• ই-পেপার

সেনেগালে পার্লামেন্টে হাতাহাতিতে জড়ালেন সংসদ সদস্যরা

অগ্নিকুণ্ডে মসজিদের প্রতিরূপ স্থাপনে গ্রেপ্তার ১, নিন্দায় মুখর উত্তর আয়ারল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
অগ্নিকুণ্ডে মসজিদের প্রতিরূপ স্থাপনে গ্রেপ্তার ১, নিন্দায় মুখর উত্তর আয়ারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি ব্রিটিশপন্থী শহরে বড় একটি অগ্নিকুণ্ডের ওপর মসজিদের আদলে তৈরি একটি প্রতিরূপ বসানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার, স্থানীয় রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন নেতা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন উপকরণ প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা হুমকিমূলক, অপমানজনক বা বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রতি বছর ১২ জুলাইয়ের স্মরণ অনুষ্ঠানের আগের রাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধানত প্রোটেস্ট্যান্ট ও ব্রিটিশপন্থী এলাকাগুলোতে বড় বড় অগ্নিকুণ্ডে আগুন জ্বালানো হয়। ১৬৯০ সালে বয়েনের যুদ্ধে রোমান ক্যাথলিক রাজা জেমসকে পরাজিত করেছিলেন উইলিয়াম অব অরেঞ্জ। সেই বিজয়ের স্মরণে বহু বছর ধরে এই আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবার কাঠের প্যালেট দিয়ে তৈরি একটি উঁচু অগ্নিকুণ্ডের ওপরে মসজিদের আদলে একটি প্রতিরূপ বসানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার এক মাসের মাথায়। অগ্নিকুণ্ডের নিচে দুটি ব্যানার টাঙানো ছিল। একটিতে লেখা ছিল, 'আমাদের সীমান্ত নিরাপদ করুন।' অন্যটিতে লেখা ছিল, 'উগ্র ইসলামবাদের হুমকি বন্ধ করুন।'

ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী হিলারি বেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, এটি কোনো ঐতিহ্যের অংশ নয় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষের মতামত বা মূল্যবোধেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। তিনি সবাইকে এমন ঘৃণামূলক আচরণের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে তিনি 'ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত ভয় দেখানোর চেষ্টা' বলে মন্তব্য করেন। আইরিশ জাতীয়তাবাদী দল সিন ফেইনের প্রতিনিধি কলম গিল্ডারনিউ ঘটনাটিকে স্পষ্ট ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুলিশকে দ্রুত ওই প্রতিরূপটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ব্রিটিশপন্থী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মসজিদের প্রতিরূপটির একটি জানালায় একজন মানুষের কুশপুত্তলিকাও রাখা হয়েছিল। তার হাতে ছুরির মতো দেখতে একটি বস্তু ছিল। এ বিষয়টিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বিতর্ক বেড়েছে। আগে এসব অগ্নিকুণ্ডে ক্যাথলিক আইরিশ রাজনীতিকদের ছবি, কুশপুত্তলিকা বা ক্যাথলিকবিরোধী স্লোগান দেখা যেত। তবে এখন কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর পরিবর্তে অভিবাসীবিরোধী ছবি, প্রতীক ও বার্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।\

গত বছর বেলফাস্ট থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ময়গাশেলের একই স্থানে একটি নৌকায় থাকা শরণার্থীদের প্রতিরূপ তৈরি করে তাতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনাটিও অভিবাসীদের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর ঘটেছিল এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এদিকে গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা দেখা যায়, যেখানে একজন ব্যক্তি একটি চোখ হারান। এরপর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গাকারীরা জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, সুদান বা চাদ থেকে আসা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসন, ধর্মীয় বিভাজন এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
 
 

কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০
ছবি : রয়টার্স

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেশটিতে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কঙ্গো সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের মূল কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশের বাইরে এবার নতুন করে তশোপো ও ওত-উয়েলে প্রদেশেও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তশোপো প্রদেশের কিসাঙ্গানিতে দুইটি নতুন সংক্রমণের ঘটনা সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ওত-উয়েলে প্রদেশে ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি। কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে মোট নিশ্চিত ইবোলা সংক্রমণের সংখ্যা ১,৭৫৯ জনে পৌঁছেছে।

