বলে নিশ্চিত করুন

কোনো নতুন দায়িত্ব পেলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে 'জি, অবশ্যই' বলে কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু এতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থেকে যায়। কনটেন্ট নির্মাতার পরামর্শ, দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরো কাজটি নিজের ভাষায় আবার বলে নিশ্চিত করা উচিত। এভাবে কাজের ধাপ, সময়সীমা এবং এরপর কী করতে হবে—সবকিছু আবার বললে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আপনি নির্দেশনা ঠিকভাবে বুঝেছেন। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছেও আপনার মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় উপস্থাপন করা যায়।

কাজ শেষ করে কী শিখেছেন, সেটিও জানান

তার মতে, নতুন কর্মীদের আরেকটি সাধারণ ভুল হলো কোনো কাজ শেষ করেই পরের কাজে চলে যাওয়া। তিনি বলেন, এটি আসলে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তার পরামর্শ, কাজ জমা দেওয়ার সময় শুধু কাজ শেষ হয়েছে বললেই হবে না। বরং সেই কাজ করতে গিয়ে আপনি কী শিখেছেন বা কী নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিও ব্যবস্থাপককে জানানো উচিত। তিনি বলেন, এতে বোঝা যায় যে আপনি শুধু কাজ শেষ করেন না, বরং প্রতিটি কাজ থেকে শেখার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে আরো দক্ষ করে তুলতে চান।

এই কনটেন্ট নির্মাতার মতে, কর্মক্ষেত্রে ভালো সুনাম গড়ে তুলতে বড় কোনো পদ বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের কাজে দায়িত্বশীলতা, মনোযোগ, পরিষ্কার যোগাযোগ এবং শেখার মানসিকতা দেখাতে পারলেই একজন তরুণ কর্মী খুব দ্রুত সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের আস্থা ও সম্মান অর্জন করতে পারেন।

টুথপেস্টের নিচে থাকা লাল-নীল-সবুজ রঙে কি কোনো গোপন রহস্য রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
টুথপেস্টের নিচে থাকা লাল-নীল-সবুজ রঙে কি কোনো গোপন রহস্য রয়েছে
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রচলিত রয়েছে, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা করতে হয়’। যদিও বাক্যটি প্রচলিত, তবে বাস্তবসম্মত। সঠিক সময় সঠিকভাবে দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া না হলে অকালেই নষ্ট হয় দাঁত।

দাঁত নষ্ট হলে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খাওয়া ও মুখের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হতে হবে আপনাকে। যা থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাবারের পুষ্টি থেকে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে শরীর। এ কারণে দাঁত থাকতেই দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করা উচিত।

দাঁতের যত্নে খুব সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে ব্রাশ করা। এ ক্ষেত্রে একেকজনের একেক প্রতিষ্ঠানের টুথপেস্ট পছন্দ। কিন্তু টুথপেস্ট ক্রয়ের সময় প্রায় সবাই হয়তো খেয়াল করে দেখেছেন, টুথপেস্ট টিউবের নিচে কিছু সাধারণ রং-সংকেতযুক্ত বা কালার কোড থাকে, যা দেখে কেউ কেউ ভাবেন―রংগুলো হয়তো পেস্টের উপাদান নির্দেশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এমন কিছু ছড়িয়ে থাকে মাঝে মধ্যে, যা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেস্টের এই উপাদান নির্দেশের তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল।

ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী―সবুজ রং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পেস্ট, নীল প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত, লাল হচ্ছে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক এবং কালো রং হচ্ছে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদানে তৈরি পেস্ট। প্রকৃত অর্থে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি একেবারেই ভুল।

টুথপেস্টের টিউবের এই রংিন দাগের সঙ্গে পেস্টের উপকরণের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, উপাদান প্রক্রিয়ার সময় তৈরি হওয়া একটি চিহ্ন মাত্র। লাইট বিম সেন্সর বা আলোক সংবেদনশীল যন্ত্র চিহ্নগুলো শনাক্ত করে। যা মেশিনকে সংকেত পাঠায় যে, প্যাকেটের ঠিক কোন স্থানটি কাটতে হবে, ভাজ করতে হবে কিংবা কোথায় সিল বসাতে হবে।

