• ই-পেপার

ইরান সংঘাতে মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু বেড়ে ১৪, আহত চার শতাধিক

গাজায় ত্রাণ বিতরণে বাধা দিচ্ছে হামাস, অভিযোগ জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ত্রাণ বিতরণে বাধা দিচ্ছে হামাস, অভিযোগ জাতিসংঘের
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। এতে চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-বিশেষ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ এই অভিযোগ তোলেন।

রামিজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শনিবার (১১ জুলাই) উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রবেশ করে। একই সাথে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি গুদামে ঢুকে দুইজন ট্রাক চালককে মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর মানবিক সংস্থাকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। এগুলো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। মানবিক কর্মীদের ওপর সহিংসতা, চোরাচালানের চেষ্টা ও সহায়তার অপব্যবহারের মতো ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে চরম সংকটে থাকা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

হামাস জানায়, ওই ত্রাণসামগ্রীর ভেতরে লুকিয়ে রাখা চোরাচালানের সিগারেট ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ সেখানে একটি বিশেষ আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালাচ্ছিল।

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে গাজা উপত্যকা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলার কারণে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ও সমস্ত প্রবেশপথ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে।

৫৩ হাজারের বেশি বিদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

অনলাইন ডেস্ক
৫৩ হাজারের বেশি বিদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ‘অভিবাসন ব্যবস্থাপনা’ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মালাউই, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিক। অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনার পর নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় অভিযান পরিচালনা করছে।

বিক্ষোভকারীরা কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গণ নির্বাসনের দাবি করে আসছে এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে উচ্চ বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর পতনের জন্য দায়ী করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য অভিবাসীদের দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো এমন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা নথিপত্রহীন সব অভিবাসীর দেশ ছাড়ার জন্য ৩০ জুনকে অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। এর পর সহিংসতা ও ভীতি এড়াতে অনেক বিদেশি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এদিকে, ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়াসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিমানযোগে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিককে নির্বাসন বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মালাউইয়ের নাগরিক। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিকরাও রয়েছেন।

রবিবার প্রিটোরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুবাইয়ি বলেন, সরকার এমন একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা একদিকে জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে, অন্যদিকে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরো জানান, এই অভিযান পরিচালনার সময় এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে পুলিশ আগে থেকেই খোঁজ করছিল।

তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিক্ষোভকারীরা যেনো এমন কোনো বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত তল্লাশি না চালায়, যেখানে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার সন্দেহ রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসন নিয়ে জনগণের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন, তবে অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ এবং দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের আকর্ষণ করে আসছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করে।

নিজেদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষুব্ধ নেপালের জেন-জি প্রজন্ম?

অনলাইন ডেস্ক
নিজেদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষুব্ধ নেপালের জেন-জি প্রজন্ম?
ছবি : রয়টার্স

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে এক রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র গণ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে মোটরসাইকেলের চাকা লক করে দেওয়ার পর ক্ষোভে ও অভিমানে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন ওই তরুণ চালক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নেপালের ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্ম।

নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কাঠমান্ডুর একটি সড়কে গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই তরুণ রাইড-শেয়ারিং চালক। আকস্মিকভাবে স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল (পৌর) পুলিশ এসে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের এই অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদে এবং জীবিকা হারানোর চরম হতাশায় তরুণ চালক নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন শুক্রবার (১০ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর সরকারি দপ্তর ‘সিংদরবার সচিবালয়’-এর বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন’ ও ‘মানবাধিকারকে সম্মান করুন’-এর মতো স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সাধারণ মানুষ এই ঘটনাকে বালেন শাহ সরকারের ‘দরিদ্র-বিরোধী ও আগ্রাসী’ নীতিমালার ফসল হিসেবে দেখছেন। বালেন্দ্র শাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ফুটপাত পরিষ্কার, হকার উচ্ছেদ ও নদীর ধারের অবৈধ বসতি ভাঙার নামে দরিদ্র ও ভূমিহীনদের ওপর পুলিশের নিষ্ঠুর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনজীবী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠমান্ডুর পৌর পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাঁই বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশকে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের কাজ বুঝিয়ে ও সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা। যানজট বা আইন ভঙ্গের সমস্যা হলে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। তা না করে তারা হকারদের ধাওয়া করছে ও নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, এই বাহিনীর কাজ মূলত সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি ও উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। লাঠিচার্জ বা কাউকে আটক করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণচন্দ্র যোশী জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হলে পৌর পুলিশ ‘নেপাল পুলিশ’-কে ডাকতে বাধ্য, তারা নিজেরা কোনো অ্যাকশনে যেতে পারে না।

আইনি সীমাবদ্ধতা ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দিনমজুর ও প্রান্তিক মানুষের ওপর পুলিশের এমন বেপরোয়া আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বালেন্দ্র শাহ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

হরমুজে আমিরাতের ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে আমিরাতের ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুইটি তেল ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরো আটজন আহত হয়েছেন। ওমান জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর  নাম ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’। সোমবার (১৩ জুলাই) আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ দুইটি ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। নিহত ভারতীয় নাগরিক ‘মোম্বাসা’ জাহাজের ক্রু ছিলেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুটি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে নাবিকদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত যেকোনো হুমকি মোকাবেলা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কালহাত থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অপর একটি অজ্ঞাত ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে কোনো দূরপাল্লার বস্তু। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি আমিরাতের ওপর হওয়া হামলারই অংশ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার পরই এই হামলাগুলো চালানো হলো। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় এবং মার্কিন বাহিনী টানা তিন রাত ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান  জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা তেহরান মেনে নেবে না।