দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ‘অভিবাসন ব্যবস্থাপনা’ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মালাউই, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিক। অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনার পর নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় অভিযান পরিচালনা করছে।
বিক্ষোভকারীরা কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গণ নির্বাসনের দাবি করে আসছে এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে উচ্চ বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর পতনের জন্য দায়ী করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো এমন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা নথিপত্রহীন সব অভিবাসীর দেশ ছাড়ার জন্য ৩০ জুনকে অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। এর পর সহিংসতা ও ভীতি এড়াতে অনেক বিদেশি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এদিকে, ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়াসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিমানযোগে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিককে নির্বাসন বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মালাউইয়ের নাগরিক। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিকরাও রয়েছেন।
রবিবার প্রিটোরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুবাইয়ি বলেন, সরকার এমন একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা একদিকে জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে, অন্যদিকে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরো জানান, এই অভিযান পরিচালনার সময় এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে পুলিশ আগে থেকেই খোঁজ করছিল।
তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিক্ষোভকারীরা যেনো এমন কোনো বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত তল্লাশি না চালায়, যেখানে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার সন্দেহ রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসন নিয়ে জনগণের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন, তবে অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ এবং দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের আকর্ষণ করে আসছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করে।




