আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলো গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে বরখাস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। শুক্রবার আইসিসি এ তথ্য জানায়।
রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, গত মাসে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী ব্যুরোর কূটনীতিকরা অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান আদালতের এক জুনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে অনুচিত যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়। পরে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি দেশ সেই সুপারিশের পক্ষে ভোট দেয়।
আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পাইভি কাউকোরান্টা বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে করিম খান গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাই তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে ৫৬ বছর বয়সী করিম খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী তাইয়্যাব আলী বলেন, এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা চ্যালেঞ্জ করতে করিম খান আইনে থাকা সব ধরনের সুযোগ ব্যবহার করবেন।
করিম খানকে অপসারণের ফলে আইসিসির নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী বছরের আগে নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের অধ্যাপক লায়লা সাদাত বলেন, আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংকটে থাকা একজন কর্মকর্তাকে সরিয়েছে, যাতে আইসিসি তার গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
এদিকে করিম খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আবারও আইসিসির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আইসিসি তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ফিলিপাইন সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক কর্মকর্তার বিচার এই আদালতে হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট করিম খানের অপসারণকে স্বাগত জানালেও বলেন, এতে আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাবে না। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে তদন্তের জেরে যুক্তরাষ্ট্র করিম খানসহ আইসিসির ১১ জন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাইরা উইগার্ড বলেন, করিম খানকে অপসারণের মাধ্যমে আইসিসি দেখিয়েছে, তারা নিজেদের কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। তবে আদালতের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেও আইসিসি তার স্বাধীনতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না। এদিকে করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা নারী গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সিএনএনকে প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দিয়ে আবারও দাবি করেন, করিম খান তার সঙ্গে সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
অন্যদিকে, করিম খানের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি ওই জুনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক ছিল, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তবে করিম খানকে বরখাস্ত করা হলেও তার সময়ে আইসিসি যেসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, সেগুলো বহাল থাকবে। কারণ, এসব পরোয়ানা বাতিল বা প্রত্যাহারের ক্ষমতা শুধু আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।







