• ই-পেপার

নূপুর শর্মাকে তলব করল মুম্বাই পুলিশ

ভারতে জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, ৩৫ বছর বয়সী রাজকুমার প্রথমে নিজের স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং তাদের ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন। 

এরপর তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও হত্যা করেন। ওই কিশোরী এর আগে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজকুমার কিশোরীকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। পরে রাজকুমার ওই কিশোরীর মা ও নানিকেও হত্যা করেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীর ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বোন অক্ষত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

সবাইকে হত্যার পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানায়। সিনিয়র পুলিশ অফিসার তরুণ জোশী বলেন, ‘তিনি তার বাবাকে বলেছিল, ‘আমি এটা করেছি। আমি  সবাইকে হত্যা করেছি।’ এরপর তিনি তার ফোন বন্ধ করে দেয়। রাজকুমার আরো বলেছিল, তিনি আত্মহত্যা করবে, কিন্তু তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

তরুণ জোশী আরো বলেন, ‘অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং আমরা সূত্র পেয়েছি। তাকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।’

২০১৮ সালের প্রেম বিবাহ

রাজকুমার ও পার্বতী ২০১৮ সালে প্রেম করে বিয়ে করেন। এই দম্পতি প্রথমে গ্রামের বাইরে থাকতেন এবং পরে শাবাদ ও দেবালাগুড়ায় নিজেদের কেনা বাড়িতে স্থায়ী হন। তাদের তিনটি সন্তান ছিল। তাদের প্রথম সন্তান একটি কন্যা। সেই সন্তান শৈশবেই মারা যায়।

চলতি বছরের মে মাসে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয় এবং রাজকুমার গ্রেপ্তার হন। জোশী বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে তার কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করছিল এবং তার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল।’ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে ২০ হাজার রুপির বিনিময়ে ব্যক্তিগত মুচলেকায় আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল রাজকুমারকে। 

একজন কর্মকর্তা জানান, রাজকুমারের দীর্ঘদিনের আচরণগত সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে দুই-তিনবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এ ছাড়া তার জুয়া খেলার অভ্যাস ছিল এবং তিনি আগে থেকেই ঋণের বোঝায় ছিলেন।’ পুলিশ এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে।

‘ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুদের হত্যা’

ঘটনার পর  তার আত্মীয়রা জানান, দুই শিশুকে সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। যে ঘরে পার্বতীর মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের দাবি, বাড়ির দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও কুলার চালু অবস্থায় ছিল।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝগড়ার কথা তারা জানতেন না। আগের সন্ধ্যাতেও পার্বতী স্বাভাবিকভাবে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছেন।
 

খাঁচায় বন্দি বানরের অনন্য মাতৃত্ব, আগলে রাখল পাখির ছানাকে

অনলাইন ডেস্ক
খাঁচায় বন্দি বানরের অনন্য মাতৃত্ব, আগলে রাখল পাখির ছানাকে

চিড়িয়াখানার খাঁচার ভেতরে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিল একটি ছোট রবিন পাখির ছানা। খাঁচায় থাকা বিশাল আকৃতির বানরটি ছানাটির কোনো ক্ষতি তো করেইনি, উল্টো পরম মমতায় তাকে আগলে রেখেছে নিজের সন্তানের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর ‘এবিকিউ বায়োপার্ক’ চিড়িয়াখানায় ঘটে যাওয়া এমন এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে ওড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একটি আমেরিকান রবিন পাখির ছানা ভুল করে ‘ইভ’ নামের এক নারী সিয়ামাং বানরের খাঁচায় ঢুকে পড়ে। চিড়িয়াখানার প্রাইমেট কেয়ার টিমের সদস্য মেগান অ্যাজেনা জানান, সাধারণত ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যায় না। তিনি প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন যে ইভ হয়তো পাখিটির ক্ষতি করবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইভ ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নেয়।

ইভ নিজেও এক সন্তানের মা হওয়ায় পাখিটিকে দেখেই তার ভেতরের মাতৃত্ব জেগে ওঠে। সে ছানাটির গা পরিষ্কার করে দেয় এবং আদর করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি নিজের সন্তানের মতো তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোরও চেষ্টা করে সে। খাঁচায় থাকা অন্য দুইটি সিয়ামাং বানর যাতে পাখিটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য ইভ ছানাটিকে নিয়ে তার ঘরের একদম ভেতরে চলে যায়।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা পাখিটিকে উদ্ধার করার জন্য সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরদিন সকালে ইভ যখন সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য পাখিটিকে আলতো করে একপাশে নামিয়ে রেখে বাইরে আসে, ঠিক তখনই রক্ষীরা ছানাটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা যায়, রবিন ছানাটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছে। পরে সেটিকে চিড়িয়াখানার বাইরে তার আসল পাখির মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিয়ামাং হলো গিবন প্রজাতির সবচেয়ে বড় বানর, যারা মূলত পরিবার বা দলবদ্ধভাবে বাস করে। ইভও এই চিড়িয়াখানায় তার সঙ্গী ‘ওয়ায়ান’ ও কন্যাসন্তান ‘রাহসিয়া’র সাথে থাকে। কেয়ারটেকার মেগান অ্যাজেনা বলেন, ‘ইভ কেন এমন আচরণ করেছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমাদের চিড়িয়াখানার সিয়ামাংদের মধ্যে ইভ সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের। তাকে এভাবে একটি ছোট্ট পাখির ছানার যত্ন নিতে দেখাটা সত্যিই এক অসাধারণ ও চোখ জুড়ানো অভিজ্ঞতা।’