টিউবের গায়ের এই চিহ্নগুলো বিভিন্ন রংের হতে পারে। এসব শুধু সবুজ, নীল, লাল ও কালো রংের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্যাকেজিং বা ভিন্ন ভিন্ন সেন্সর ও মেশিনের সুবিধার জন্য আলাদা রং ব্যবহার করা হয়। অন্যাথায় সব রংের অর্থ বা কাজ একই। তবে পেস্টে ঠিক কী উপাদান রয়েছে তা জানতে পেস্টের বক্সে মুদ্রিত উপাদান তালিকা দেখুন।

  • টুথপেস্টের উপাদানসমূহ

হিউমেক্ট্যান্ট : টুথপেস্ট খোলার পর সেটি জমাট বাঁধা বা শক্ত হওয়া রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয় উপাদানটি। যেমন- গ্লিসারল ও সরবিটল।

সলিড অ্যাবেসিভ : খাবারের অবশিষ্টাংশ দূর করার জন্য এবং দাঁত চকচক করতে ব্যবহার করা হয় উপাদানটি। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও সিলিকা।

বাইন্ডিং মেটেরিয়াল বা থিকেনিং এজেন্ট : পেস্টের উপাদানগুলোকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং এসবকে আলাদা হওয়া রোধ করতে ব্যবহৃত হয় উপাদানটি। যেমন- কার্বক্সিমিথাইল সেলুলোজ, ক্যারেজেন্স ও জ্যান্থান গাম।

ফ্লেভারিং এজেন্ট : উপাদানটি মূলত স্বাদের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এটি থেকে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হয় না। যেমন- স্পিয়ারমিন্ট, পেপারমিন্ট, অ্যানিস বা মৌরি, বাবলগাম বা দারুচিনি।

ফ্লুরাইড : এটি হচ্ছে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান, যা দাঁতের এনামেল শক্ত করার জন্য এবং ক্যাভিটি রোধ করতে পরিচিত। তবে উপাদানটি পেস্টের উপাদান তালিকায় সোডিয়াম ফ্লুরাইড, সোডিয়াম মোনোফ্লুরোফসফেট বা সোডিয়াম স্ট্যানাস ফ্লুরাইড হিসেবে লেখা থাকতে পারে।

  • টুথপেস্টের প্রকারভেদ

হোয়াইটেনিং (দাঁত সাদা করার) : দাঁতের দাগ দূর করার জন্য এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে এতে কারবামাইড পেরোক্সাইড বা হাইড্রোজেন পেরোক্সাইড থাকে।

সেনসিটিভ দাঁতের জন্য : সেনসিটিভি দাঁতের টুথপেস্টে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্রনটিয়াম ক্লোরাইডের মতো সংবেদনশীলতা দূর করার উপাদান থাকে। কখনো গরম কফিতে চুমুক দেয়ার পর বা আইসক্রিম খাওয়ার সময় যদি দাঁতে তীব্র শিরশিরানি অনুভব হয়, তাহলে এ জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

প্লাক কনট্রোল বা টারটার : এটি হচ্ছে শক্ত হয়ে যাওয়া প্লাক। টারটার প্রতিরোধের জন্য তৈরি টুথপেস্টে জিংক সাইট্রেট বা ট্রাইক্লোসান উপাদান থাকতে পারে। এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ট্রাইক্লোসানযুক্ত পেস্ট অন্যান্য সাধারণ পেস্টের তুলনায় প্লাক, মাড়ির প্রদাহ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ও দাঁতের ক্ষয় দূর করতে কার্যকরী।