তশোপো প্রদেশে শনাক্ত হওয়া দুই সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে একজন ইতুরি প্রদেশের নিয়া-নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে প্রথম এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলো সামনে এসেছিল। তবে অন্য রোগীর ক্ষেত্রে পূর্বের কোনো প্রাদুর্ভাব বা আক্রান্ত এলাকার সাথে স্পষ্ট কোনো ভৌগোলিক সংযোগ পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবটি মহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের নজরদারির আড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর, গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার নতুন করে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণটি বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ভাইরাসের কারণে ঘটেছে, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও প্রতিষেধক খোঁজার আশায় গবেষকদের বহু প্রতীক্ষিত একটি গবেষণার পর গত সপ্তাহ থেকে এর চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) শুরু হয়েছে।

তবে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে তহবিলের তীব্র ঘাটতি, অন্যদিকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতময় এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পুরোপুরি কাজ করতে পারছেন না।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর পর বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এর ফলে মাত্র তিন সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বুশেহর, কোনারাক, চোগাদাক ও বন্দর আব্বাসে। বুশেহরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো নতুন হামলা চালায়নি।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দেশটির পবিত্র শহর মাশহাদের একটি ধর্মীয় স্থানে দাফন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলা শোকযাত্রা ও বিভিন্ন সমাবেশ শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধে হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সপ্তাহের শুরুতে কাতার ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দেয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে যুদ্ধ থামাতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকান দলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খামেনির শেষযাত্রা মাশহাদের পবিত্র ধর্মীয় স্থানে পৌঁছালে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। অনেকের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান লেখা ব্যানার দেখা যায়। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের কারণে প্রণালিটির স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা যুদ্ধের আগের সময়ের প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। তেহরানের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করা জাহাজগুলোকে শুধু চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিপ্লবী গার্ড আরো সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তার জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণকারী প্রতিক্রিয়া’। 

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরানের বাহিনী ওই এলাকায় তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছিল। মার্কিন বাহিনী জানায়, মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৩৮ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় দাম বেড়ে গেলেও বৃহস্পতিবার তা কিছুটা কমে আসে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার তাদের বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং ড্রোন ঘাঁটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘এটি গতকাল ইরানের জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ। আবার এমন হলে পরিস্থিতি আরো অনেক খারাপ হবে।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আট ও নয় জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। ফার্স বার্তা সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি হামলায় এমন একটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ব্যবহৃত হতো। বুশেহরের রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগেও গত আট এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে ওই এলাকায় একাধিক হামলা হয়েছিল।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হয়েছেন। ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর জর্ডানেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করে, তারা জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে বলে তাদের দাবি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কাতারে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও আলাদা ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা সবাই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধ উসকে দেওয়ার নীতি’র সমালোচনা করেছেন। 

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান কার্যত প্রণালিটির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি আবার চালু হবে শুধু ইরানের ব্যবস্থাপনায়, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মাধ্যমে নয়।’
 

তাইওয়ান সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌযান শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
তাইওয়ান সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌযান শনাক্ত
ছবি : রয়টার্স

তাইওয়ান সীমান্তে বেইজিংয়ের সামরিক চাপ আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমএনডি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের চারপাশে চীনের ২টি সামরিক বিমান, ৫টি নৌযান ও ৩টি সরকারি জাহাজের গতিবিধি রেকর্ড করা হয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) এই কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে তাইওয়ান তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ ও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে।

তাইওয়ান মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসেই বেইজিংয়ের উসকানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ মোট ৯১ বার চীনা সামরিক বিমান এবং ১১০ বার যুদ্ধজাহাজের অনুপ্রবেশ ট্র্যাক করেছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশেষ বার্তা দেয় চীন। বেইজিং আশা প্রকাশ করে যে, ওয়াশিংটন তাইওয়ান-সম্পর্কিত সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সতর্কতার সাথে সামলাবে; কারণ এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

এদিকে, ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহুং জানিয়েছেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক দ্বিপাক্ষিক কথোপকথনে অংশ নেন। সেখানে ওয়াং ই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যকার বিদ্যমান বিঘ্ন দূর করা, দ্বিপাক্ষিক বাধাগুলো অতিক্রম করা এবং সঠিক পথে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তাইওয়ানের ওপর চীনের মালিকানার দাবিটি দীর্ঘদিনের একটি জটিল রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিষয়। বেইজিং মনে করে তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৬৮৩ সালে চিং রাজবংশ কর্তৃক এই দ্বীপটি দখলের ইতিহাস টেনে চীন আন্তর্জাতিকভাবে এই দাবি করে থাকে। অন্যদিকে, তাইওয়ান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব সরকার, সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতি পরিচালনা করে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনে তাইওয়ানের এই সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বিতর্ক চলছে।

সেনেগালে পার্লামেন্টে হাতাহাতিতে জড়ালেন সংসদ সদস্যরা | কালের কণ্ঠ