কেরালায় এনেস্থেশিয়া দেওয়ার পর ১৮ মাসের শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
কেরালায় এনেস্থেশিয়া দেওয়ার পর ১৮ মাসের শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কেরালা রাজ্যের কান্নুরে এনেস্থেশিয়া (অজ্ঞান করার ওষুধ) দেওয়ার পর ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

নিহত শিশুটির নাম দেবাংশ শৌর্য। সে টি সুরাজ ও বিজিশা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তাদের বাড়ি কান্নুরের এরামাম-কুট্টুর এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত পাঁচ জুলাই বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে পড়ে যায় দেবাংশ। এতে তার ঠোঁট কেটে যায়। এরপর তাকে প্রথমে মাথামঙ্গলমের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পায়্যান্নুরের বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে এনেস্থেশিয়া দিয়ে ঠোঁটের ক্ষতস্থানে সেলাই করেন। পরিবারের অভিযোগ, ওষুধ দেওয়ার পরই শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে এবং আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কান্নুরের বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শুক্রবার রাত প্রায় নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর শিশুটির পরিবার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলে। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসক অঞ্জলি পোদুভালের গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চিকিৎসক অঞ্জলি পোদুভালের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৫ ধারায় মামলা করেছে। এই ধারায় এমন কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। 

এদিকে বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোঝিকোড়, কান্নুর, থোডুপুঝা, পায়্যান্নুর ও ভাদাকারায় শাখা থাকা হাসপাতালটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এনেস্থেশিয়া দেওয়ার পরপরই শিশুটির হঠাৎ হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালের দাবি, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে ভেন্টিলেটর সহায়তা দেওয়া হয়। পরে আরও উন্নত সংকটাপন্ন চিকিৎসার জন্য তাকে কান্নুরের শাখা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল আরো জানায়, সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ এবং চিকিৎসার সব স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করা হলেও এনেস্থেশিয়ার কারণে বিরল ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিশুটির জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।


 

পূর্ব এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন বাভি, ফিলিপাইনে নিহত ১৫

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন বাভি, ফিলিপাইনে নিহত ১৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

শক্তিশালী টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে দক্ষিণ ফিলিপাইনে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আসন্ন ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

টাইফুন বাভি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়টি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় ও শক্তিশালী ঝড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং জাপানের কয়েকটি দ্বীপে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাবে। ঝড়ের আশঙ্কায় অঞ্চলজুড়ে কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অনেক স্কুলে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করায় অনেক সুপারমার্কেটের তাক খালি হয়ে গেছে।

ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে কয়েকটি পরিবার মাটিচাপা পড়েছে। উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, টাইফুন বাভির প্রভাবে কিছু এলাকায় ১ মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সৈন্যকে প্রস্তুত রেখেছে। ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে তারা সহায়তা করবে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, আয়তনের দিক থেকে টাইফুন বাভি ১৯৮৭ সালের পর দ্বীপটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড় হতে পারে। শুক্রবার আবহাওয়া তুলনামূলক শান্ত থাকায় কৃষকেরা দ্রুত ফসল কাটা ও সুরক্ষার কাজে নেমে পড়েন। একই সময়ে জেলেরা তাদের নৌকাগুলো নিরাপদে বেঁধে রাখেন।

৬০ বছর বয়সী জেলে চেন মিং-হুই বলেন, ‘এখন আবহাওয়া শান্ত মনে হলেও বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। এ ধরনের ঝড়ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে।’ সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাজার হাজার বালির বস্তা বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে চীনও সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানার পর টাইফুনটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মা জুন বলেন, বাভির বিশাল আকার ও শক্তির কারণে এর বৃষ্টিবলয় জিয়াংসু ও আনহুই প্রদেশ পেরিয়ে বোহাই সাগর এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলোর টাইফুন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা কম। তাই তাদের প্রস্তুতি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। আবহাওয়াবিদদের কিছু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাইফুন বাভি চীনের উপকূলে দুই দফা আঘাত হানতে পারে।

জাপানের প্রত্যন্ত সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জেও টাইফুন বাভিকে ঘিরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়ি ও দোকানের জানালায় টেপ লাগাচ্ছেন এবং ঝড়ের ক্ষতি কমাতে সুরক্ষাব্যবস্থা নিচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছে।

জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, এতে প্রায় ২০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) রবিবার পর্যন্ত ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে আরো প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া থাই এয়ারওয়েজ ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স তাইপে থেকে এবং তাইপেগামী বেশ কিছু ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

এদিকে দক্ষিণ চীনের কিছু এলাকায় এখনও চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা টাইফুন মেসাকের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব রয়ে গেছে। ঝড়টিতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেসাকের কারণে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই গুয়াংজি অঞ্চলের বাসিন্দা। টাইফুন মায়সাক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

ঝড়ে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু মারা গেছে এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ঝড়টির প্রভাবে মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডো সৃষ্টি হয়, যা অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
 

নূপুর শর্মাকে তলব করল মুম্বাই পুলিশ | কালের কণ্ঠ