প্রাকৃতিক বা হারবাল : প্রাকৃতিক ও ভেষজ পেস্টগুলোয় ফ্লুরাইড ও সোডিয়াম লরিল সালফেট এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়। এতে বেকিং সোডা, অ্যালোভেরা, অ্যাক্সিভেটেড চারকোল, ইসেনশিয়াল অয়েল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ নির্যাস থাকতে পারে। কিন্তু এসবের স্বাস্থ্যগত দাবি বিষয়টি এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়।

সবশেষ, টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা রং বা কালার কোড কিছুই নির্দেশ করে না। পেস্ট কেনার সময় সেটির স্বাস্থ্যগত দিক গ্রহণযোগ্য কি-না তার সিল, মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য এবং পছন্দের ফ্লেভার দেখে কেনা উচিত।

যিনি নাটককে করেছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার

জীবনযাপন ডেস্ক
যিনি নাটককে করেছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে জর্জ বার্নার্ড শ এক অনন্য নাম। তিনি ছিলেন আইরিশ নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজচিন্তক। তার লেখা শুধু বিনোদন দেয়নি, সমাজকে নতুন করে ভাবতেও শিখিয়েছে। নাটককে তিনি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। 

রবিবার (২৬ জুলাই) এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের জন্মদিন। মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পরও তিনি বিশ্বজুড়ে সমান প্রাসঙ্গিক।

নাটককে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এই কিংবদন্তি সাহিত্যিক আজও বিশ্বজুড়ে সমান প্রাসঙ্গিক।

১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ বার্নার্ড শ। সংগ্রামময় শৈশব পার করে ১৮৭৬ সালে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানেই শুরু হয় তার সাহিত্যজীবনের নতুন অধ্যায়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী নাট্যকার, যার রচনা পাশ্চাত্য নাট্যসাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সমাজচিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।

জীবদ্দশায় তিনি ৬০টিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক ‘পিগম্যালিয়ন’ , যা পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ‘মাই ফেয়ার লেডি’-এর অনুপ্রেরণা হয়। এ ছাড়া ‘ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান’, ‘মেজর বারবারা’, ‘সেন্ট জোয়ান’, ‘আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান’ এবং ‘ক্যান্ডিডা’-সহ তার অসংখ্য নাটক আজও বিশ্বজুড়ে মঞ্চস্থ হয়।

জর্জ বার্নার্ড শের নাটকের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধকে প্রশ্ন করার সাহস। শ্রেণিবৈষম্য, সামাজিক অবিচার, নারী-পুরুষের সমতা, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের মতো বিষয় তার লেখায় বারবার উঠে এসেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি হতে পারে সাহিত্য ও নাটক। তাই তার নাটক শুধু মঞ্চের গল্প নয়, ছিল সমাজ বদলের এক শক্তিশালী ভাষা।

তিনি শুধু একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, ছিলেন একজন সমাজতন্ত্রী এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদও। তিনি অহিংস উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করা ফ্যাবিয়ান সোসাইটি-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবেও তিনি পরিচিত।

তার অসামান্য সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৫ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তবে নোবেল পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। পরে ‘পিগম্যালিয়ন’-এর চলচ্চিত্র রূপের চিত্রনাট্যের জন্য তিনি অস্কার অর্জন করেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি একই সঙ্গে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ও অস্কার লাভের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

১৯৫০ সালের ২ নভেম্বর, ৯৪ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। গাছ ছাঁটাই করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর সৃষ্ট জটিলতায় কিডনি বিকল হয়ে তিনি মারা যান।

জর্জ বার্নার্ড শের একটি বহুল উদ্ধৃত উক্তি—‘Life isn't about finding yourself. Life is about creating yourself.’ অর্থাৎ জীবন নিজেকে খুঁজে পাওয়ার নয়, নিজেকে গড়ে তোলার নাম।

জন্মদিনে এই কিংবদন্তি নাট্যকারকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো এটাই—তিনি নাটককে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের চিন্তা, বিবেক ও সমাজ বদলের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আর সে কারণেই মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পরও জর্জ বার্নার্ড শ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রাসঙ্গিক নাম।